রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ভারতে তিন দিনের সফরে চলেছেন. সূচীতে রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলের সঙ্গে আলোচনা ও সাক্ষাত্কার, প্রধানমন্ত্রী ও এমনকি বিরোধী পক্ষের নেতার সঙ্গেও সাক্ষাত্কার. এছাড়া রাশিয়ার দেশ নেতা আগ্রা শহরে একাধারে কবর স্থান ও মসজিদ "তাজ মহল" দেখবেন, মুম্বাই শহরে তাঁর কথা রয়েছে সেখানকার ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করার ও ভারতের বিখ্যাত সিনেমা স্টুডিও এলাকা "বলিউড" যাওয়ার.

রাষ্ট্রপতি হিসাবে দিমিত্রি মেদভেদেভের এটি দ্বিতীয় ভারত সফর, তিনি ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারত সফরে গিয়েছিলেন, মুম্বাই সন্ত্রাস কাণ্ডের মাত্র কয়েকদিন পরেই. তখন কথা হয়েছিল এমনকি সফর বাতিল করার. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি এসেছিলেন, ভারতীয়দের সমর্থন করেছিলেন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কে সক্রিয় করতে আহ্বান করেছিলেন. বর্তমানের সফর হচ্ছে দিল্লীতে রুশ – ভারত স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা ঘোষণা করার দশম বর্ষ পূর্তির সময়েই. এই সময়ের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক এক সম্পূর্ণ নূতন স্তরে উন্নীত হয়েছে, এই কথা বলেছেন ভারতস্থ রুশ রাজদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন, তিনি যোগ করেছেন:

 "প্রত্যেক দেশের সঙ্গেই তো আর আমরা একেবারে সর্বাধুনিক অত্যন্ত মূল্যবান প্রযুক্তি যেমন পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার প্লেনের প্রাথমিক খসড়াতে যা রয়েছে, সেই সব অথবা গ্লোনাসস উপগ্রহ দিক নির্ণয় ব্যবস্থা, যেখানে আমরা ভারতকেও সঙ্গে যোগ করে নিতে পারি, এমন সব ভাগ করে নিই না. ভারতেই যৌথ প্রকল্পের কারখানাতে আমরা গ্লোনাসস ব্যবস্থার গ্রাহক যন্ত্র তৈরী করব, যা সমস্ত গাড়ীতেই লাগানো সম্ভব হবে".

অর্থনৈতিক বাণিজ্য সম্পর্কের কথা বলতে হলে উল্লেখ করব যে, গত দশ বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান বেড়ে হয়েছে ছয় গুণ. প্রসঙ্গতঃ এখানে মূল বাণিজ্য আর কাঁচামাল নিয়ে হচ্ছে না, বরং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিষয়ে হচ্ছে. রাশিয়া থেকে রপ্তানী করা হচ্ছে – প্রাথমিক ভাবে, উচ্চ প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জাম, উপগ্রহ, পারমানবিক কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি.

রুশ ভারত শীর্ষ বৈঠকের ক্ষেত্রে জ্বালানী শক্তি বিষয়ে সহযোগিতা হবে প্রধান বিষয়. ভারতীয় খনিজ তেল ও গ্যাস কর্পোরেশন "সাখালিন – ১" উত্পাদন ক্ষেত্রে নিষ্কাশনের প্রকল্পে সক্রিয় অংশ নিচ্ছে. রাশিয়া থেকে যাওয়া পারমানবিক শক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা ভারতে পারমানবিক প্রকল্প নির্মাণের জন্য অনেক গুলি প্রস্তাব তৈরী করেছেন. এখানে রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতা করছে. তারা ভারতের সঙ্গে কিছুদিন আগে এই মর্মে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. কিন্তু রাশিয়ার এই বিষয়ে রয়েছে অনেক বাড়তি সুযোগ. যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স ভারতের সঙ্গে কাগজে কলমে চুক্তি করছে, তখন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা ভারতের দক্ষিণে "কুদানকুলামে" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বানাচ্ছে. প্রথম রিয়্যাক্টর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চালু করা হবে, দ্বিতীয় রিয়্যাক্টর তৈরী হয়ে এল বলে. আর এটা শুধুই শুরু: রাশিয়াতে এর মধ্যেই ভারতে অনেক গুলি রিয়্যাক্টর তৈরী করার পরিকল্পনা রয়েছে, এই বিষয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ভারত অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান তাতিয়ানা শাউমিয়ান বলেছেন:

"আমাদের অনেক ভাল প্রকল্প রয়েছে, আর ভারতের দক্ষিণে কুদানকুলাম প্রকল্পের জন্য আমরা আগেও বানিয়েছি ও আরও অনেক রিয়্যাক্টর বানাবো. আর এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়. কারণ ভারতের জন্য, যে কোন দ্রুত উন্নতিশীল দেশের মতই, জ্বালানী শক্তি বিষয়ে চাহিদা বাড়তেই থাকবে".

সন্দেহ নেই যে, রাশিয়ার জন্য ভারতের প্রযুক্তি এলাকা নির্মাণের অভিজ্ঞতা খুবই আগ্রহজনক ও প্রয়োজনীয়. "ভারতীয় সিলিকন ভ্যালি" বলা হয়ে থাকে দক্ষিণের শহর বাঙ্গালোর কে – যা বিশ্বের একটি অন্যতম নেতৃত্ব দান কারী প্রযুক্তি কেন্দ্র. মুম্বাই শহরে ভারতীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছে মেদভেদেভ রুশ উদ্ভাবনী কেন্দ্র "স্কোলকোভো" সম্বন্ধে বলবেন. এখানে পাঁচটি প্রাথমিক বিষয়ে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির উন্নতি করার কথা হয়েছে: জ্বালানী সাশ্রয়, চিকিত্সা বিজ্ঞান, মহাকাশ গবেষণা, পারমানবিক ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণা. ভারতের বহু কোম্পানী রুশ উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন.

রাশিয়া ও ভারত বিশ্বের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে চলেছে. আমাদের দেশই প্রথম, যারা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসাবে ভারতের এই পরিষদে প্রবেশকে স্বাগত জানিয়েছে. রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতা ব্রিক সংস্থা, "বড় কুড়ি" দেশের সংস্থা ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাঠামোর মধ্যে করা হচ্ছে, ভারত বর্তমানে সাংহাই সহযোগিতা পরিষদের পর্যবেক্ষক দেশ হয়েই রয়েছে. আফগানিস্থানের পরিস্থিতি সম্বন্ধেও দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে খুবই মিল রয়েছে. ভারত ও রাশিয়া দুই দেশই আফগানিস্থানের চারপাশে সন্ত্রাসবাদীদের কাজকর্ম ও মাদক পাচার বন্ধ করার জন্য বন্ধ এলাকা বা নিরাপত্তা বলয় তৈরী করতে চায়, যাতে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব হয়.

এই সফরের সময়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে অনেক গুচ্ছ চুক্তি স্বাক্ষর করার. দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে গিয়েছেন রাশিয়ার বিশাল এর প্রতিনিধি দল, যেখানে মন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও ব্যাঙ্কের নেতারাও রয়েছেন.