উচ্চ প্রকৌশল, বিদ্যুত্শক্তি ও মহাকাশের আত্তীকরণ. দমিত্রি মেদভেদেভের কথায় এ সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রতি  মস্কো ও নয়া-দিল্লির মনোযোগ আজ বিশেষ করে নিবদ্ধ. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি নিজের ভারত সফরের প্রাক্কালে ভারতের “টাইমস অফ ইন্ডিয়া” পত্রিকাকে ইন্টারভিউ দিয়েছেন.

   অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ ফলপ্রসূভাবে বিকশিত হয় শুধু স্থিতিশীল পরিবেশেই. সেইজন্য রাশিয়া ও ভারত আজ সর্বপ্রথমে উদ্বিগ্ন ইউরেশীয় মহাদেশের দক্ষিণ-পুবে নিরাপত্তা নিয়ে. এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার প্রধান উত্স- আফগানিস্তান, প্রধান বিপদ- সন্ত্রাসবাদ ও নার্কোটিকের চোরাচালান. আর এ বিপদ প্রতিরোধ করার জন্য হাতিয়ার মস্কো ও নয়া-দিল্লির আছে, সাংবাদিকদের মনে করিয়ে দেন দমিত্রি মেদভেদেভঃ

   “আফগানিস্তানে সমস্যার মীমাংসা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা সংক্রান্ত রুশ-ভারত ওয়ার্কিং গ্রুপের, দু দেশের নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গতিসাধন গ্রুপের কর্মসূচিতে প্রাধান্য মূলক স্থান অধিকার করে. আফগানিস্তান সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য বিনিময় হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদ, নার্কোটিকের চোরাচালান এবং কালো অর্থ বিধিবদ্ধ করার বিপদের বিরোধিতা করার প্রশ্ন আলোচিত হচ্ছে. সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষেত্রে নয়া-দিল্লির সাথে পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিকশিত হচ্ছে. আমরা ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ, ২০০৭ সালের জুলাইয়ে বলবত্ হওয়া পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সংক্রান্ত রাশিয়ার খসড়া সমর্থনের জন্য”.

   অর্থনীতি সম্পর্কে বলব যে, নয়া-দিল্লির আগ্রহ জাগাবে সেই সব প্রকল্প, যা প্রণীত হয়েছে “চার দেশের” (আফগানিস্তান-পাকিস্তান-রাশিয়া- তাজিকিস্তান) কাঠামোতে. এ বিন্যাস শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলির পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপের গভীরতা সাধন করা রূপ, এ সংস্থায় ভারত পর্যবেক্ষকের স্থিতিতে রয়েছে. একটি প্রকল্প হতে পারে “CASA-1000” –তাজিকিস্তান ও কির্গিজিয়া থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বিদ্যুত্শক্তি সরবরাহের ব্যবস্থার গঠন. দমিত্রি মেদভেদেভের মতে, শাংহাই সহয়োগিতা সংস্থার অন্যান্য শরিকের মতো ভারতও এ ব্যবস্থায় যোগ দিতে পারে. তাছাড়া,  মস্কো তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান-ভারত (তাপি)গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের প্রকল্পে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে. রাষ্ট্রপতির স্থিরবিশ্বাস যে, রাশিয়ার কোম্পানিগুলির এরকম পাইপলাইন পাতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও বনিয়াদ আছে. মস্কো ও নয়া-দিল্লি পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তির ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠ পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ চালাচ্ছে. রাশিয়া “কুদানকুলাম” পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি কেন্দ্রে অতিরিক্ত বিদ্যুত্শক্তির ব্লক নির্মাণ করছে, রাশিয়ার প্রকল্প অনুযায়ী নতুন নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণেরও চুক্তি আছে.

   উচ্চ প্রকৌশলের ক্ষেত্রে দু দেশের বিজ্ঞানীদের সাফল্য মহাকাশেও ব্যবহৃত হচ্ছে. বিশেষ করে, এ হল চাঁদের কৃত্রিম উপগ্রহ “চান্দ্র্যযান-২” গঠনের প্রকল্প. অপেক্ষাকৃত সম্প্রতিকালে এর অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা স্টেশনের বিন্যাসে ভারতের "মিনি-লুনোখোদ" অন্তর্ভুক্ত করা সম্পর্কে সমঝোতায় এসেছে. দমিত্রি মেদভেদেভের কথায়, মহাকাশযানের যাত্রা আশা করা হচ্ছে ২০১৩ সালে. তাছাড়া, দু দেশ "গ্লোনাস" স্পুতনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা মিলিতভাবে ব্যবহার করতে চায়. পৃথিবীতে ব্যবহারের জন্য সরঞ্জাম উত্পাদনের উদ্দেশ্যে গঠিত হবে রুশ-ভারত প্রতিষ্ঠান.

   দু দেশের শরিকানার আরও একটি ঐতিহ্যগত ক্ষেত্র হল- সামরিক-প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র. রাষ্ট্রপতির ভারতে রওনা হওয়ার আগে খবর পাওয়া গেছে যে, এ সফরের সময় পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমান মিলিতভাবে তৈরি করা সম্পর্কে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে. কিছু কিছু তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পক্ষ এ প্রকল্পে ২৫০০ কোটি ডলার নিয়োগ করতে প্রস্তুত. একই সঙ্গে, ভারতের অস্ত্র-বাজারে ক্রমেই বেশি সক্রিয়তা দেখাচ্ছে পশ্চিমী উত্পাদকরা. দমিত্রি মেদভেদেভ এর প্রতি “শান্ত ও বাস্তববাদী” মনোভাব প্রকাশ করছেন. রাশিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুত. প্রধান ব্যাপার হল- কনট্র্যাক্টের জন্য সংগ্রাম যেন চালানো হয় সত্ভাবে এবং নিয়ম অনুযায়ী. আর মস্কো ও দিল্লির সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কে বলব যে, তা একেবারে স্বচ্ছে. তার উদ্দেশ্য- ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা সুনিশ্চিত করা, দক্ষিণ এশিয়ায় গড়ে ওঠা সামরিক-রণনৈতিক ভারসাম্যের জন্য কোনো ক্ষতি সাধন না করে.