অনেকদিন শান্ত থাকার পরে ইউরোপে আবার সন্ত্রাসের বিপদ সম্বন্ধে সরব হয়েছে. এই বারে সন্ত্রাসের লক্ষ্য হয়েছিল স্টকহোম.

    ব্রিটেন থেকে আসা প্রাক্তন ইরাকের নাগরিক তাইমুর আবদেল ভাহাব দুটো বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে. শেষটি করতে গিয়ে সে নিজেই মারা পড়েছে. সংবাদ মাধ্যমে আবদেল ভাহাব কে চরমপন্থী বলে দেখানো হয়েছে, যে আগে ইংল্যান্ডে চরমপন্থী প্রচার করেছিল. সুইডেনের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে তার ঘোষণার রেকর্ড, যেখানে আবদেল ভাহাব প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, ইউরোপে সে ঐস্লামিক রাষ্ট্র তৈরী করতে চায়. সে বলতে চায়, যে এর জন্য সমস্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে.

    সে কি বলতে চেয়েছিল? ইউরোপে বহু ভাবে প্রসারিত ঐস্লামিক সংগঠন গুলি – যাদের মধ্যে চরমপন্থী সংস্থাও রয়েছে? নাকি ইউরোপ মহাদেশে বর্তমানে যে বহু লক্ষ মুসলমান নাগরিক রয়েছেন তাঁদের কথা? এই বিষয়ে শুধু কল্পনা করাই এখন সম্ভব, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, সমস্যা সত্যই রয়েছে – আর এটা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়ের মধ্যের সমস্যা, যাঁরা আজ ইউরোপে রয়েছেন. আর এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন, প্রসঙ্গতঃ এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভিক্তর নাদেইন রায়েভস্কি বলেছেন:

    "ইউরোপ বর্তমানে মুসলিম দেশ গুলি থেকে আগত লোকেদের ছাড়া চলতে পারে না. তার উন্নতির কাঠামোই তৈরী হয়েছে বাইরে থেকে আসা শ্রমিক শক্তির উপর নির্ভর করে, কারণ স্থানীয় লোকেদের উপরে নির্ভর করে এই ধরনের উন্নয়ন সম্ভব নয়. মুসলিম দেশ গুলি থেকে আসা লোকেদের মধ্যে চরমপন্থী লোকেরাও কাজ করছে. কিন্তু এই সমস্যা শুধু একা মুসলমানদেরই নয় – চরমপন্থী লোকেরা সর্বত্রই রয়েছে".

    বিশেষজ্ঞ আরও যোগ করেছেন যে, মুসলিমদের মধ্যে চরমপন্থী লোকদের মধ্যে প্রথম দফায় যারা ইউরোপে ঢুকে পড়েছিল, তারা ২০০১ সালের আগেই এসেছে – তারা নিজেদের দেশে তাদের পিছনে তাড়া খেয়ে পালিয়ে এসেছিল ইউরোপে. যেমন, আলজিরিয়া থেকে. তারা শুধু তখন নিজেদের দেশে থাকা লোকেদেরই ইউরোপ থেকে সাহায্য করত. পরবর্তী কালে ইউরোপের মুসলিম সম্প্রদায় পাল্টাতে শুরু করে, ইউরোপে চরমপন্থী ইসলামের ধারণা প্রসার করার জন্য সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য কারণ হয়েছিল আফগানিস্থানে মার্কিন বাহিনীর সামরিক কাজ কারবার ও ইরাকে মার্কিন বাহিনীর অনুপ্রবেশ. চরমপন্থীরা এই পরিস্থিতি কে নিজেদের দলে লোক টানার জন্য ব্যবহার করেছিল. পরিস্থিতি আরও "গরম" হতে শুরু করেছিল – দুই পক্ষেরই উসকানি দেওয়ার লোকেদের জন্য – যারা এই পরিস্থিতি আরও সঙ্গীণ করে তোলার সুযোগে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিল.

    প্রসঙ্গতঃ, ইউরোপে বেশ কয়েকটি দেশে সংবাদ মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম প্রবর্তক মোহাম্মদ কে নিয়ে কার্টুন প্রকাশের পর, তা নিয়ে সমস্যা কিছুতেই কমছে না. এখানে জানানো হয়েছে যে, স্টকহোম শহরে বিস্ফোরণের আয়োজক তাইমুর আবদেল ভাহাব নিজেও এই স্ক্যাণ্ডাল প্রচার করার ব্যাপারে অংশ নিয়েছিল. কিন্তু এটা ও এই ধরনের আরও কিছু স্ক্যাণ্ডাল ব্যবহার করা হয়েছে স্রেফ পরিস্থিতি গরম করার জন্যই. তাছাড়া এই ধরনের কাজের পিছনে কিছু বাস্তব কারণও রয়েছে কি? ভিক্তর নাদেইন রায়েভস্কি বলেছেন:

    "আফগানিস্থান বা ইরাকের যুদ্ধই নয়, অথবা কার্টুন নিয়ে স্ক্যাণ্ডাল নয়, বহু ইউরোপে থাকা মুসলমানই নিজেদের জীবন যাত্রার মান নিয়ে খুশী হতে পারছেন না. ফ্রান্সে মুসলমান অল্পবয়সী লোকেদের বিদ্রোহ যেমন, সামাজিক কারণের সঙ্গেই জড়িত. সরকারি ভাবে অন্যান্য সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুসলমানদের ইউরোপে একই অধিকার আছে বলা স্বত্ত্বেও বাস্তবে তারা বুঝেছেন যে, সমান অধিকার এখনও তাদের জন্য বহু দূরের বিষয়. প্রায়ই তাদের সেখানে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক বলেই দেখা হয়ে থাকে".

    যে কোন ধরনেরই চরম পন্থা অবশ্যই নেতিবাচক ঘটনা. আর চরমপন্থার ধারণার সঙ্গে যুদ্ধ করা প্রয়োজন প্রাথমিক ভাবে ধারণার ক্ষেত্রেই. ইউরোপ আপাততঃ ঐস্লামিক আহ্বানের জন্য যোগ্য কোন উত্তর খুঁজে পায় নি. শুধু পুলিশ দিয়েই তো আর এই উত্তেজনা হ্রাস করা যাবে না. সমানাধিকার প্রয়োগ করেই ইউরোপে আসা মুসলমানদের সমাজে গ্রহণ করতে হবে, তাদের সমাকলন করতে হবে. এর ফলে চরমপন্থীদের পায়ের তলার মাটি সরে যাবে. কিন্তু আপাততঃ এটা ঘটছে না.