ভারতস্থ রুশ রাজদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন রুশ ভারত সম্পর্ককে বিশেষ সুবিধা সহ সম্পর্ক বলে নাম দিয়েছেন. আমাদের সাংবাদিক নাতালিয়া বেন্যুখ কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এই কথা বলেছেন. নাতালিয়া দিল্লী গিয়েছিলেন রেডিও রাশিয়ার সারা ভারত শ্রোতা ক্লাবের সম্মেলনে অংশ নিতে. তাঁদের কথাবার্তার বিষয় হয়েছিল রুশ রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের আসন্ন ভারত সফর.

    রাজদূতকে সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন যে, আসন্ন সফরকে বর্ণনা করার মতো কোন একটি ব্যাখ্যা কি রাজদূত বের করতে পারেন? রাজদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন বলেছেন:

    "এটা হতে চলেছে এক অভূতপূর্ব সফর, রুশ – ভারত স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা ঘোষণার দশম বর্ষ পূর্তির সময়ে তা হতে চলেছে. এই ঘোষণা বিগত দশ বছর ধরে রুশ - ভারত সহযোগিতা সম্পর্কের পথ নির্দেশ দিয়েছে. রুশ রাষ্ট্রপতির আসন্ন সফর এই দশ বছরের মূল্যায়ণ করবে. সেই সম্পর্কের চরিত্র কি রুশ - ভারত সম্পর্ক সত্যই অতুলনীয়, বিশেষ ধরনের সুবিধা যুক্ত, যাতে নির্দিষ্ট বিষয় দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে. তার মধ্যে রয়েছে আমাদের দুই দেশের শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি বিষয়ে সহযোগিতা – ভারতে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ, সামরিক প্রযুক্তি শিল্প ক্ষেত্রে সহযোগিতা, গ্লোনাসস ব্যবস্থার সৃষ্টি. আনন্দের বিষয় হল যে, ভারতে রুশ বিনিয়োগ চলেছে. বর্তমানে ভারতের প্রায় অর্ধেক রাজ্য গুলির মধ্যেই রুশ মোবাইল ফোন ব্যবস্থা এম তে এস চালু হয়েছে".

    দিমিত্রি মেদভেদেভ গত বছরের শুরুতে ভারত সফরে এসেছিলেন. আর এই নিয়ে ওনার রুশ রাষ্ট্রপতি হিসাবে দ্বিতীয় নিউ দিল্লী সফর. আর যদিও শুধু একটা বছরই পার হয়েছে, তবুও মনে হয়, আলোচনার জন্য প্রচুর বিষয় বস্তু নতুন করে তৈরী হয়েছে, তাই নয় কি! ভারতের রুশ রাজদূত কাদাকিন বলেছেন:

    "বর্তমানের বাস্তব আন্তর্জাতিক প্রশ্ন গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে, তার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা, আফগানিস্থানের পরিস্থিতি, দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থা. তাছাড়া সারা বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের বিষয় আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা. ভারত খুব কম ক্ষতি স্বীকার করে এই সঙ্কট পার হতে পেরেছে. আর এখানেই আমাদের জন্য ভারতীয় দের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা গ্রহণ করার মতো বিষয় আছে. তাঁরা দেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদা ও আভ্যন্তরীণ প্রশ্নের উপরে মনোযোগ দিয়েছিলেন, আমেরিকার শেয়ার বাজারের উদ্বায়ী বিনিয়োগের উপরে নয়.

    এই সফরের সময়ে বাত্সরিক ঘড়ি মিলিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও দেখা হবে. ভারত সেই সমস্ত বিরল দেশের একটি, যেখানে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই বছরে সফরে এসেছিলেন এবং যেখানে সফরে আসছেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে খুবই উচ্চ পর্যায়ে প্রচুর আলোচনা করা হচ্ছে".

    ভারত ও রাশিয়া স্ট্র্যাটেজিক সহযোগী দেশ. এই সহযোগিতার প্রধান অর্থ ও বিশেষত্ব কি? ভারতীয় ও রুশ লোকেদের তার থেকে কি লাভ হয়?

রাজদূত বলেছেন:

    "রাশিয়া ও ভারত আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে প্রথম স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার কথা বলেছিল. এই বিষয়ে রুশ – ভারত যৌথ ঘোষণা দিল্লীতেই করা হয়েছিল. গত দশ বছরে আমাদের স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা আরও বেশী করে ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বাস যোগ্য হয়েছে. তার কিছু গুণগত বিশেষত্ব রয়েছে. পৃথিবীর সমস্ত দেশের সঙ্গেই তো আমরা পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার প্লেনের পরিকল্পনা প্রকল্প নিয়ে তথ্য বিনিময় করি না, এই বহুমুখী বিমানের নির্মাণে গ্লোনাসস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, আমরা ভারতীয়দের এই ব্যবস্থার মধ্যে যুক্ত করে নিতে পারব.

    গ্লোনাসস ব্যবস্থা সমস্ত রকমের গাড়ীতেই লাগানো যাবে. এই ব্যবস্থার গ্রাহক যন্ত্রগুলি তৈরী করার কাজ ভারতে যৌথ প্রকল্পের কারখানাতেই করা হবে. গ্লোনাসস ব্যবস্থা পরিবহন সংক্রান্ত বিষয়কে সহজ করবে. সহযোগিতার আরও একটি সম্ভাবনাময় দিক হল ঔষধি শিল্প, যা রুশ জনগনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ. ভারত ঔষধি নির্মাণ বিষয়ে এক নেতৃত্ব দান কারী দেশ হতে পেরেছে. কিন্তু আমরা গর্বের সঙ্গে মনে করতে পারি যে, এক সময়ে ভারতের ঋষিকেশ এলাকায় সোভিয়েত দেশের সহায়তাতে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ তৈরী করা শুরু হয়েছিল. বর্তমানে ভারতীয় বিনিয়োগের সহযোগিতায় রুশ দেশে ওষুধ তৈরীর কারখানা খোলার কথা হচ্ছে".

    সোভিয়েত দেশ মুছে যাওয়ার পরে প্রায় বেশ কয়েক বছর রুশ ভারত বাণিজ্যের পরিমান ছিল খুবই কম. বিগত কয়েক বছরে বেশ কিছুটা অগ্রগতি দেখা গিয়েছে, এটা কি শেষ অবধি পৌঁছে গিয়েছে?

    রাজদূত বলেছেন:

    "গত পাঁচ বছরে আমাদের সম্মিলিত বাণিজ্যের পরিমানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে, আমাদের বাণিজ্যের পরিমান দ্বিগুণ হয়েছে, সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে এই বছরের নভেম্বর মাসের শেষে তা পৌঁছেছে ৯, ২ বিলিয়ন ডলারে. অবশ্যই ভারত ও রাশিয়ার মত দেশের জন্য এই পরিমান খুবই কম. আর দেশের নেতারা কোম্পানী গুলির সামনে কাজ দিয়েছেন আগামী পাঁচ বছরে এই পরিমান দ্বিগুণ করে ২০১৫ সালের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলার করার.

    দিমিত্রি মেদভেদেভের আসন্ন ভারত সফরের সময়ে সম্পূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য প্রচুর যৌথ সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা রয়েছে. ভারতীয় বন্ধুরা আগামী ২০১১ সালকে রাশিয়াতে ভারতের সংস্কৃতির বছর করার প্রস্তাব করেছে. আর আমরা ভারতীয়দের কাছে ২০১২ সালকে রুশ সংস্কৃতির বছর বলে প্রস্তাব করতে তৈরী হয়েছি".

    রুশ - ভারত সহযোগিতা সম্পূর্ণ নূতন এক স্তরে উন্নত হয়েছে, যাতে আরও বেশী করে রুশ ও ভারতীয় লোকেরা সামিল হচ্ছেন. আর স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক.