বৈজ্ঞানিকেরা বিপদের সঙ্কেত দিয়েছেন বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে. গত একশ বছরে এই বৃদ্ধি হয়েছে ০, ৪৬ ডিগ্রী. বিশ্বের তাপমাত্রা যদি ২ ডিগ্রী বাড়ে – বিশ্বে প্রত্যাবর্তনের অযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে চলেছে. যাতে এই চরম পরিণতির চিত্রনাট্য বাস্তবায়িত না হতে পারে, একবিংশ শতাব্দীর মধ্য ভাগে সর্বমোট পরিবেশ দূষণের পরিমানকে কমিয়ে ১৯৯০ সালের তুলনায় অর্ধেক করতেই হবে.

    পরিবেশ পরিবর্তন সমস্যা নিয়ে নূতন বিশ্বজোড়া চুক্তি বোধহয় আগামী বছরেই তৈরী হতে পারে, অর্থাত্ বর্তমানের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের কাঠামো নিরুপণ করার চুক্তির সময়সীমা পার হওয়ার আগেই. সেই ১৯৯৪ সালেই গত চুক্তিতে রাশিয়া সহ ১৮০টি দেশ স্বাক্ষর করেছিল. দ্রুত ব্যবস্থা যে নিতে হবেই, সেই ধারণা মনে হয়, বিশ্ব সমাজের আসছে, এই কথা মনে করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির পরিবেশ পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রশ্নগুলির বিষয়ে উপদেষ্টা আলেকজান্ডার বেদরিতস্কি:

    "পরিবেশের পরিবর্তন অবশ্যই কোন একটি মাত্র ফলে আমাদের উপনীত করবে না. কিন্তু সবচেয়ে বেশী করে এক্ষেত্রে নেতিবাচক ফলই হবে বলে ধারণা করা হয়েছে, তা রাশিয়ার জন্যেও হবে. তাই আন্তর্জাতিক সমাজ জোর দিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়াকে সজীব রেখেছে, যাতে শেষ অবধি আন্তর্জাতিক ভাবে এই বিশ্বের সমস্যার বিষয়ে একটি সহমতে পৌঁছনো সম্ভব হয়. কারণ পরিবেশের উপরে মানুষের কর্মের প্রভাব কোন একক দেশের পক্ষেই কম করা সম্ভব নয়. খনিজ জ্বালানী ব্যবহারের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুতরাং বৃদ্ধি পাচ্ছে একই সঙ্গে – কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিবেশে বর্জন. গ্রীন হাউস এফেক্টের ফলে: তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে নানা ধরনের খারাপ ফলও দেখা যাচ্ছে".

    বৈজ্ঞানিকের কথামতো, বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বেশীর ভাগ দেশের জন্যই বিপজ্জনক: মহাসমুদ্রের জলের উচ্চতা বাড়লে, তারা ডুবে যাবে. তারই সঙ্গে সব মিলিয়ে বাড়বে বিপজ্জনক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা: প্রবল বর্ষণ, ঝড়, ঘূর্ণি, দীর্ঘস্থায়ী খরা... রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির পরিবেশ সংরক্ষণ উপদেষ্টা ঘোষণা করেছেন যে, "প্রত্যেক পরবর্তী বছরেই মানুষের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমান শতকরা ৬ ভাগ করে বাড়বে. তাপমাত্রার বিষয়ে রেকর্ড হতে থাকবে – অসম্ভব গরম বা ভীষণ ঠাণ্ডা – একের পর এক এই সমস্ত ঘটনা ঘটতেই থাকবে".

    একটা বিষয়ই পরিস্কার – পরিবেশে গ্রীন হাউস এফেক্টের পরিমান কমাতে হবে. কিয়োটো প্রোটোকল অনুযায়ী ২০৫০ সালে বিশ্বে গ্রীন হাউস এফেক্টের পরিমান অর্ধেক করতেই হবে, তার মধ্যে উন্নত দেশ গুলির এই পরিবেশ দূষণের পরিমান কম করতে হবে শতকরা ৮০- ৯০ ভাগ. রাশিয়া এ ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অনেক কাজ করেছে, এই কথা উল্লেখ করে বেরদিতস্কি বলেছেন:

    "১৯৯০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত পরিবেশ দূষণ কম করার বিষয়ে, যা সমস্ত উন্নত দেশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে তাতে রাশিয়ার অবদান, প্রায় অর্ধেক, - রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেছেন. এই কাজ বিরাট এবং অবদানও অনেক! এই ফল আমাদের দেশে শুধু অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণেই হয় নি, সাধারণতঃ সমালোচকেরা এই কথাই বলে থাকেন, বরং নির্দিষ্ট ব্যবস্থাই এর কারণ এবং অর্থনীতির বিভিন্ন দিকে আধুনিকীকরণ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য পূরণের পরিকল্পনা গুলিকে বিশ্বের বাজারের সূচক ব্যবহার করার ফলেই এটা হতে পেরেছে. এই সবই দূষণ কমার কারণ".

    ১২০ হাজার বছর আগে বিশ্ব ছিল বরফে আবৃত. পরবর্তী পর্বে বিশ্ব আবার বরফাবৃত হওয়ার জন্য আরও ১০ হাজার বছর বাকী, পরিবেশ বিজ্ঞানী সাবধান করে দিয়ে এই কথা বলেছেন. তাই প্রকৃতি দয়া করবে এই কথা ভাবার কোন দরকার নেই. বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সংগ্রাম তাই করতেই হবে. এই প্রক্রিয়ার ফলে আরও বিজ্ঞান সম্মত প্রযুক্তির প্রয়োজন পড়বে, উত্পাদন প্রক্রিয়াতে জ্বালানী ব্যবহার কম করতে হবে. যা শেষ অবধি রাশিয়ার অর্থনীতিকে প্রতিযোগিতার উপযুক্ত করবে. তারই সঙ্গে পরিবেশে কম হতে থাকবে দূষণের মাত্রা.

    রাশিয়া বিশ্বের খারাপ আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে, এই বিষয়ে বিশ্বের বহু দেশের মধ্যে চুক্তির জন্য অপেক্ষা করে নেই, রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা নিজেদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণের পরিকল্পনা তৈরী করছেন. এই পরিকল্পনা কৃষি ক্ষেত্রে, শিল্পোত্পাদনে, জ্বালানী ক্ষেত্রে, পরিবহনের ক্ষেত্রে খুবই সক্রিয় ভাবে ব্যবহার করা হবে. প্রসঙ্গতঃ এই ধরনের বিশাল প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন বিশ্বের শুধু ২০টি দেশের বিজ্ঞানীরা.