রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সমরাস্ত্র সজ্জার কাজে আগামী দশ বছরে ২০ ট্রিলিয়ন(!)(প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী) রুবল বরাদ্দ করা হয়েছে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন  ২০১১ – ২০২০ সালের রাষ্ট্রীয় সমরাস্ত্র পরিকল্পনা সংক্রান্ত অধিবেশনে এই অর্থের পরিমানকে ভয়ঙ্কর বলেও উল্লেখ করেছেন যে, এর ফলে রাশিয়ার সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ আধুনিক হয়ে উঠবে. "আমাদের প্রয়োজন সেই সমস্ত বছর গুলির প্রভাবকে শেষ অবধি কাটিয়ে ওঠা, যখন সেনা বাহিনী ও নৌবহর খুবই কম অর্থ পেয়েছিল" – ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন আর্খাঙ্গেলস্ক অঞ্চলে অধিবেশনে.

    ভ্লাদিমির পুতিন সিয়েভেরোদ্ভিনস্কে গিয়েছিলেন, চতুর্থ প্রজন্মের নতুন ডুবোজাহাজ আলেকজান্ডার নেভস্কি পরিদর্শন করতে, আর তার সঙ্গে সমরাস্ত্র সংক্রান্ত পরিকল্পনার দলিলে নির্দিষ্ট গুরুত্বের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে. সিয়েভেরোদ্ভিনস্কে রয়েছে দেশের একমাত্র ৭০ বছরের পুরনো "সেভমাশ" জাহাজ তৈরীর কারখানা, যেখানে পারমানবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজ তৈরী করা হয়. "আলেকজান্ডার নেভস্কি" জাহাজের উপরে প্রধানমন্ত্রীকে জাহাজের ১০৭ জন নাবিক সামরিক কেতায় অভর্থ্যনা করেছেন. ভ্লাদিমির পুতিন নাবিকদের এই জাহাজের জলে চলার পরীক্ষার শুরু হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন.

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের আধুনিক, গুণমান সম্পন্ন প্রযুক্তি দিয়েই অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়ার সমস্ত সামরিক বাহিনী সজ্জিত হবে. ২০১৫ সালে আধুনিক সমরাস্ত্রের পরিমান নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও সেনা বাহিনীর ক্ষেত্রে হবে শতকরা ৩০ ভাগ ও ২০২০ সালের মধ্যে তা শতকরা ৭০ ভাগের কম হবে না. রাষ্ট্রীয় সমরাস্ত্র সজ্জা পরিকল্পনা এই কাজের ভিত্তি হবে. এই বছরের শেষের মধ্যেই তা তৈরী করা শেষ হবে. প্রধানমন্ত্রী এই পরিকল্পনা যাঁরা তৈরী করছেন, তাঁদের সকলকেই সক্রিয় হতে অনুরোধ করেছেন এবং আসন্ন উত্সবের আবহাওয়া ও নূতন বর্ষাগমের ছুটির প্রতীক্ষা স্বত্ত্বেও বলেছেন এই দলিলের কাজ শেষ দাঁড়ি অবধি করতে. তিনি সেই সমস্ত প্রমূখ দিক গুলি নিয়ে বলেছেন, যার উপরে রাশিয়ার সেনা বাহিনী ও নৌবহরের নতুন রূপ নির্ভর করবে.

    "সেই সমস্ত বছর গুলির প্রভাব শেষ অবধি কাটিয়ে উঠতে হবে, যখন সেনা বাহিনীর জন্য বিনিয়োগ প্রায় করাই হয় নি সত্য হল, তখন আমরা পুরনো সঞ্চয় ও সমরাস্ত্র নির্ভর হয়ে কোন রকমে টিকে ছিলাম, আর নতুন প্রযুক্তি বাহিনীর কাছে পৌঁছত খুবই কম ও এক আধটা. তাই সমর সজ্জা পরিকল্পনায় আমরা খুবই উল্লেখ যোগ্য ও তাই আমরা খুবই বড় ও পরিমাপ যোগ্য অর্থ বরাদ্দ করেছি. আমার এমনকি এই ভয়ঙ্কর সংখ্যা উচ্চারণ করতে ভয় হচ্ছে – ২০ ট্রিলিয়ন রুবল. এত বড় সংখ্যা হলেও তা হিসাব করে পাওয়া সংখ্যা. প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সর্ব্বোচ্চ সামরিক পর্যায়ের প্রধান এই সংখ্যার পিছনে হিসাব প্রমাণ করে দিয়েছেন ও সরকারি অর্থের প্রয়োজন যে এই পরিমান অর্থের রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পেরেছেন. এই অর্থে সেনা বাহিনী ও নৌবহরের যুদ্ধোপযোগী অংশ এবং কিছু বিশেষ ধরনের সমরাস্ত্রের পরিকল্পনা রয়েছে".

    প্রধান মনোযোগ দেওয়া হয়েছে স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক শক্তি বিষয়ে. "সেনা বাহিনীকে সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থা দিতে হবে, নিয়ন্ত্রণ ও অনুসন্ধানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, তৈরী করতে হবে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান ও অন্যান্য বিমান ব্যবস্থা" – সরকার প্রধান এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন. এই ধরনের বিনিয়োগ থেকে সামরিক বাহিনী প্রাচীন থেকে ভবিষ্যতের বাহিনীতে পরিনত হবে. বর্তমানে যে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে, তার তুলনায় আগামী দশ বছরে বিনিয়োগ বাড়বে তিন গুণ. নৌবাহিনীর সামগ্রিক উন্নতি করার জন্য সাড়ে চার ট্রিলিয়ন রুবলের বেশী দেওয়া হবে, তার মধ্যে এই অর্থের একের তৃতীয়াংশ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেওয়া হবে.

    ২০১০ সালে সাফল্য যা হয়েছে তাও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন:

    "এই বছরের মধ্যে আমরা সমস্ত সামরিক শিল্পের একটা সম্পূর্ণ হিসাব করতে পেরেছি. প্রায় সম্পূর্ণ বাস্তব হিসাব. সব মিলিয়ে যে সিদ্ধান্তে এসেছি আমাদের সামরিক শিল্প ব্যবস্থার প্রচুর ক্ষমতা রয়েছে, ভবিষ্যতে ব্যবহার যোগ্য প্রযুক্তি রয়েছে ও একেবারে সমস্ত ধারণা পাল্টে দিতে পারে এমন প্রযুক্তি আছে – যা আমাদের রয়েছে আগের সময় থেকে এবং এখনও অদূর ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট বাস্তব, আর আছে একেবারে আধুনিক প্রযুক্তিও".

    প্রচুর ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিক জিনিসের মধ্যে রয়েছে "বরেই" প্রকল্পের ডুবোজাহাজ গুলিও – যা রাশিয়ার নৌবাহিনীর প্রকল্পের মধ্যে প্রধান. এই পারমানবিক ডুবোজাহাজ প্রকল্প গুলির একটিতেই ভ্লাদিমির পুতিন এই অধিবেশনের আগে গিয়েছিলেন. "আলেকজান্ডার নেভস্কি" এই প্রকল্পের দ্বিতীয় ডুবোজাহাজ. ২০০৪ সালের ১৯শে মার্চ (ডুবোজাহাজের নাবিকদের উত্সবের দিন) এই জাহাজ তৈরী শুরু হয়েছিল ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর কাছে এই জাহাজ পৌঁছবে ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে.

    পারমানবিক ডুবোজাহাজের প্রধান দায়িত্বশীল ব্যক্তি আলেকজান্ডার রেজনিকভ বলেছেন যে, "বরেই" প্রকল্পের চতুর্থ প্রজন্মের ডুবোজাহাজ সবচেয়ে কম শব্দ করে ও তাতে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ অনেক রয়েছে. এই পারমানবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজ তৈরী করা হয়েছে সর্বাধুনিক আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট "বুলাভা"র জন্য বিশেষ করে তৈরী করা হয়েছে.

    "বরেই" প্রকল্পের প্রধান যুদ্ধ জাহাজ – "ইউরি দোলগোরুকি" জলে নেমেছিল ২০০৭ সালে. তৃতীয় পারমানবিক শক্তি চালিত জাহাজ – "ভ্লাদিমির মনোমাখ" তৈরী করা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে, যে বছরে রাশিয়ার ডুবোজাহাজ শক্তির একশ বছর পালন করা হয়েছিল.

    রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নতুন সজ্জা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক দিককেও বাদ দেন নি. রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাতে থাকবে সামরিক কর্মীদের মাইনে বাড়ানোর কথা ও অস্থায়ী এবং স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণের কথা.