রাশিয়াতে নতুন দলের উদ্ভব হয়েছে – জনতা মুক্তি দল. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, নতুন দলের সমস্ত অংশীদারেরাই খুব ভাল রকমের পরিচিত লোক আর তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও যথেষ্ট. সহ সভাপতিদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মিখাইল কাসিয়ানভ, প্রশাসনের প্রাক্তন সহ সভাপতি এবং প্রাক্তন দক্ষিণপন্থী শক্তি সংঘের প্রাক্তন নেতা বরিস নেমত্সভ, প্রাক্তন প্রজাতান্ত্রিক দলের প্রাক্তন নেতা ভ্লাদিমির রীঝকভ.

   দেশের প্রশাসনে অনুপস্থিত স্বাধীন বিরোধীপক্ষের প্রতিনিধিরা স্থির করেছেন নতুন রাজনৈতিক দল নথিভুক্ত করে আগামী ২০১১ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করার. ২০১২ সালে তাঁরা, যখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, তখন নিজেদের পক্ষ থেকে সর্বসম্মতি ক্রমে নির্ধারিত প্রার্থীকে দাঁড় করাবেন. সমস্যা হল, বর্তমান দলের সমস্ত প্রধান নেতাই প্রাক্তন রাজনীতিবিদ. এই কথা রেডিও রাশিয়া কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন রাজনৈতিক কাঠামো অনুসন্ধান কেন্দ্রের জেনেরাল ডিরেক্টর সের্গেই মিখিয়েভ:

   “ওঁদের জায়গায় আমার তো মনে হয়, উচিত্ হতো রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া ও বোঝা যে, যথেষ্ট অপকর্ম করা হয়েছে এবং লোকে আর নিচ্ছে না, কারও কাছে আর ওঁরা আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারছেন না ও কারোর দরকারও নেই. চলে যাওয়া আর অনুতাপ করা উচিত্, যা ওঁরা করেছেন বিগত সময়ে. ওঁদের এথনও সাহস হয় নিজেদের প্রায় সারা দেশের নেতা বলে প্রস্তাব করার মতো. আমার মনে হয়, ওঁদের ব্যক্তিগত ভাবে কোনও ভবিষ্যত নেই”.

   আগামী নির্বাচনে ওঁদের লোকসভাতে প্রবেশ করাই কঠিন হবে. তাঁদের বিপক্ষে কাজ করবে নিজেদেরই রাজনৈতিক কাজ কারবারের ইতিহাস. তাই মনে করে সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

   “আমি নিশ্চিত যে, এই দল লোকসভা নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট, যা পেলে আসন পাওয়া যেতে পারে, তাও পাবে না. কারণ হল, এঁদের জনপ্রিয়তা খুবই কম. এই সব লোকেরাই নব্বইয়ের দশকের নেতা ছিলেন, তাঁরা সেই সময়েই নিজেদের প্রতি লোকের আস্থা হারিয়েছেন. নব্বইয়ের দশকে এই দেশে যে ধরনের স্বাধীন পরিবর্তন করতে চাওয়া হয়েছিল, তার ফল খুলে বললে, বলা উচিত্, যে সফল হয়নি. মানুষের মনে এই সময়ে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, তার স্মৃতির রঙ শোকের – কালো. আমি এই দলের লোকসভা নির্বাচনে নিজেরা আসন পেয়ে জয়লাভ করার কোনও ভবিষ্যত সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না”.

বিশেষজ্ঞদের কাছে আরও বেশী প্রশ্নের বিষয় হয়েছে নতুন দলের রাজনৈতিক পরিকল্পনা. সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে তারা জোর দিচ্ছেন প্রতিযোগিতার উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরী করার, ব্যবসা করার উপযুক্ত স্বাধীন আবহাওয়া তৈরী করার, একক ক্ষমতা সম্পন্ন শিল্প ও বাণিজ্যের সাথে লড়াই করা, বিনিয়োগের জন্য পরিস্থিতি ভাল করার. আভ্যন্তরীন রাজনীতির ক্ষেত্রে দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই করা, দেশের প্রশাসনের কর্মচারীদের পেশাদারিত্বের বৃদ্ধি. এই সবই বর্তমানে যে সমস্ত প্রশ্ন নিয়ে সরকারের কাজ হচ্ছে, তারই পুনরাবৃত্তি. আর এটা বেশী করে বিজ্ঞাপণ দেওয়ার মতো হয়ে যাচ্ছে, দেশে সত্যিকারের পরিবর্তন আনার ইচ্ছার চেয়ে কথাই বেশী, তাই সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

“নতুন দল নিজেদের জন্য স্লোগান ঠিক করেছে, যা সকলে এমনিতেই বলছে. সবাই জানেন ও বোঝেন যে, এই সমস্যা গুলি দূর করা দরকার. তাই ওঁরাও চঞ্চল হয়ে উঠেছেন. তাই ওঁরাও এর সঙ্গে জুটে গিয়েছেন. যেন ওঁদেরও এটাই দরকার. মনে হয়, বেশী সাফল্য এই পথে ওঁরা পাবেন না. যদি তাঁরা কিছু নতুন বলতেন, অথবা কিছু নতুন ভাল পথ দেখাতে পারতেন, তবে ওঁদের কোন সম্ভাবনা হত, যে লোকে ওঁদের কথা শুনবেন. তার বদলে ওঁরা আজকের দিনে দেশের সরকার যা করতে চাইছেন, সে কথাই আবার করে বলে নিজেদেরকে দুর্নীতি ও ব্যুরোক্রাসীর বিরুদ্ধে বিশাল নেতা প্রচার করতে চাইছেন”.

কিন্তু এখানেও সব কিছু মসৃণ নয়. খুব ভুল হবে ভাবলে যে, রাশিয়ার লোকেরা নব্ব্ইয়ের দশকে কে বা কারা ক্ষমতায় ছিল তা ভুলে গিয়েছেন, তাই বিশেষজ্ঞ মনে করিয়ে দিয়ে বলছেন:

“খুলে বললে, বলা উচিত্ যে, নেমত্সভ, কাসিয়ানভ, এঁরা এমন সমস্ত লোক – যারা এক সময়ে দেশের মন্ত্রীসভাতে বড় পদে ছিলেন, তাঁরা নিজেরাই এই দেশে দুর্নীতি, ব্যুরোক্রাসী এই সমস্ত শুরু করিয়েছেন, যা আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, যার সঙ্গে আজ লড়াই করতে হচ্ছে. তাঁরা নিজেরাই এই ব্যবস্থা তৈরী করেছেন, যাঁর খারাপ দিক গুলির জন্য আমাদের কষ্ট হচ্ছে. এঁরা এখন চাইছেন দেশের লোকের মতকে ঘুরিয়ে দিতে, এই ভেবে যে, দেশের লোকেরা ভুলে গিয়েছেন যে, এঁরা কারা”.

বহু বিশ্লেষকই এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, নতুন রাজনৈতিক ফল ও তার স্রষ্টাদের মূল উদ্দেশ্য হল – নিজেদের আবার করে মনে করানো, বড় রাজনীতিতে ফেরা, আবার করে সংবাদ মাধ্যমে পরিচিত মুখ হওয়ার আরও একটা চেষ্টা করা. এই ধরনের কাজ খুবই সহজ বোধ্য ও সম্ভব, কিন্তু অন্য প্রশ্ন হল, দেশের সত্যিকারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক হল খুবই দূরের বিষয়.