মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রবার্ট গেইটস বিশ্বাস করেন যে, তাঁর দেশের আফগানিস্তানের বিষয়ে নেওয়া স্ট্র্যাটেজি যথেষ্ট সফল. আফগানিস্তানে অবস্থিত মার্কিন সেনা বাহিনীর অতর্কিত পরিদর্শন করেছেন তিনি হঠাত্ই এই দেশে সফরে এসে, আর তার পরেই এই ঘোষণা. তিনি বলেছেন যে, আমেরিকার সেনা বাহিনী এখানে প্রধান লক্ষ্য গুলিতে উত্তীর্ণ হতেই পারে, যা দেশের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা, তাঁদের সামনে রেখেছেন. কিন্তু এটা কি ঠিক? যেমন, আফগান সেনা বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের প্রাক্তন প্রধান জেনেরাল মাহমুদ আয়ুব খান মনে করেন যে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে একে বারেই নেই. তার মধ্যে আবার আফগানিস্থানের সেনা বাহিনী একেবারেই তৈরী হয় নি, সেটাও বড় কারণ.

    "বর্তমানের পরিস্থিতিতে সেনা প্রত্যাহার একেবারেই অসম্ভব. দেশে সন্ত্রাস বাড়ছে, মাদক পাচার বাড়ছে, আফগান সরকারের ক্ষমতা, যদিও এই বিষয়ে বিগত সময়ে কম চেষ্টা করা হয় নি, তাও রক্ষা করা হচ্ছে, শুধু বিদেশী সেনা বাহিনীর জোরে, কারণ সরকার এখনও দুর্বল ও তার ভারসাম্য এবং স্থিতিশীলতার অভাব. আফগানিস্তানে জোটের সেনা বাহিনী রয়েছে বলেই সরকার টিকে রয়েছে. তার ওপর আবার সেনা বাহিনী, যাদের ওপর আভ্যন্তরীন ও বৈদেশিক রাজনীতির বিষয়ে সরকারের ভরসা করার কথা, তারাও টিকে আছে বিদেশী সেনা বাহিনীর জোরে আর নিজেরা দেশের ভিতরের ও বাইরের সমস্যার হাত থেকে নিরাপত্তা রক্ষা করার কাজে এখনও সেই স্তরে পৌঁছতে পারে নি, যাতে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়, সন্ত্রাস প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়, সাফল্যের সঙ্গে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়".

    রাশিয়ার আফগান বিশেষজ্ঞ পিওতর গনচারোভ মনে করেন যে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বারাক ওবামার পরিকল্পনা সম্বন্ধে সমর্থনে এই ধরনের ঘোষণা দেখাই যাচ্ছিল যে, হবে. আর তার কারণ হল:

    "কয়েকদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেশের সামরিক ও বৈদেশিক নীতির সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তৈরী রাষ্ট্রপতির প্রশাসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সভার খুব উচ্চ পর্যায়ের পরিষদ প্রশাসনের কাছ থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষে আফগানিস্তানে মার্কিন স্ট্র্যাটেজির বিষয়ে বাস্তব ও স্থির মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে. আর তাতে জানতে চাওয়া হয়েছে যে, আফগানিস্তানে উত্পন্ন সমস্যা বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে কি না, যাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, স্ট্র্যাটেজি কি রকম কাজ করছে. এরপর গেইটসের তথাকথিত হঠাত্ আফগানিস্তান সফর ও সেনা বাহিনী পরিদর্শন ব্যাপারটা খুব একটা আচমকা হয় নি".

    পিওতর গনচারোভ প্রশ্ন রেখেছেন যে, অন্য ব্যাপার হল কেন গেইটস, যিনি কিনা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সম্বন্ধে ভাল রকমের ওয়াকিবহাল, আবার করে বারাক ওবামার ঘোষিত আফগানিস্তান থেকে সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের যথেষ্ট সন্দেহ জনক সময় সীমাকে সমর্থন করলেন? অন্য একটা ঘটনা, যে নির্বাচন এখন খুব কাছেই ঘনিয়ে আসছে.বারাক ওবামার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় হল নিজের দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারা, আর তার মধ্যে একটা বড় আশ্বাস হল আফগানিস্তান থেকে সেনা বাহিনী প্রত্যাহার. সুতরাং গেইটসের আর কি বা করার আছে?  বোঝাই যাচ্ছে যে – ওবামাকে সমর্থন করা এখন দরকার, আর সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের সময় ঠিক করা যাবে পরে কোন সময়ে, নির্বাচনে জয় লাভের পরে. পিওতর গনচারোভ মনে করেন যে, আফগানিস্থানের সমস্যা বিষয়ে কিছু ইতিবাচক উন্নতি অবশ্য হয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়, যাতে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালে যে রকম বারাক ওবামা চেয়েছেন, সেই রকম ভাবে চলে যেতে পারে. কিন্তু বর্তমানে ওয়াশিংটনে এই বিষয়ে পছন্দ করা হয়েছে চোখ বুজে থাকা – আপাততঃ.