দিমিত্রি মেদভেদেভ শনিবারে ক্রেমলিনের সামনের মানেঝ স্কোয়ারে ঘটা গণ গণ্ডগোলের প্রতিক্রিয়া নিজের টুইটার সাইটের ব্লগে লিখেছেন: "দেশে ও মস্কোতেও – সব কিছুর উপরে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে. যারা বদমায়েসী করেছে, তাদের সবার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে. সন্দেহ করবেন না, সবারই ব্যবস্থা হবে". এর আগে রাষ্ট্রপতি রাশিয়ার বিশেষ রায়ট পুলিশ বাহিনীর কাজের প্রশংসা করেছেন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রধান নুরগালিয়েভকে দায়িত্ব দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতেও সামাজিক নিয়ম নীতি রক্ষার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে.

    শনিবারে মস্কোতে ফুটবল দল "স্পার্তাকের" এক অনুরাগী ইগর স্ভিরিদভের নিহত হওয়াতে, তাঁর উদ্দেশ্যে শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল. মস্কোর "ভোদনি স্তাদিয়ন" মেট্রো স্টেশনের কাছে, যেখানে স্ভিরিদভের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে প্রায় ১০ হাজার সমর্থক এক মৌন মিছিলের আয়োজন করেছিলেন, তা ছিল শান্ত ও পুলিশ বাহিনীও সেই মিছিলের প্রতি খুবই ভদ্র ব্যবহার করেছিল.

    আর মধ্যাহ্নে মানেঝ স্কোয়ারে জড় হয়েছিল প্রায় পাঁচ হাজার লোক. পরে বুঝতে পারা গিয়েছিল যে, তারা অনেকেই সঙ্গে নিয়ে এসেছিল বেসবল খেলার ব্যাট ও ছুরি. বেশীর ভাগেরই মুখ ছিল মুখোশ বা মাফলার দিয়ে ঢাকা. এই জমায়েত শুরু হওয়ার পরেই নাত্সী স্লোগান দেওয়া শুরু হয়েছিল. পুলিশ বিভাগের থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী পুলিসের লোকেদের আগে থেকেই নির্দেশ দেওয়া ছিল যে, খুব দরকার না হলে কোন রকমের শক্তি না প্রয়োগ করার ও যাতে জমায়েতের লোকেরা রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ না করতে পারে. কিন্তু মারামারি এড়ানো সম্ভব হয় নি: পুলিশের দিকে ছোঁড়া হয়েছিল পাথর, বরফের চাঁই, অন্যান্য জিনিস. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রশিদ নুরগালিয়েভ ঘোষণা করেছেন যে, এই গণ্ডগোলের জন্য যারা দায়ী, তাদের শাস্তি হবে.

    "কেউ দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারবে না ও প্রত্যেকেই তাদের কাজের জন্য শাস্তি পাবে. পুলিশ কর্মীদের দিকে পাথর ছোঁড়া হয়েছে. আমি সকলকেই বলতে চাই যে, পুলিশ দেশের আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নেবে".

    আইন মেনেই সমস্ত অপরাধের অনুসন্ধান করা উচিত হবে, যা আমরা গত কয়েকদিন ধরেই দেখছি, এই কথা বলেছেন রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপ প্রধান ও "স্পার্তাক" দলের একজন ফ্যান আলেক্সেই মাকারকিন:

    "এক্ষেত্রে এইসব ঘটনাতে যারা অংশ নিয়েছে ও অপরাধ করেছে, তাদের সকলের জন্যই আইন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে. প্রথমতঃ শাস্তি দিতে হবে খুনিকে, যদি প্রমাণ হয় যে সে ইচ্ছাকৃত ভাবেই এই কাণ্ড করেছে, এখানে কোন রকমের মাপ করা চলবে না. দ্বিতীয়তঃ, খুনিকে যে সমস্ত লোক সাহায্য করেছে, তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত্. তৃতীয়তঃ, মানেঝ স্কোয়ারে যারা বেআইনি জমায়েতের আয়োজন করেছে ও যারা মারামারি করতে উসকানি দিয়েছে এবং নিজেরা তাতে অংশ নিয়েছে, তাদের সকলেরই শাস্তি হতে হবে. যদি সরকার এই দুটো বিষয়েই আইন সঙ্গত বিচার করে ব্যবস্থা নিতে পারে, তবে বলা যাবে প্রথমতঃ, একটা ন্যায় বিচার পাওয়া সম্ভব হয়েছে, ও দ্বিতীয়তঃ, এই ধরনের ব্যাপারকে ভবিষ্যতেও এড়ানো সম্ভব হবে, সঠিক উপায়ে. এক্ষেত্রে এটা একটা – ভারসাম্য বজায় রেখে নেওয়া সিদ্ধান্তই হবে".

    আইনের সংরক্ষণ এবং সরকারের সময় মতো ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া – এটাই আজ রাশিয়ার সমস্ত জনগণ একান্ত ভাবে চাইছেন.