রাশিয়ায় ১২ ডিসেম্বর সংবিধান দিবস পালিত হয়.ঠিক ১৭ বছর পূর্বে জাতীয় গনভোটের মাধ্যমে রাশিয়া সরকারের প্রধান আইনি নীতিমালা প্রনয়ন করা হয়.

রাশিয়ার দুর্দিনে নতুন এই বিধি-বিধান তত্কালিন সমাজ থেকে সহযোগিতা পায়.১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের  নাটকীয় ঘটনার পরই এই গনভোট অনুষ্ঠিত হয় যখন বিপক্ষ দল ও সরাকরি দল জটিল বিষয়ে পৌঁছায়.দেশ সেই সময় মত বিরোধের ক্লান্তি লগ্নে ও স্বদেশী যুদ্ধের দ্বার প্রান্তে অবস্থান নেয়.শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট ও সরকারি প্রশাসন চাইনি সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেয়ে  তা  সামাজিক ট্রাজিডিতে রুপান্তরিত হোক.সংবিধানের লেখকদের একজন ছিলেন লেভ শেইনিস.রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন,সংবিধান সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বস্ততা ও সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা অর্জন করে.লেভ শেইনিস বলেন-কোন প্রকার দ্বিধা ছাড়াই বলা যায় যে,সংবিধান যা গৃহিত হয়েছিল সম্প্রতি মস্কোতে ট্যাংকারের গোলা বারুদের প্রতিধ্বনির শব্দের ন্যয়.এটিই প্রধান নীতিমালার কাজে এগিয়ে নিয়েছিল.সমাজ তখন স্বদেশী যুদ্ধের একেবারে দ্বারপ্রন্তে অবস্থান করেছিল.গনভোটের মাধ্যমে সংবিধান তৈরী যা কোন এক উপায় এই ভয়াবহ বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে.সেই পরিস্থিতিতে সংবিধান হয়তবা খুব একটা ভাল হতে পারে নি.এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথিপত্র,জীবনের সাধারন গঠন প্রনালী.প্রেসিডেন্টের মনোযোগপূর্ন নির্দেশনায় রাষ্ট্র সেই সব বিষয়সমূহ সমাধান করে এবং সেই সব বিপদ এড়াতে সক্ষম হয় যা সেই সময় সমাজে ছিল.

১৯৯৩ সালের সংবিধান যা পূর্বের সব সংবিধান থেকেই আলাদা,প্রথমত তাতে জনগনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে.প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে তার অধিকার ও স্বাধীনতাকে.রাষ্ট্র এই সব সুনির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূকে বজায় রাখা ও নিরাপত্তা প্রদানে বদ্ধপরিকর,উল্লেখ করলেন লেভ শেইনিস.তিনি বলেন,সংবিধানের ১ম ও ২য় অনুচ্ছেদে বিশ্ব গনতন্ত্রের শীর্ষ পর্যায়ের উদাহরন রয়েছে.এগুলো হচ্ছে ‘সংবিধানের সাধারন পদ্ধতি’ এবং ‘জনগন ও নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা’.যা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিথযশা আইনবিদদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেয়েছে.

বিগত ১৭ বছরের মধ্যে শুধু ১ বারই সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন পরে.  ২ বছর পূর্বে প্রেসিডেন্ট ও সংসদের কার্যক্ষমতা যথাক্রমে ৬ ও ৫ বছরে বৃদ্ধি করা হয়.অধিকাংশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মতে,সংবিধানের কার্যকারিতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয় নি.সংবিধানে উল্লেখিত কার্যপ্রনালী যেমন-সামজিক,অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার এখন পর্যন্ত পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়ন করা হয় নি.এই বিষয়বলী যা আইন প্রয়োগকারি,নির্বাহক ও বিচার বিভাগীয় শক্তির সাথে বিভান্ন পর্যায়ে সম্পর্কযুক্ত এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা.সংবিধানের ভাষায় যা লেখা আছে তা নামকরন করা যায় ‘বৃদ্ধি পাওয়া’.

সামাজিক এক জরিপ কার্যে দেখা যায় যে, চারভাগের তিনভাগ রুশিদের সংবিধান স্মরণে আছে.এদের মধ্যে চতুর্থাংশ মনে করেন যে,সংবিধান দেশের জীবনযাত্রায় তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে না.একই সংখ্যার জনগোষ্ঠী মনে করেন যে,রাষ্ট্রে শৃঙ্খলতা বজায় রাখতেই প্রধান আইনসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে এবং তৃতীয়াংশ জানায় যে, সংবিধানের প্রধান কাজ হচ্ছে- নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা.