রাশিয়ার নোবেল বিজয়ীদের বই রাখার আলমারীতে এখন নোবেল পদক শোভা পাচ্ছে.রাশিয়ার পদার্থ ইন্সটিটিউটের সম্মান ডিগ্রী পাওয়া দুই নোবেল বিজয়ী আন্দ্রেই গেইম ও কনস্তানতিন নোভাসেলোভ সুইডেনের রাজা কার্ল ষোড়শের হাত থেকে নোবেল বিজয়ের সম্মনসূচক সনদপত্র ও স্বর্নের মেডেল গ্রহন করেন.পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা অতি সূক্ষ মজবুত ও পাতলা পদার্থ গ্রাফিন আবিষ্কারের জন্যই দুই বিজ্ঞানী নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হন.

বেশ কয়েকবছর ধরেই এই পদার্থ বিশ্বে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের বস্তু হিসাবে দৃষ্টি আকর্ষন করে.এর কার্যক্ষমতা অসাধারন.এর ভর খুবই কম—এর চেয়ে হালকা কোনো পদার্থ নেই.গ্রাফিনের কল্যানে ইলেকট্রনিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন টেলিভিশন ও মিউজিক্যাল প্লেয়ারের কার্যক্ষমতা পূর্বের থেকে অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং সিলিকন চিপের ব্যাবহারের মাধ্যমে টেলিভিশন ও মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেরও পরিবর্তন হবে.যন্ত্রসমূহের আকার অনেক ছোট হবে.

গ্রাফিনের আবিষ্কার যা শুধুমাত্র গেইম ও নোভাসেলোভকে অভিভূত করে নি তা অন্যান্য বিজ্ঞানীদেরকেও অবাক করেছে.তবে এই গ্রাফিন আবিষ্কার করতে মাত্র এক টুকরো কাগজ, একটা পেনসিল আর একটা স্কচ টেপই যথেষ্ট!.পেনসিলের (গ্রাফাইট) আঁকের ওপর স্কচ টেপ দিয়ে এমন একটা পদার্থ বের করলেন, যেটা পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র পদার্থ, সামান্য একটা পরমাণুর সমান-যার নাম দেওয়া হয়েছে গ্রাফিন.এর ভর খুবই কম—এর চেয়ে হালকা কোনো পদার্থ নেই.এই দুই পদার্থবিদদের সব গবেষনার পিছনেই রয়েছে কৌতূহলী চিন্তা  এবং যারা বিজ্ঞান থেকে অনেক দূরে তাদের কাছেও তা বোধগম্য.নোবেল বিজয়ী আন্দ্রেই গেইম বলেন,নিজের গবেষনার বিভিন্ন প্রতিবেদন সাইন্টিফিক পত্রিকায় প্রকাশ করা যা আমার কাছে একঘেয়মি মনে হচ্ছিল.আমরা ভাবলাম অন্য কোন উপায় কি কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব?.কম্পিউটারের মাউসের দ্বারা সম্ভব হয় নি,তবে পাত্রের পিছনেই ব্যাঙ ‘’উড়াল দিল’’.তবে আবিষ্কারের বিষয়ে যারা অনেক বেশী উত্সাহী তাদের পক্ষে সর্বদা এই ব্যাতিক্রমী পন্থা অবলম্বন করা সম্ভব না,তাই গ্রাফিন নিয়ে কাজ করার সময় বেশ কিছু  সমস্যায় পরতে হয়েছিল.গেইম বলেন-শুধুমাত্র গবেষনার কাজ লেখাই কঠিন না বরং তা প্রকাশ করাও কঠিন.এমনকি ‘প্রকৃতি’ ম্যাগাজিনে তা প্রকাশ করার পূর্বে ২ বার প্রত্যাখান করা হয়.এখান থেকে ফলাফল হচ্ছে,আপনাদের কেউ যদি কিছু দিন পূর্বে প্রকৃতি ম্যাগাজিনে অথবা অন্য কোন জনপ্রিয় সাইন্টিফিক ম্যাগাজিনে তা প্রকাশ না হয় ,তবে তা দেওয়া হবে না.হয়তবা এই কাজের নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে.

বলা বাহুল্য যে,আন্দ্রেই গেইমই শুধু নয় বরং তার সহযোগি নোভাসেলোভের গবেষনাও ছিল ব্যাতিক্রমী.সম্পর্কটা তাঁদের গুরু-শিষ্যের.আমরা চাচ্ছিলাম যে,অতিদ্রুত এই কাজ সমাপ্ত করতে এবং আমরা পুনরায় কাজ শুরু করেছি,বললেন আন্দ্রেই গেইম.তিনি বলেন,আমি চিন্তা করেছি যে,এবারে এবং এর পূর্বের নোবেল পুরষ্ককার হচ্ছে একটি ধাতুর অংশ বিশেষ.কিন্তু অন্য লোকেরা যাকে অনেক বেশী ছোট আকারে মর্যাদা দিয়েছে.ছোট গন্ডির মাঝে বসবাস করা যা এখন পর্যন্ত আমি শিক্ষা গ্রহন করি নাই.

নোবেল পুরষ্কারের ইতিহাসে এটাই প্রথম নয় যখন রুশি পদার্থ বিজ্ঞানীরা সর্বোচ্চ এই খেতাব অর্জন করেছে.চলতি বছরকে  বাদ দিলে তাদের সংখ্যা হচ্ছে ১০ জন.যাদের মধ্যে রয়েছে-লেভ লানদাউ,নিকোলাই বাসোব,আলেক্সান্দার প্রোকেরব,পেতার কাপিছা,জোরেস আলফেরব প্রমুখ.চলতি বছরে পদার্থে নোবেল পাওয়া দুই রুশি এই ‘তারকা’তালিকায় নেই.