১০ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ফুটবল দিবস. আজ এটা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা. আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন - ফিফা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ফুটবল বর্তমানে খেলে ২৫ কোটি লোক. বিশ্বে নথিভুক্ত রয়েছে ১৫ লক্ষ দল. ফুটবল যে একটা বিশ্বব্যাপী ঘটনা, তা প্রমাণ করে একটা বাস্তব তথ্য যে, ফিফা সংস্থার সদস্য দেশের সংখ্যা রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশের সংখ্যার চেয়েও বেশী.

    বোধহয়, প্রাচীন চিন দেশের লোকেরা, মিশরের লোকেরা, রোমের যোদ্ধারা, যাদের মনে করা হয় ফুটবল খেলার প্রচলন করেছিল বলে, এমনকি ইংরেজ লোকেরা, যারা উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এই খেলার নিয়ম কানুন তৈরী করেছিল, তারা কেউই কল্পনাও করতে পারে নি যে, স্রেফ চামড়ার বলে লাথি মারা বিশ্বের এত লোককে উত্সাহিত করবে. আজ ফুটবল ম্যাচের টেলিভিশন প্রচার বহু হাজার কোটি লোককে জড় করে. আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা বিশাল পরিমানে আয়ের উত্স হয়েছে. সেরা খেলোয়াড়েরা গগনচুম্বী অর্থ পাচ্ছেন শুধু ফুটবল খেলে, বহু লক্ষ শিশু সারা বিশ্বে আশা করতে শিখছে যে, প্রতিভা ও প্রয়াস থেকে সাফল্য লাভ করা সম্ভব.

    ফুটবল নিয়ে কম বই লেখা হয় নি. সমস্ত লেখকেরাই একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন: ফুটবলের বলের মধ্যে কি এমন যাদু রয়েছে? ফুটবল আজ অনেক দিন হল স্রেফ খেলা আর নেই, এই কথা বলেছেন বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক ও "ফুটবল – স্রেফ খেলা কি?" বই এর লেখক নিকিতা সিমোনিয়ান:

    "এটা রাজনীতি, শিল্প আর সারা বিশ্বের লোকেদের নিজেদের মধ্যে কথা বলার একটা সম্ভাবনা, এমনকি বন্ধুত্ব মূলক সম্পর্ক স্থাপনেরও উপায়. তাই ফুটবলের বিশ্বকাপ নিজেদের দেশে করা নিয়ে এত লড়াই শুধুশুধুই হয় না. আমি তো বলবো, যে কোন একটা জায়গায় এটাকে বলা যেতে পারে জাতীয় ধারণা. কারণ, যখন আমাদের দল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাতে ভাল খেলেছিল, তখন তাদের সাফল্যে উত্সাহিত হয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিল বহু লক্ষ লোক. মানুষ নিজেদের দেশের দলকে নিয়ে গর্বিত হয়েছিল. অন্য কোন রকমের খেলা ফুটবলের মতো, এত লোককে এক জায়গায় জড় করতে পারে না".

    রাশিয়া ২০১৮ সালে বিশ্বের সেরা চ্যাম্পিয়নশীপ আয়োজন করতে পারবে বলে আশা দিয়েছে. দেশের ১৩টি শহরে, যেখানে এই খেলা হবে, সেখানে ১৬টি সর্বাধুনিক স্টেডিয়াম তৈরী করা হবে. অনুশীলনের জন্য মাঠ তৈরী হবে, নতুন খেলা শেখানোর স্কুল হবে. অবশ্যই, আমাদের দেশে ফুটবলের উন্নতির জন্য বিশ্বকাপ একটা নতুন গতি দেবে, তাই নিকিতা সিমোনিয়ান বলেছেন:

    "রাশিয়ার ফুটবলের ভবিষ্যত আমি খুবই আশা নিয়ে দেখছি. কারণ আমাদের বিশ্বকাপ করতে দেওয়া হচ্ছে ২০১৮ সালে, স্বাভাবিক ভাবেই আমরা নতুন প্রজন্মের ফুটবল খেলোয়াড় তৈরী করতে বাধ্য, আর এখনই নতুন জাতীয় দল তৈরী করতেও হবে. এই প্রশ্ন সমস্ত বাচ্চাদের প্রশিক্ষকদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ. আমাদের দরকার হল, তাঁরা যাতে অল্পবয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে উঁচু দরের ফুটবলের কৌশলের সঙ্গে মানসিক-ইচ্ছা শক্তি সম্পন্ন গুণের বিস্তার করেন, যাতে তারা নিজেদের দেশের মর্যাদা সঠিক ভাবে রক্ষা করতে পারে".

    রাশিয়ার ফুটবল সংঘের নেতৃত্ব এখনই খেলোয়াড়দের সামনে এক অতুলনীয় লক্ষ্য স্থাপন করেছেন – ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জিততে হবে.