বৃহস্পতিবারে সারা বিশ্বে দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে. আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা “ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল” পরিচালিত এক জনমত বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে যে, বর্তমানের বিশ্বে দারিদ্রের পরেই সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল – দুর্নীতি.

   এই জনমত বিশ্বের ২৬টি দেশে নেওয়া হয়েছে. “ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল” সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতি চতুর্থ উত্তরদাতা বলেছেন যে, তিনি গত বছরে কোন না কোন সরকারি কর্মচারীকে ঘুষ দিয়েছেন. এখন সারা বিশ্বেই পুলিশ একের তৃতীয়াংশ ঘুষ নেয়, একের পঞ্চমাংশ নেয় – সেই সব দপ্তরের লোকেরা, যারা নানা ধরনের নথিভুক্ত করার ও অনুমতি দেওয়ার দলিল দেয়, বিশ্বের আইন রক্ষা ও বিচার দপ্তরের লোকেরা পায় সমস্ত ঘুষের অর্থের শতকরা চোদ্দ ভাগ. অর্ধেকের বেশী উত্তরদাতাই বলেছেন যে, তাঁদের দেশের সরকার গত এক বছরে আরও দুর্নীতি পরায়ণ হয়েছে. দুর্নীতি এক দুরারোগ্য কর্কট রোগের মত এক দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য দেশেও প্রসারিত হতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার জাতীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ পরিষদের সভাপতি কিরিল কাবানভ “রেডিও রাশিয়া”কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

   “দুর্নীতি দেশের সমস্ত পরিচালনা ব্যবস্থাকেই নষ্ট করে দেয়. বিশেষ করে বড় দেশগুলিতে এই ধরনের ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে খুবই বড় সঙ্কট উপস্থিত হতে পারে. এখানে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সম্পূর্ণ ভাবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রশ্নও, অর্থনীতিতে এর পরিনাম নেতিবাচক, শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এর ফল নেতিবাচক হয়ে থাকে. তাই এমনকি খুব বড় রকমের দুর্নীতি এমন কোন একটি দেশে থাকলে, যাদের বিশ্বের বাজারে ক্ষমতা আছে, তা আন্তর্জাতিক ভাবে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়”.

   রাশিয়ার জন্য দুর্নীতির সমস্যা বিগত কিছু কাল ধরে একটি অন্যতম সমস্যাতে পরিনত হয়েছে. দুর্নীতি প্রতিরোধে জাতীয় পরিকল্পনা নেওয়ার কাজ করা হয়েছে. রাশিয়াতে তদন্ত পরিষদ তৈরী করা হয়েছে, যা একমাত্র দেশের প্রধানের অধীনে এবং যাকে কাজ দেওয়া হয়েছে সরকারের পরিচালনার সমস্ত স্তরে দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই করার. এই বছরে দুর্নীতির অভিযোগে দশ হাজারেরও বেশী ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়েছে. কিন্তু এখানে প্রধান ফল হয়েছে যে, দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই এখন এক নতুন স্তরে উন্নত হয়েছে, আরও বলেছেন কিরিল কাবানভ:

   “বিগত বছরে আমরা দেখতে পেয়েছি যে, দুর্নীতির অভিযোগে ফৌজদারী মামলা আনা হয়েছে আরও অনেক বেশী লোকের বিরুদ্ধে. শেষ উদাহরণ তো একেবারে রাষ্ট্রপতির প্রশাসন বিভাগের কর্মীকে নিয়ে হয়েছে, সে ছিল নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের, যাদের কাজ সরকারি ক্রয়ের সঙ্গেই জড়িত. রাষ্ট্রপতি নিজে সেই সমস্ত দুর্নীতি গ্রস্থ বাজারের অংশের দিকে নির্দিষ্ট করে অঙ্গুলী নির্দেশ করেছেন, যা সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক আয়ের জায়গা, ও তিনি নিজেই নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন”.

   রাশিয়ার এই সমস্ত বদলের পিছনে বিদেশের বিনিয়োগকারীরা খুবই মনোযোগ দিয়ে দেখছেন. রাশিয়াতে বহু লাভজনক প্রকল্প থেকে তাঁদের দূরে সরে থাকার কারণ দুর্নীতির বিষয়ে আশঙ্কা. একই সঙ্গে বিগত কিছু সময় ধরে উদ্যোগ নেওয়ার ফলে পরিস্থিতিও পাল্টাচ্ছে. জনমত নিয়ে দেখা গিয়েছে যে, রাশিয়াতে যে সমস্ত বিদেশী কোম্পানী আজ কাজ করছে, তাদের মধ্যে শতকরা আশি ভাগ আগামী দুই তিন বছরে রাশিয়ার অর্তনীতিতে তাঁদের বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে.