মস্কো শহরে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্থান ও রাশিয়ার মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গুলির মধ্যে এক বৈঠকের পরে “চার দেশের সম্মিলিত মাদক প্রসার বিরোধ সংঘ” তৈরী করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে. নূতন এই দলকে এখনও “একসাথে কাজ করার” অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে, কিন্তু সেই বিষয়ে সহমত রয়েছে. এই সংঘের সমস্ত সদস্য রাশিয়ার মাদক নিয়ন্ত্রণ পরিষদের প্রধান ভিক্তর ইভানভের সঙ্গে একমত যে, আফগানিস্তান থেকে নির্গত মাদক বিপদের প্রতি ন্যাটো জোট খুবই নিষ্ক্রিয় অবস্থান নিয়েছে.

   রাশিয়ার মাদক নিয়ন্ত্রণ পরিষদের প্রধান যথেষ্ট কড়া সমালোচনা করেছেন ন্যাটো জোটের তরফ থেকে মাদক উত্পাদন ও তার প্রসার রোধের সমস্ত দায়িত্ব আফগানিস্তানের সরকারের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য. পরিষদের প্রধান ভিক্তর ইভানভ আরও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ১৯শে নভেম্বর লিসাবন শহরে ন্যাটো জোটের শীর্ষ বৈঠকের নেওয়া স্ট্র্যাটেজিতে আফগানিস্তানের মাদক বিপদ সম্বন্ধে স্থির করে সঠিক কার্যক্রম প্রকাশ করা হয় নি.

   ভিক্তর ইভানভ উল্লেখ করেছেন যে, ন্যাটো জোট আফগানিস্তানের সরকারকে একা মাদক সমস্যা সমাধান করতে বলেছে. পরিষদের প্রধান ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, কেন আফগানিস্তানের সরকারের পক্ষে এই কাজ সামর্থ্যের মধ্যে পড়ে না: কারণ এই দেশের সারা বছরের বাজেট ১২ হাজার কোটি ডলার, যখন মাদক পাচার চক্রের চাঁইরা আফগানিস্তানে উত্পন্ন আফিম থেকে বছরে ৬৫ হাজার কোটি ডলার আয় করছে. তার মধ্যে আবার আফগানিস্তান থেকে ইউরোপে প্রতি বছর চালান হয়ে আসছে আফিমের সঙ্গে তুলনা করলে প্রায় ৭০০ টনেরও বেশী মাদক দ্রব্য, রাশিয়াতে তা আসছে ৫০০ টনের বেশী.

   এই অবস্থায় চার দেশের একসাথে কাজ করার কাঠামো খুবই গুরুত্বপূর্ণ. “আমরা সকলেই একটি ফ্ল্যাটের ভিতরে থাকি, যার নাম - এশিয়া. আমরা প্রতিবেশী, একই ভৌগলিক অবস্থানের বাঁধনে বাঁধা. আমাদের মাদক বিরোধী পথে চলাকে আরও শক্তিশালী করার মতো ক্ষমতা আছে”, - উল্লেখ করেছেন ভিক্তর ইভানভ.

   চার দেশের বিশেষ সংস্থা গুলির মস্কোতে বৈঠকের পরে গ্রহণ করা যৌথ ঘোষণাতে বলা হয়েছে চার পক্ষের একসাথে কাজের কাঠামো তৈরীর কথা – “মধ্য এশিয়ার মাদক বিরোধী চতুর্সমন্বয়”. রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ও মাদক কারবার সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ ইগর খাখলভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

   “রাশিয়ার বিশেষ সংস্থা বিশ্বে মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে লড়াই করার মতো একটি সবচেয়ে সফল সংস্থা. সেই কারণে রাশিয়াই নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় উদ্যোগ নিয়েছে ও নেতৃত্ব দিয়েছে. চার দেশের পক্ষ থেকে নিজেদের কাজের বিষয়ে যোগসাধন করে তাকে শক্তিশালী করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের দেশ গুলির রাজনীতিকে এই মাদক পাচার চক্রের চাঁইদের সঙ্গে লড়াইতে যোগ দিতে সঠিক দিকে প্রভাবিত করার জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত, সন্দেহ নেই যে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের অন্যান্য দেশের সামরিক বাহিনীগুলি আফগানিস্তানে আজ ব্যাপক পরিমানে সামরিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সম্মুখীণ হচ্ছে. আর মাদক পাচারের সঙ্গে লড়াই সেই কারণে তাদের জন্য এই বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতে প্রাথমিক কর্ম হয়ে দাঁড়াচ্ছে না – আজকের দিনে আফগানিস্তানে আমরা যা ঘটছে তাই বলবো”.

   মস্কো শহরে চার দেশের মাদক বিরোধী সংস্থা গুলির বৈঠকের পরে যে দলিল আজ নেওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে, সমস্ত পক্ষই মাদক পাচারের পথ সম্বন্ধে একে অপরকে তাত্ক্ষণিক ভাবে জানাবে, সম্মিলিত ভাবে কাজ করার কাঠামো তৈরী করবে. তাছাড়া রাশিয়া আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তাজিকিস্থানের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গুলির জন্য কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবে.