অতি সমৃদ্ধ পারমানবিক জ্বালানী, রাশিয়াতে অন্যান্য দেশ থেকে প্রসার রোধের জন্য নিয়ে আসা যত রয়েছে, তা দিয়ে ১১২টি পারমানবিক অস্ত্র বানানো যেত. এই কথা ঘোষণা করেছেন “রসঅ্যাটমের” প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো.

২০০৪ সালে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী অন্যান্য দেশ থেকে অতি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়া নিয়ে আসে. এই দলিল অনুযায়ী রাশিয়া তার সহযোগী দেশগুলির অনুসন্ধান কাজের ল্যাবরেটরীতে ব্যবহৃত রিয়্যাক্টর গুলির জন্য নিজের দেশে বানানো জ্বালানী ব্যবহারের পরে ফিরিয়ে নেয়. অংশতঃ এর মধ্যে কিছু রিয়্যাক্টর রাশিয়ার প্রকল্প অনুযায়ী বানানো হয়েছিল. একই ধরনের প্রকল্পের কাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রতেও করা হয়ে থাকে. দুই বৃহত্তম পারমানবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে প্রাথমিক ভাবে এই চুক্তি করা হয়েছিল, যাতে অতি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোন ক্রমে বিশাল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো অস্ত্রের প্রসার রোধ করার রাজনীতির জন্য পরিপন্থী না হয়ে দাঁড়ায়. এই দলিল রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের নিরাপত্তা বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়ার প্রমাণ. নিরস্ত্রীকরণ, জ্বালানী শক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান আনাতোলি দিয়াকভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

   “এক সময়ে সোভিয়েত দেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতই রিয়্যাক্টর ও তার সঙ্গে জ্বালানী সরবরাহ করেছে. সোভিয়েত দেশ প্রায় তিরিশটি রিয়্যাক্টর তৈরী করেছিল, আর সেগুলির জন্য জ্বালানীও দিয়েছে. তার উপরে এই জ্বালানী ছিল খুবই বিশিষ্ট ধরনের, যা তৈরী করা হত অতি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থেকে. আর অতি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, এমন এক দ্রব্য, যা পারমানবিক বিস্ফোরক ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা সম্ভব. তাই বিগত কিছু কাল ধরে সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা থাকাতে ও পারমানবিক সন্ত্রাস রোধে, দুই দেশের রাষ্ট্রপতিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পারমানবিক জ্বালানী ফিরিয়ে নেবে ও রিয়্যাক্টর গুলিকে পুনর্নির্মাণ করে দেবে. যাতে এই রিয়্যাক্টর গুলিতে জ্বালানী হিসাবে অনতি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানী অতি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের জায়গায় ব্যবহার করা যায় ও প্রত্যেক দেশ, যারা এই জ্বালানী আগে পাঠিয়েছে, তারাই এগুলি ব্যবহারের পরে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে নিজের দেশে”.

   রাশিয়া ও আমেরিকার প্রকল্পে কাজ করছে ১৪টি দেশ, যাদের মধ্যে রয়েছে জার্মানী, পোল্যান্ড, চেখিয়া, সের্বিয়া, বেলোরাশিয়া ও অন্যান্য দেশেরা. চিন ও উত্তর কোরিয়া এই বিষয়ে কোনও উদ্যোগ দেখায় নি. আর ইরাক, জর্জিয়া ও অন্যান্য কয়েকটি দেশ থেকে পারমানবিক জ্বালানী আগেই নিয়ে আসা হয়েছিল. অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়া সের্বিয়া থেকে অতি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে আসবে বলে ঠিক করেছে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করেছে জার্মানী ও ফ্রান্স থেকে ফেরত নিয়ে আসবে. ২০১৬ সালের মধ্যে রাশিয়াতে ফেরত নিয়ে আসা হবে প্রায় আড়াই টন জ্বালানী. বর্তমানে নিয়ে আসা হয়েছে ৪৮২ কিলো অব্যবহৃত এবং ৮৯৪ কিলোগ্রাম ব্যবহার হয়ে যাওয়া ইউরেনিয়াম. অব্যবহৃত জ্বালানী ভবিষ্যতে রাশিয়ার বিদ্যুত শক্তি উত্পাদনের রিয়্যাক্টরের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, আর ব্যবহৃত - হয় আবার করে সমৃদ্ধ করা হবে, নতুবা তা সাময়িক বা স্থায়ী সংরক্ষণের জায়গায় রেখে দেওয়া হবে.

   পরিবেশ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা স্বত্ত্বেও যে সমস্ত জায়গায় পারমানবিক জ্বালানী সমৃদ্ধ করা হয় অথবা সংরক্ষণ করা হয়, সে সমস্ত অঞ্চলে ক্যান্সার বা অন্য পারমানবিক বিকীরণ থেকে হওয়া অসুখ সাধারনতঃ মানুষের যতটা হয়, তার থেকে বেশী দেখা যায় নি. বিজ্ঞানীদের করা বিশেষ অনুসন্ধানেই এই খবর পাওয়া গিয়েছে. এছাড়া ইউরেনিয়াম ব্যবহার থেকে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা মানুষের সামাজিক ও পরিবেশ সংরক্ষণের কাজের জন্যই ব্যবহার করা হয়ে থাকে. আর অনেক অর্থই বরাদ্দ করা হয়ে থাকে এই সমস্ত অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী পারমানবিক বিকীরণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা রক্ষার কাজের জন্য.