মেক্সিকোর কানকুন শহরে বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশের সরকারের নেতা ও পরিবেশ মন্ত্রীরা আগামী ৭ থেকে ১০ই ডিসেম্বর, এই চারদিন ধরে পরিবেশ সংক্রান্ত রাজনীতির প্রধান বিষয় গুলি নিয়ে একটা সহমতে আসার পথের সন্ধান করবেন. শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন গত এক সপ্তাহ ধরে তৈরী হয়েছে কার্যকরী সভার আলোচনার মধ্য দিয়ে, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে তাঁরা এখনও এমনকি বৈঠক শেষের ঘোষণা পত্রের খসড়া নিয়ে সহমতে আসতে পারেন নি.

    রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ইয়াকোভেঙ্কো রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন যে, আপাততঃ সহমতে আসার মতো একমাত্র সহমতে আসা যেতে পারে এমন সম্ভাব্য দলিল যা তৈরী রয়েছে, তা হল গত বছরে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশ গুলির প্রতিনিধিদের গৃহীত চুক্তি. তিনি বলেছেন:

    "কোপেনহেগেন শহরের দলিল যথেষ্ট ভারসাম্য যুক্ত, যেখানে বিভিন্ন দেশ ও দলের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে, যারা আজ এই কানকুন সম্মেলনে এসেছেন. ২০১০ সাল ধরে প্রায় ১৪০টি দেশ এই চুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে যোগদান করেছে ও নিজেদের পক্ষে সম্ভাব্য পরিবেশ দূষণ কমানোর মত তথ্য দিয়েছে অথবা সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানিয়েছে. এর অর্থ হল, দেশ গুলি নিজেদের তরফ থেকে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নিয়েছে, যাতে পরিবেশ দূষণ কমে. সুতরাং, যখন কোনও ধরনের আইনগত চুক্তি এখনও নেওয়া হয়নি, তখন দেশগুলি এই প্রশ্নের বিষয়ে কাজ করতে শুরু করেছে. রাশিয়া অবশ্যই এই কোপেনহেগেন চুক্তির সঙ্গে যোগ দিয়েছে. ২০২০ সালের মধ্যে স্থির করা হয়েছে ১৯৯০ সালের তুলনায় পরিবেশ দূষণ শতকরা ১৫ থেকে ২৫ ভাগ কমানো হবে. ১৯৯০ সালের দূষণকে বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্যই হিসাবের বছর ধরা হয়েছে".

    ২০১২ সালে কিয়োটো প্রোটোকলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, ২০০৪ সালে মস্কো এই দলিল গ্রহণ করেছিল. ফলে আন্তর্জাতিক ভাবে পরিবেশ দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যবস্থা চালু হতে পেরেছিল. যদি রাশিয়া এই দলিল গ্রহণ না করত, তবে তার বিশেষত্বের কারণেই দলিলটি থেকে যেত অপ্রয়োজনীয় কাগজ হয়ে. আজ রাশিয়া শুধু তার দায়িত্ব পালনই করে না, বরং এই দলিলে যা বলা হয়েছে, তার থেকে বেশী কাজই করে থাকে. আর তৈরীও রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিবেশ দূষণ কমানোর জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যেতে, এই কথাই বলেছেন আলেকজান্ডার ইয়াকোভেঙ্কো.

    "আমরা ঠিক করেছি যে, পরিবেশ দূষণের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দান কারী দেশ গুলিকে একটি আইন সঙ্গত দায়িত্বের কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে, এখানে প্রথমে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও রাশিয়া. মূল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে, নতুন চুক্তি সব দিক থেকে যেন ভেবে করা হয় – তার মানে হল তার মধ্যে যেন সমস্ত দেশই অংশ নিতে পারে ও সেই দলিল যেন সর্বজন গ্রাহ্য হয়. এখানে শুধু উন্নত দেশগুলি কি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য তাই শুধু লেখা হবে না, লেখা হওয়া উচিত্ উন্নতিশীল দেশগুলির দায়িত্বও".

    বহু দেশের সঙ্গেই রাশিয়ার এই ধরনের চিন্তাধারা মিলেছে, কোপেনহেগেন শহরে গত বছরে হয়ে যাওয়া সম্মেলনে বিশাল সংখ্যক বিতর্কের মতও রয়েছে, যার এখনও কোন সমাধান হয় নি. আর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না হলে কোন সিদ্ধান্তে আসা সম্ভবও নয়. শুধু আশাই করা যেতে পারে যে, ১০ই ডিসেম্বর সব পক্ষ অন্ততঃ এমন কোন একটা দলিল গ্রহণ করতে পারবে, যার পর বলতে হবে না যে, কানকুন সম্মেলন বৃথা গেল.