ইরান ঘোষণা করেছে যে, নিজেরাই প্রথম এক সারি ঘনীভূত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাউডার বানাতে সক্ষম হয়েছে, যা পরবর্তী পর্যায়ে আরও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরী করতে সাহায্য করবে. তথাকথিত "হলুদ কেক" ইস্পাহান শহরের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কারখানাতে তৈরী হয়েছে. ইরানের পারমানবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলি আকবর সালেখি এই মর্মে জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে ঘোষণা করেছেন.

    এই ঘোষণা তেহরান থেকে ধ্বনিত হয়েছে ১৫ মাস ধরে বন্ধ থাকা ছয় দেশের (রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পাঁচটি দেশ এবং জার্মানী) সঙ্গে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ঠিক আগেই. সোমবার থেকে জেনেভা শহরে এই আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার কথা. ২০০৩ সাল থেকেই ছয়টি দেশ আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সাথে একজোট হয়ে ইরানকে পারমানবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা বন্ধ করতে বলছে, যা পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ ও প্রসারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যাচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমের অন্যান্য দেশ তেহরানের নামে অভিযোগ করেছে যে, তারা শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার আড়ালে পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করছে. তেহরান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ঘোষণা করছে যে, তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা শুধুমাত্র নিজেদের দেশের বিদ্যুত শক্তির প্রয়োজনেই করা হচ্ছে. সালেখি ঘোষণা করার একদিন আগে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধান প্রতিনিধি সৈয়দ ঝালিলি, যিনি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব ও বটে, তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আগামী আলোচনা ইরানের পক্ষ থেকে দেখা হয়েছে সহযোগিতা ও পারস্পরিক ভাবে একত্রে কাজ করার জন্য একটি পদক্ষেপ হিসাবে. কিন্তু ইরান এই আলোচনাতে কোনভাবেই নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনা করার অধিকার বাস্তবায়ন করা নিয়ে আলোচনা করতে রাজী নয়, যে কারণে এই সমৃদ্ধ ঘনীভূত ইউরেনিয়াম তৈরী করা হয়েছে. বিশ্বকে উদ্বিগ্ন করার মতো সাফল্যের এই ঘোষণা ঠিক সময়ে করা হয়নি. এই রকম মনে করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী বরিস দোলগভ, তিনি বলেছেন:

    "আমার মনে হয়েছে যে, ইরানের তরফ থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে কিছু অংশে ছয় দেশের প্রতিনিধিদের উপরে একটা চাপ সৃষ্টি করার জন্যই. ইরানের এই প্রচেষ্টা আমার মতে আগে থেকে একটা আলোচনার পরিকল্পনা ঠিক করার জন্য বা বলা যেতে পারে একটা নির্দিষ্ট রকমের আলোচনার ছাঁচ বানানোর জন্য. যদিও অন্য দিক থেকে দেখলে, ইরান ঘোষণা করছে যে, তারা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটা আপোশ সিদ্ধান্তে আসতে চায়, আর সহযোগিতা করতে চায়. তাও আমার মনে হয়েছে যে, ইরানের পক্ষ থেকে এই উল্টো পথে হাঁটা পরবর্তী আলোচনার সময়ে ইতিবাচক কোন প্রভাব ফেলবে না. খুব সম্ভবতঃ এর ফলে ছয় দেশের পক্ষ থেকে আরও কঠিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীণ হবে".

    অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা, ইরানের আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে উদ্যোগ কে ইতিবাচক ভাবে নিলেও, আগামী আলোচনাতে কোন বড় মাপের সাফল্যের আশা করছেন না. কারণ তার থেকে কোন নির্দিষ্ট ফল হওয়ার আশা দেখছেন না. কেউই কোন স্বপ্ন দেখছে না আর সকলেরই একটা কঠিন বাস্তব ধারণা হয়েছে যে, আলোচনা যে করেই হোক, আবার শুরু করার দরকার আছে ও এটাকে এই কানা গলি থেকে বার করতেই হবে. বিশেষজ্ঞরা অংশতঃ মনে করেছেন যে, সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হবে, যাতে আলোচনা থেমে থাকার পরে নতুন করে শুরু হয়েই, তা শেষ আলোচনাতে পরিনত না হয়.