রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও পারমানবিক অস্ত্রহ্রাস সংক্রান্ত স্টার্ট চুক্তি বাস্তবায়নে রাশিয়ার পদক্ষেপ যা চলতি সপ্তাহে প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিনত হয়েছে.রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেব গত ৩০ নভেম্বর জাতীয় সভার বক্তৃতায় এই সমস্যাবলীতে দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন.রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিনও এই বিষয়ে আলোচনা আব্যাহত রাখেন,যিনি এর তিনদিন পরই মার্কিন প্রতিথযশা সাংবাদিক লারি কিংকে সাক্ষাত্কার দিয়েছেন.

রাশিয়া ও ন্যাটো অবশ্যই মিলিতভাবে পৃথিবীকে ও ইউরোপে নিরাপত্তা বজায় রাখবে.জাতীয় সভার বক্তৃতায় দিমিত্রি মেদভেদেব বলেন,নিরাপত্তা রক্ষায় এটি হচ্ছে পারষ্পরিক সহযোগিতা ও উভয় পক্ষের বিশ্বস্ততা.

প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন যে,লিসবনে রাশিয়া-ন্যাটো সম্মলনে এই প্রস্তাবগুলি যা ইউরোপে রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকরের জন্য আহবান জানানো হয়েছে.তা অবশ্যই রাশিয়ার ও ন্যাটোভুক্ত দেশসমূহের স্বার্থ বজায় রাখতে হবে এবং একই সাথে রকেট হামলা থেকে ইউরোপের প্রতিটি দেশকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করবে.এছাড়া এ সংক্রন্ত বিভিন্ন জটিল প্রশ্নের সমাধানে মিলিত আলোচনা শুরু হয়েছে,নিসন্দহে তা ইতিবাচক উন্নয়ন.

‘আমি খোলামেলাভাবেই বলতে চাচ্ছি যে,আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমাদের যে কোন একটি পথ বেছে নিতে হবেঃআমরা রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সম্মতি থেকে পূর্ণমাত্রার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সৃষ্টি করবো অথবা নতুন রনশক্তির দৌড় শুরু হবে’.

অন্যদিকে পারমানবিক অস্ত্রহ্রাস সংক্রান্ত স্টার্ট চুক্তি যা দুই প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেব ও বারাক ওবামা চলতি বছরের এপ্রিলে স্বাক্ষর করেন.বর্তমানে তা এখন পর্যন্ত মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদন দেওয়া হয় নি.দেশটির রিপাবলিকান পার্টির নেতারা মনে করেন যে,চুক্তিপত্রে মার্কিনিদের থেকে রুশিদের বেশি স্বার্থ প্রদান করা হয়েছে.এই মন্তব্য রাশিয়ার সরকারকে মোটেই উদ্বিগ্ন করছে না.অনেক বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন যে,এই সময় চুক্তিটি ছিল অপেক্ষাকৃত অনেক বেশী জটিল.পুতিন দৃড়তার সাথে বলেন,রাশিয়া কাউকেই হুঁমকি দেওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছে না,তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন স্টার্ট চুক্তি অনুমোদন না করে তাহলে এর উত্তরের ব্যবস্থা ও নিজের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য মস্কোকে বাধ্য করবে.

‘যদি আমাদের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া যায় এবং উপরন্তু আমাদের সীমান্তের কাছে ৩য় প্রকারের কোন ভূমির অন্তর্গত হয়ে বাড়তি উত্তেজনা দেখা যায় তাহলে রাশিয়া বিভিন্ন উপায়ে নিজের নিরাপত্তা প্রদান করতে বাধ্য থাকবেঃনতুন উত্তেজনার বিরুদ্ধে নতুন ক্ষেপোনাস্ত্র প্রতিস্থাপন করবে যা আমাদের দেশের সীমান্তের কাছে তৈরী করা হবে ও পারমানবিক রকেট প্রযুক্তির নতুন পন্থা সৃষ্টি করা হবে.এসব আমাদের বাছাই নয়.আমরা তা চাইও না’.  

নিরাপত্তা সংক্রান্ত সার্বজনীন সমস্যার নিচে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধানের মিলিত কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে.পুতিনের ভাষায়,রাশিয়া চাইলে ন্যাটোর সাথে তথ্যের আদান-প্রদান ও অভিন্ন নিয়ন্ত্রন পদ্ধতির জন্য ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারত.এক্ষেত্রে রয়েছে শুধুমাত্র একটি শর্ত,সহযোগি রাষ্ট্রসমূহকে অবশ্যই রাশিয়ার আগ্রহের বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে.তা না হলে এই প্রচেষ্টা সম্ভব না.

‘যদিও আমরা আপনাদের সীমানায় রকেট নিয়ে অগ্রসর হবো না.কিন্তু আপনারা আমাদের সীমান্তের কাছে রকেট স্থাপনের চিন্তাভাবনা করছেন.আমাদেরকে বলছে যে,আমরা এটি করব তার মানে হচ্ছে,আপনারা তা করবেন, যার মাধ্যমে নিজের নিরাপত্তা দিতে পারেন.উদাহরনস্বরুপ বলা যায় যে,ইরানের পারমানবিক হুঁমকি কিন্তু তেমন কোন হুঁমকি আমরা এখনও দেখছি না.যদি আগামী ২০১৫ সাল নাগাদ আমাদের সীমান্তের কাছে রাডার ও রকেটবিরোধী প্রযুক্তি স্থাপন করা হয় তাহলে তা আমাদের পারমানবিক কার্যের বিরুদ্ধে কাজ করবে এবং তা অবশ্যই আমাদের উদ্ধিগ্ন করছে’.

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে,মস্কো ও ব্রাসেলস কিভাবে রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ঐক্যমতে পৌঁছাবে মূলত ভবিষ্যতে রাশিয়া ও ন্যাটোর সম্পর্ক তার ওপরই নির্ভর করবে.