কানকুনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের  বিরুদ্ধে একসারি চুক্তিপত্র স্বাক্ষর হতে পারে.সম্মেলনে অংশগ্রহনকারি  প্রাকৃতিক পরিবেশ তহবিল ‘জলবায়ু ও জ্বালানী’ প্রকল্পের পরিচালক আলেক্সেই কাকোরিন রেডিও রাশিয়াকে এ সংবাদ জানিয়েছেন.মেক্সিকোর স্বাস্থকরস্থান কানকুনে জলবায়ু সম্মেলনে মোট ১৯৪টি দেশের প্রতিনিধিরা একটি প্রধান প্রশ্নের সমাধানে মিলিত হয়েছেন এবং তা হল কিভাবে পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি মন্থর করা যায়.

কানকুনে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন গত ২৯ নভেম্বর শুরু হয়েছে. সম্মেলনে  বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি রাজনীতিবিদরাও অংশ নিয়েছে.তবে আগামী ৭ ডিসেম্বর অংশগ্রহনকারি দেশসমূহের শীর্ষনেতা ও মন্ত্রীরা যোগ দিবেন.

সম্মেলনে তথ্য পর্যালোচনায় আগামী পৃথিবার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়.উল্লেখ করা যায় যে,অধিকাংশ জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা অস্বাভাবিক  উষ্ণায়নের জন্য মানব ঘটিত কারণসমূহকে দায়ী করেন এবং তা হল-শিল্প কারখানার বর্জ,বসত বাড়ীর

উষ্ণতা ও যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া.বিশেষজ্ঞদের মতে,শুধুমাত্র এই কারণেই জলবায়ু উষ্ণতার পর্যবেক্ষনের ইতিহাসে বিগত দশবছর তা ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম দশক.যদি কোন প্রকার কার্যক্রম গ্রহন না করা হয় তবে ২০১০ সালের অস্বাভাবিক উষ্ণতা যা আগামী ১০ বছর পর আমাদের মনে পরবে.

কিন্তু মনে করা হচ্ছে যে,উষ্ণতাই শুধুমাত্র ভয়াবহ নয়.পৃথিবীর মহাসমুদ্রের জীবনও রয়েছে ঝুঁকির মুখে.বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে,একুশ শতকের শেষ অবদি সমুদ্রের পানিতে লবনাক্তের পরিমান অনেক বৃদ্ধি পাবে যা স্বভাবতই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক জীবের বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পরবে.বিশ্বের প্রায় ১ মিলিয়ন জনসংখ্যাকে এ বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে যাদের খাদ্যের একমাত্র উত্স হচ্ছে এই সমুদ্র.

 আজকের এই দিনে পরিবেশে বিষাক্ত ধোঁয়ার পরিমান হ্রাস করার জন্য অন্যতম একটি নথিপত্র হচ্ছে কিওতস্কি প্রোটোকল.রাশিয়াসহ বিশ্বের ১৮১টি দেশ ঐ নথিপত্রে স্বাক্ষর করেছে.যদিও আগামী ২০১২ সালে এই ঘোষণাপত্রের সময়সীমা উত্তীর্ন হবে এবং নতুন চুক্তিপত্রের জন্য অংশগ্রহনকারীরা এখন পর্যন্ত ঐক্যমতে পৌছাতে পারে নি.কিওতস্কি প্রোটোকলের সময়সীমার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিপক্ষে অবস্থান করছে জাপান.মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই সারিতে রয়েছে.তা সত্তেও রাষ্ট্রসমূকে কোন একটি বিষয়ে ঐক্যমতে পৌছানো দরকার.সেই দৃষ্টিকোন থেকে স্বল্পমেয়াদী কোন আপোষ যা জলবায়ু বিষয়ক একসারি চুক্তিপত্রে পরিনত হতে পারে,এমনই মন্তব্য করেছেন আলেক্সেই কাকোরিন.তিনি বলেন-‘আলোচনা একই সময় বেশ কয়েকটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং এই জায়গায় একসারি চুক্তিপত্র অনুমোদনের বেশ সম্ভবনা রয়েছে.এমন চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে সবার প্রথম উন্নয়নশীল দেশসমূহকে এগিয়ে আসতে হবে.সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আমি ইতিবাচক হিসাবেই উল্লেখ করতে চাই.যদিও বিষয়টি পরিষ্কার যে,আগামী কয়েক বছরে নতুন প্রোটোকল আমাদের তৈরী হচ্ছে না’.বললেন,আলেক্সেই কাকোরিন.

চুক্তিপত্রের প্রক্লপের কাজ ইতিমধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞরা চলতি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তা অব্যহাত রাখবেন.সময় গননা করেই চুক্তিপত্র তৈরী করা হচ্ছে যা কানকুনে রাষ্ট্রসমূহের প্রধান ও মন্ত্রীরা আগমন করলে যেন তারা সরাসারি আলোচনায় অংশ নিতে পারেন.