ইতিহাসে প্রথমবার রাশিয়াতে বিশ্বকাপ ফুটবল হবে, ২০১৮ সালে দেশে তা হতে চলেছে. যদিও রাশিয়ার আবেদনের জয় ছিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ও বিশ্বের ফুটবল সংস্থা গুলির ফেডারেশন সদস্যদের বেশীর ভাগই এই আবেদনকে তাদের মনোনয়ন দিয়েছেন, তবুও শেষের সোজা দৌড় টুকু মনে করিয়ে দিয়েছিল যেন হার্ডলস রেস হচ্ছে, পরিস্কার নতুন ওঠা ঘাসের জমিতে হালকা ছুট নয়. যারা হেরে গিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছে ফুটবলের জনক দেশ – ইংল্যান্ডের লোকেরা, তারা জ্যুরিখে এসেছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, উত্তরাধিকারী রাজ পুত্র প্রিন্স উইলিয়ামসের মতো ব্যক্তিত্বদের সমর্থন হিসাবে উপস্থিতি নিয়ে. তাদের পরেই হেরে গিয়েছে বর্তমানের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন, যারা পর্তুগালের সঙ্গে একসাথে বিশ্বকাপ আয়োজনের আবেদন করেছিল, আর ছিল বেলজিয়াম ও হল্যান্ড, যাদের তরফেও ছিল যৌথ আবেদন.

    "আমি সকলকে এই দারুণ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি রাশিয়া ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার পেয়েছে" – রাশিয়ার নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ঘোষণা করেছেন. কিন্তু এটা শুধু প্রথম পদক্ষেপ. তাঁর কথামতো, এরপর থেকে আমাদের খুবই গুরুত্ব দিয়ে তৈরী হতে হবে, তিনি বলেছেন:

    "আমাদের অবশ্য তার মধ্যে ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিক আয়োজনের অভিজ্ঞতা থাকবে, কিন্তু তা হলেও এটা একটা বিরাট ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, খুবই কঠিন প্রতিযোগিতা. যারা এই খেলাধূলার জন্য পরিকাঠামোর আয়োজন করবেন তাদের যেমন তৈরী হতে হবে, তেমনই আমাদের ফুটবল খেলোয়াড়দেরও তৈরী হতে হবে. আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে আপাততঃ কোন দারুণ ফল নিয়ে গর্ব করতে না পারলেও, যেহেতু এবারে আমাদের ভাগ্যে বিশ্বকাপ মস্কোতে আয়োজন করার সাফল্য মিলেছে, তাই সেটা আমাদের জাতীয় দলকেও অনেক কিছু বিষয়ে দায়িত্বশীল করে তোলে, আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের সমস্ত ছেলেরা, সমস্ত ফুটবল খেলোয়াড়, তাদের সমস্ত শক্তি দেবে, যাতে মস্কোতে চমত্কার ফল করতে পারা যায়".

    রাশিয়ার আবেদন জয়ী হওয়ার খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী জ্যুরিখে রওয়ানা হয়েছেন, যেখানে ফল বের হওয়ার পাঁচ ঘন্টা পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন যে, "২০১৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করার মতো আমাদের দেশের সমস্ত কিছুই আছে. এখনও অনেক কাজ করতে হবে – এটা নতুন স্টেডিয়াম তৈরী, বিমান বন্দর তৈরী, হোটেল তৈরী, রাস্তাঘাট করা, কিন্তু এটাই আমাদের আবেদনকে বেশী গুরুত্ব দিয়েছে, এর অর্থ হল বিশ্ব ফুটবলের উন্নতি" – ভ্লাদিমির পুতিন এতে নিজে বিশ্বাস করেন ও তাই বলেছেন:

    "আমি মনে করি যে, আমরা আমাদের আবেদনের স্বপক্ষে সঠিক রাস্তাই নিয়েছিলাম আর আমরা এই ধারণা থেকে তৈরী হয়েছিলাম যে, এটা বিশ্ব ফুটবল সংস্থাগুলির সংঘের দর্শনের সঙ্গে মেলে, যাতে বলা হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সীমানা নতুন এলাকা ও নতুন দেশের সংযোজনে প্রসারিত করা. আর পূর্ব ইউরোপে কোন দিনও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ হয় নি. তাছাড়া আমরা কাজানে ইউনিভার্সিয়াডের আয়োজন করছি, সোচীতে শীত অলিম্পিকের ব্যবস্থা করছি – এর মধ্যেই দেশের দুটি জায়গায় বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে, আর আমি মনে করি যে, এই সমস্ত বিষয়কেই নির্বাচনের সময়ে গণ্য করা হয়েছে. প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী স্টেডিয়াম ও তার সংলগ্ন পরিকাঠামো তৈরী করতে আমাদের খরচ হবে তিনশ হাজার কোটি রুবল, এটা প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার – দক্ষিণ আফ্রিকাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করতে এই রকমই খরচ হয়েছিল".

    প্রতি চার বছর বাদে হওয়া প্রধান ফুটবলের উত্সব রাশিয়ার চোদ্দটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ও প্রায় সারা ইউরোপীয় এলাকা জুড়েই হতে চলেছে. মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ, সোচী ও কাজানের নতুন স্টেডিয়াম ছাড়াও ১০টি শহরে একেবারে ফাঁকা মাঠ থেকে ও নতুন করে কাঠামো পাল্টে স্টেডিয়াম বানানো হবে. সামারা শহরে যেমন ঠিক করা হয়েছে ১৮ সালের ফুটবলের জন্য সমস্ত স্টেডিয়াম সহ পরিকাঠামো তৈরী করা হবে ভোলগা নদীর মাঝে দ্বীপের মধ্যে. বিশ্বকাপের আগে রাশিয়াতে সব মিলিয়ে ১৬টি নতুন স্টেডিয়াম তৈরী করা হবে.

    এখানে যা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, তা হল সমস্ত শহর, যেগুলিতে ফুটবলের বিশ্বকাপ হবে, তা সরাসরি বিমান ও রেল পথে জুড়ে দেওয়া হবে. আর যারা দল গুলির সমর্থক তারা এই যোগাযোগ ব্যবস্থা বিনা পয়সায় ব্যবহার করতে পারবে – সাংবাদিক সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘোষণা করেছেন. ফুটবল প্রেমীদের আরও একটি বাড়তি বোনাস মিলবে – তারা রাশিয়াতে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে আসতে পারবেন বিনা ভিসাতেই.

    যে কোন নির্বাচনই ঐতিহাসিক, আর শুধু নির্বাচন বিষয়টাই ইতিহাস গড়ে – রাশিয়ার বর্তমানের আবেদনে এই বাক্যটি উচ্চারিত হয়েছে. জ্যুরিখে বিজয়ের পর একটা সুযোগ এসেছে প্রমাণ করে দেওয়ার যে, রাশিয়া সবচেয়ে উঁচু স্তরে বিশ্বমানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারে.