আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও রুশ প্রশাসনের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বে প্রথম ভরসাযোগ্য কম সমৃদ্ধ পারমানবিক জ্বালানীর ভাণ্ডার রাশিয়াতে তৈরী করা হয়েছে. রাশিয়ার সাইবেরিয়ার শহর আঙ্গারস্কে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে এই ভাণ্ডার রাখা হয়েছে.

এই কেন্দ্রের পরিষেবা নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সদস্য দেশ গুলি যোগ্য, যাদের পারমানবিক জ্বালানী সরবরাহের সমস্যা রয়েছে. বর্তমানের বিশ্বে পারমানবিক শক্তি ব্যবহার সক্রিয় ভাবে বেড়ে চলেছে, বেশ কিছু দেশ এই শক্তির ক্ষেত্রে উন্নতি করতে চায়. বর্তমানে কাজ করছে এরকম রিয়্যাক্টরের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যত মূল্যায়ণ করে দেখা গিয়েছে যে, ২০৩০ সালে তা ১০০০ ছাড়িয়ে যাবে. বর্তমানে নিজেদের দেশে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে তুরস্ক, ইজিপ্ট, সৌদি আরব ইত্যাদি দেশ গুলি, আগামীতে এক সঙ্গে যুক্ত হবে আরও বহু দেশ. এর মানে হল, পারমানবিক জ্বালানী আবর্তের পরিষেবা পাওয়ার চাহিদা দ্রুত বাড়বে এবং তার সঙ্গে বাড়বে জ্বালানীর চাহিদাও. এটি আন্তর্জাতিক পারমানবিক জ্বালানী ভাণ্ডার তৈরী করার একটি কারণ. পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার আওতার মধ্যে সমস্ত দেশকে জ্বালানী আবর্তের বিষয়ে সমান পরিষেবা পেতে সাহায্য করবে এই ভাণ্ডার. বহু দেশের আশঙ্কা দূর করতে পেরেছে এই ভরসাযোগ্য পারমানবিক জ্বালানী ভাণ্ডার, যারা মনে করেছিল যে, রাজনৈতিক কারণে তাদের পারমানবিক জ্বালানী পেতে বাধা দেওয়া হবে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার সামাজিক-রাজনৈতিক অনুসন্ধান কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“বোঝা দরকার যে, এই ভাণ্ডার তৈরী করা হয়েছে রাশিয়ার অর্থে, রাশিয়া এর জন্য বিনিয়োগ করেছে. রাশিয়া বলছে: জ্বালানী রয়েছে, এই জ্বালানী আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না, করে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা. যদি আপনাদের সরবরাহ নিয়ে কোন সমস্যা হয়, তবে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দ্বারস্থ হোন, আর সংস্থা তা সরবরাহ করার অনুমোদন দেবে”.

একই সময়ে বাস্তবে বিশ্বের পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে উন্নতি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারমানবিক শক্তির সামরিক ব্যবহার বন্ধ করার পথে. যে সমস্ত দেশের পারমানবিক অস্ত্র নেই, তারা যে শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি ব্যবহার থেকে সরে গিয়ে তা তৈরী করতে পারে, এই আশঙ্কা কম নয়. লোভ খুবই বেশী ও এর বাধার দেয়ালও খুবই ভঙ্গুর. শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি প্রযুক্তি ও পারমানবিক অস্ত্র প্রযুক্তির মধ্যে দূরত্ব বেশী নয়, তাই বিশেষজ্ঞ বলেছেন:

“এখানে ঠিক হত, যদি যে সমস্ত দেশ পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করছে শান্তিপূর্ণ কারণে, তারা যদি ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধ করার মত খুবই সপর্শকাতর প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে নিরস্ত হতো. কারণ তারা পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রের জ্বালানী তৈরী করার লক্ষ্য দেখিয়ে সম্পূর্ণ পারমানবিক সমৃদ্ধ করার শৃঙ্খল তৈরী করে পরবর্তী কালে পারমানবিক বোমা বানানোর পথ ধরতে পারে”.

বিশ্বের ভাণ্ডারে ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন রিয়্যাক্টরের নতুন করে জেবালানী ভর্তি করার মতো যথেষ্ট পরিমানে জ্বালানী ইউরেনিয়াম হতে হবে. সাধারন রিয়্যাক্টর গুলির ক্ষমতা এই রকম, যা বর্তমানে রাশিয়া বা বিদেশের পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র গুলিতে চলছে. ভরসাযোগ্য ভাণ্ডারের বর্তমান পরিমান ১২০ টন. যখন তা দরকার পড়বে, তখন এই জ্বালানী বাজার দর অনুযায়ী দামে সরবরাহ করা হবে.