রাশিয়া ও পশ্চিমের দেশ গুলি বর্তমানে এক সঙ্কটের সামনে উপস্থিত: হয় রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে সম্মিলিত ভাবে তৈরী করার চুক্তি করতে হবে, অথবা নূতন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে. এই সাবধান বাণী শুনতে পাওয়া গিয়েছে জাতীয় সভার উদ্দেশ্যে দেওয়া রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের ভাষণে. কিন্তু এই সঙ্কেত প্রাথমিক ভাবে দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার সীমান্ত পার করেই.

    লিসাবন শহরে রাশিয়া-ন্যাটো জোটের শীর্ষ বৈঠকে দিমিত্রি মেদভেদেভ বুঝতে দিয়েছিলেন যে, রাশিয়ার ইউরোপের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ শুধু সহকর্মী দেশ হিসাবেই হতে পারে: "কোন অন্য রকমের অংশগ্রহণ, যাকে বলা যেতে পারে আসবাব পত্রের মত, বা লোক দেখানোর জন্য, হতেই পারে না". হয় মস্কো সম্পূর্ণ ভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য দায়িত্বের ভাগ নেবে, তথ্য বিনিময় করবে ও যে কোন রকমের সমস্যা উদয় হলে, তার জন্য একসাথে সমাধান তৈরী করবে, অথবা এই প্রক্রিয়াতে একেবারেই অংশ নেবে না. রাষ্ট্রপতি তখন উল্লেখ করেছিলেন যে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে রাশিয়া বাধ্য হবে আত্মরক্ষা করতে.

    জাতীয় সভাতে ভাষণ দিতে গিয়ে মেদভেদেভ আরও কড়া করে বলেছেন:

"রাশিয়া একসাথে সেই সমস্ত দেশের সঙ্গে, যাদের এই বিষয়ে আগ্রহ আছে, রকেট প্রসার প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্ত করার জন্য কাজ করতে চায়. লিসাবন শহরে রাশিয়া-ন্যাটো জোটের শীর্ষ বৈঠকের সময়ে আমি নিজের ইউরোপের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্বন্ধে ধারণা ভাগ করেছি, যেখানে রাশিয়া ও উত্তর অতলান্তিক জোটের ক্ষমতা একত্রিত করার কথা রয়েছে. এর মধ্যেই এই বিষয় সংক্রান্ত সমস্ত কিছু নিয়ে একসাথে প্রশ্নাবলী তৈরী করার কাজে শুরু করানো হয়ে গিয়েছে. এটা, অবশ্যই একটা ইতিবাচক ব্যাপার. কিন্তু আমি খোলাখুলি বলতে চাই, যে আগামী দশকে আমাদের কাছে শুধু একটাই বিকল্প রয়েছে: হয় আমরা রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে একটা সহমতে পৌঁছতে পারব ও সহযোগিতার জন্য একটা সম্পূর্ণ যৌথ ব্যবস্থা তৈরী করতে পারব, অথবা নূতন অস্ত্র প্রতিযোগিতা করার আরও একটা পাক শুরু হবে. আর আমাদের নতুন আঘাত হানার ব্যবস্থা করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে", বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ.

বোঝাই যাচ্ছে যে, এই দৌড়ে কোন বিজয়ী হতে পারে না. আর মস্কো এই ধরনের পট ভূমিকার দিকে যেতে চায় না. মস্কো – সেই ধরনের ব্যবস্থা তৈরী করার পক্ষে, যা বাইরের সম্ভাব্য আঘাত থেকে রক্ষা করবে, আর সহকর্মীদের দিক থেকে কোন রকমের আঘাত একেবারেই সম্ভব হবে না. এই কারণেই মস্কো এলাকা ভাগ করে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করার কথা বলেছে. অর্থাত্ চুক্তির প্রত্যেক অংশীদার নিজেদের এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে ও নিজেদের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা করবে. আর এই সমস্ত ব্যবস্থা গুলির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র গুলি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করবে.

ন্যাটো জোটে এই ধারণার প্রতি উদাসীনতা দেখানো হয়েছে. সমস্যা হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় এক ঢিলে দুটি পাখী মারতে, এই কথা মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের সহকারী ডিরেক্টর এবং সামরিক বাহিনী সংস্কার সহায়তা ফাণ্ডের প্রেসিডেন্ট পাভেল জোলোতারিয়েভ বলেছেন:

"রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৈরী করছে, তার দুটি লক্ষ্য থাকতে পারে. যেটা ঘোষণা করা হয়েছে, অর্থাত্ ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ করা. আর দ্বিতীয় – ভবিষ্যতের সাক্ষাত্সমর বিহীণ যুদ্ধে একটা বাড়তি সুবিধা পাওয়া. এই দুটি লক্ষ্য এক করা বাস্তবে সম্ভব নয়. এর প্রথমটির জন্য চাই মস্কোর সঙ্গে বিনা শর্তে সহযোগিতা. ইরান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে রকেট আঘাত হানার পথ শুধু রাশিয়ার উপর দিয়েই হতে পারে. আর একসাথে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী না করলে এই সমস্ত রকেটকে ধ্বংস করা সম্ভব হতে পারে না. কিন্তু দ্বিতীয় লক্ষ্য পূরণের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা করা সম্ভব নয়. তাহলে এই ব্যবস্থা রাশিয়া ও পূর্বের অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করেই শুধু করা সম্ভব, যা রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের মধ্যে বিভেদ রেখাকে আরও গভীর করবে এবং যোগ্য ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করবে".

পশ্চিমের এখন ঠিক করার সময় এসেছে, তারা সত্যি করে কি চায়: আগামী প্রজন্মকে স্থিতিশীলতা ও শান্তির নিশ্চয়তা দেওয়ার অথবা নিজেদের আকাঙ্খা পূরণের জন্য বিরোধ চালিয়ে যাওয়ার. রাশিয়া নিজেদের পথ বেছে নিয়েছে.