বিকল্প জ্বালানী শক্তি বিগত কয়েক বছরে শুধু বিজ্ঞানীদেরই ঔতসূক্য জাগিয়ে তোলে নি. হাওয়া, সূর্য ও অন্যান্য কার্বন যৌগ বিহীণ প্রাকৃতিক সম্পদ বর্তমানের বিশ্বে উন্নত দেশগুলির জ্বালানী শক্তি বিষয়ে স্ট্র্যাটেজির একটি পরিকল্পনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে. তারই মধ্যে জ্বালানী শক্তি ক্ষেত্রে তথাকথিত “সবুজ প্রযুক্তি” উত্পাদিত শক্তি কতটা সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার যোগ্য বা বিপুল চাহিদার কতটা এই শক্তি মেটাতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্কের অবসান হয় নি.

   যদি আপনাদের দেশে সবসময় জোরে হাওয়া দেয়, তবে তার শক্তিকে ব্যবহার করুন – এই আহ্বান যথেষ্ট সমর্থন যোগ্য বলে মনে হয়. কিন্তু ব্যবহারিক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, বিষয়টি তত সহজ নয়. যেমন, গ্রেট ব্রিটেনে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা প্রতিবাদ করেছেন পরিবেশ সংস্থার বিরুদ্ধে, কারণ সংস্থা পরিকল্পনা করেছে টেমস নদীর পারে, মেডওয়ে নদীর ধারে ও কিছু জলার পাশে ৮০ টি হাওয়ায় চালিত জেনারেটর বসানোর, যেখানে বহু বিরল পক্ষীর আবাস স্থল. তাঁদের মতে, এই হাওয়াকল গুলি শুধু পাখীদের সংখ্যার জন্যই বিপজ্জনক নয়, এমনকি দেশের সবচেয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য গুলিরও হানি করে, যেমন, এক্সমার জাতীয় সংরক্ষিত অরণ্যের পাশে থকা হাওয়াকল গুলি, অথচ দেশের পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এগুলির অবদান খুবই সামান্য.

অন্য একটি উদাহরণ – ডেনমার্ক, যেখানে, আশির দশকের শুরু থেকেই হাওয়া থেকে উত্পন্ন হওয়া শক্তির জন্য বিপুল পরিমানে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল. দেশে বিশাল পরিমানে হাওয়া চালিত টারবাইনের অর্থনৈতিক সাফল্যের সম্বন্ধে সন্দিগ্ধ হয়ে কোপেনহেগেন শহরের ব্যবসা স্কুলের প্রফেসর বিয়র্ন লমবোর্গ তাঁর “সবুজ ছদ্মবিপ্লব” নামের প্রবন্ধে তো লিখেইছেন. তিনি উল্লেখ করেছেন: “এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে, বহু সবুজ প্রযুক্তিই লাভজনক নয়, অন্ততঃ এখনও পর্যন্ত. যদি সেগুলি লাভজনক হত, তাহলে হয়ত ভর্তুকি দিতে হত না”.

বোঝাই যাচ্ছে যে, এখানে হাওয়া থেকে উত্পাদিত শক্তি ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হচ্ছে না, বলা হচ্ছে দেশের ব্যবহৃত জ্বালানী শক্তি ভারসাম্য রক্ষাতে এগুলিক পরিমান নিয়ে. তা ছাড়া বহু সহস্র ওলন্দাজ হাওয়াকল পরিবেশের ক্ষতি করে, এই কথা সমর্থন করে রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তি বিদ্যায় ডক্টরেট ভালেন্তিন ইভানভ বলেছেন:

“এগুলি অনেক জায়গা জুড়ে থাকে. আমাদের অ্যাকাডেমিক ভেরনাদস্কির উক্তিই মনে করা যেতে পারে, যখন তিনি বলেছিলেন যে, যদি প্রকৃতি থেকে শতকরা ১২ ভাগের বেশী কিছু নিয়ে নেওয়া হয়, তবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় – এটা সত্যি কথা. বেশী করে নিয়ে নেওয়া যেতে পারে না. কারণ সেগুলি হাওয়ার গতি রুদ্ধ করে. এই গতি হল বিশ্বের ঠাণ্ডা ও গরম জায়গা গুলির মধ্যে শক্তি বিনিময়ের উপায়. তাই ওলন্দাজ এই পরীক্ষার ফল কি হবে, তা বলা অবশ্যই সম্ভব নয়”.

বিকল্প শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদেশের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে যে, রাশিয়াতে, যেখানে বিশ্বের সমস্ত কার্বন যৌগ থেকে উত্পাদন যোগ্য শক্তির ভাণ্ডার সবচেয়ে বেশী আছে বলে জানা গিয়েছে, সেখানে তথাকথিত সবুজ বিপ্লবের প্রয়োজন নেই. কিন্তু এক্ষেত্রে নিজেদের বিকল্প শক্তি উত্পাদনের প্রকল্প গুলি তৈরী করার দরকার আছে, তাই ভালেন্তিন ইভানভ বলেছেন:

“হাওয়াকল প্রকল্প তৈরী করা ও তা লাগানোর দরকার রয়েছে. তা ৩০ কিলোওয়াট শক্তির জন্য হলেও. তৈরী করা জানা থাকা চাই. শিক্ষা দেওয়া ও শিক্ষিত কর্মী থাকা দরকার. অন্য ব্যাপার হল - এটা কতটা কাজে লাগানো হবে – এটা প্রশ্নের বিষয়. আমাদের এই বিষয়ে প্রচুর প্রস্তাব রয়েছে. যেমন, জলে ভাসমান হাওয়াকল নিয়ে, অথবা সৌর শক্তি ব্যবহার নিয়ে. প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলে চলবে না. এর মানে নয় যে, প্রত্যেককে কোন একটা স্লোগান সামনে রেখে চলতে হবে, বরং প্রযুক্তি জমা হয়ে যেন একটা বিস্ফোরণ যোগ্য পরিমানে পরিনত হয়. এটা করতেই হবে – এর পিছনে অর্থব্যয় করতে হবে – কারণ এটা সংস্কৃতির অঙ্গ”.

রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকাতে যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গেই হাওয়া, সূর্য ও ভূগর্ভের উত্তাপের ব্যবহার করা হচ্ছে. বিশেষজ্ঞদের ধরণা মতো, বিরাট ক্ষমতা আছে জৈব পদার্থ জ্বালিয়ে শক্তি উত্পাদনের. রাশিয়ার শক্তি মন্ত্রী সের্গেই শ্মাতকোর ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৫ সালে দেশে বিকল্প ও পুনরুদ্ধার যোগ্য শক্তি উত্পাদনের পরিমান হবে দেশের জ্বালানী শক্তি ভারসাম্যের শতকরা ৪, ৫ ভাগ.