রাশিয়া ঐক্যবদ্ধ ভাবে সমগ্র ইউরোপের জন্য একক রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরীর প্রশ্নে সফল না হতে পারলে আগামী দশকে বাধ্য হবে নূতন আক্রমণাত্মক অস্ত্র তৈরী করতে. “আগামী বছর দশেকের মধ্যে আমাদের সামনে রয়েছে একমাত্র একটি বিকল্প: হয় আমরা রকেট প্রতিরক্ষা বিষয়ে সহমতে আসতে পারব ও সম্পূর্ণ সহযোগিতা ব্যবস্থা তৈরী করতে পারব, অথবা, যদি আমাদের পক্ষে সম্ভব না হয় গঠনমূলক কোন বোঝাপড়াতে পৌঁছানোর, তাহলে শুরু হবে নূতন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার সোপান, আর আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে নূতন আঘাত হানার মাধ্যম গুলির অবস্থান নির্ণয় করার”, - বলেছেন মেদেভেদেভ, জাতীয় সভাতে মঙ্গলবারে বক্তৃতা দিতে গিয়ে. “লিসাবন শহরে কিছু দিন আগে রাশিয়া-ন্যাটো শীর্ষবৈঠকের সময়ে আমি নিজের ইউরোপীয় রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাক কাঠামো নিয়ে ধারণা বলেছি, যাতে রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের ক্ষমতা জোড়া লাগানো হতে পারে ও ইউরোপের সমস্ত দেশকেই রকেট হামলা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে”. – বলেছেন মেদভেদেভ. “এই প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত সমস্ত বিষয়েই একসাথে কাজ করার জন্য শুরু ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে”.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি একই সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদান, ভিসা ব্যবস্থা বন্ধ করা ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দেওয়া–নেওয়া বাড়ানো রাশিয়া ও ইউরোপীয় সংঘের ভিতরে সম্পর্কের প্রধান বিষয় হতে পারে. “আগামী সপ্তাহে এই মূল সূত্র ধরেই ব্রাসেলস শহরে আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করব”, – বলেছেন মেদভেদেভ.

তাঁর কথামতো রাশিয়া বর্তমানে সঙ্কট মোকাবিলা করার ব্যবস্থা থেকে ভারসাম্য যুক্ত বাজেচ রাজনীতিতে যাচ্ছে. তিনি স্বীকার করেছেন যে, বর্তমানে বাজেটের খামতি যথেষ্ট বেশী. “যাতে তা উন্নতির পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, আমরা তা কমিয়ে আনব”, - উল্লেখ করেছেন মেদভেদেভ, তার সঙ্গে আরও যোগ করে বলেছেন যে, এই ধরনের দায়িত্ব নিজেদের উপরে বিশ্বের সমস্ত অর্থনৈতিক ভাবে নেতৃ স্থানীয় দেশই নিয়েছে. রাষ্ট্রপতি রাশিয়াতে তিন বছরের মধ্যে প্রতি বছরে শতকরা ৪ -৫ ভাগ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি কম করতে সরকারের সামনে কাজ দিয়েছেন. “খাদ্য দ্রব্যের দাম বাড়লেও – আর তা দুঃখের হলেও সারা বিশ্বেই ঘটেছে – আমরা দ্রব্যমূল্যকে লাফ দিয়ে বাড়তে দেবো না”, - বলেছেন দেশের নেতা. তাঁর কথামতো, সঙ্কট পরবর্তী কালে রাশিয়াতে বেকারত্বের পরিমান কমেছে ২০ লক্ষ মানুষ. বর্তমানে দেশে বেকার রয়েছেন পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ.

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার সর্বমোট জাতীয় ঋণের পরিমান খুবই কম. আজকের রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সঞ্চয় প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার – যা ২০০৮ সালে এই সূচকের চেয়ে অনেক বেশী, বলেছেন মেদভেদেভ. তিনি সরকারকে বাঁচিয়ে রাখা অর্থের ও রাষ্ট্রীয় বাজেটের উদবৃত্ত জমানো অর্থের কম করে হলেও অর্ধেক আধুনিকীকরণের জন্য ব্যয় বরাদ্দ করতে বলেছেন.

রাষ্ট্রপতি ঘুষখোরদের নেওয়া ঘুষের চেয়ে ১০০ গুণ বেশী জরিমানা করতে প্রস্তাব করেছেন. পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গিয়েছে যে, এমনকি ১২ বছরের জেল খাটার মেয়াদও অপরাধীদের আটকে রাখতে পারে না, অপরাধ করা থেকে, উল্লেখ করেছেন দেশের নেতা. মেদভেদেভ মনে করেন যে, জরিমানা সম্বন্ধে নিয়ম দেশের অপরাধ আইনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত হবে.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির জাতীয় সভার উদ্দেশ্য ভাষণের দৈর্ঘ্য ছিল এক ঘন্টা বারো মিনিট. নিজের ভাষণের সবচেয়ে বেশী সময় – প্রায় চল্লিশ মিনিট রাষ্ট্রপতি মূল বিষয়ের জন্য ব্যয় করেছেন – কি করতে হবে, যা হলে রাশিয়ার বাচ্চারা সুস্থ ও আনন্দের সঙ্গে বড় হতে পারে. সভায় উপস্থিত লোকেদের সমর্থন পেয়েছে রাষ্ট্রপতির শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের প্রস্তাব, যাদের অনেক গুলি বাচ্চা রয়েছে, সেই সমস্ত পরিবারকে বিনা অর্থে বাড়ী তৈরী করার জমি দেওয়ার প্রস্তাব, বাচ্চা সহ পরিবারকে কর মকুব করার সুবিধা দেওয়া, শিশুদের নিয়ে কোন অপরাধ করলে, অপরাধীর শাস্তি কঠোর করা, বেআইনি মদ বিক্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া. মেদভেদেভের ভাষণের সময় হর্ষধ্বনি শোনা গিয়েছে তাঁর বেশ কয়েকটি বিষয়ে ঘোষণার সময়ে, তার মধ্যে রয়েছে দেশের ঔষধি নির্মাণ ও পারমানবিক শক্তি শিল্পের অগ্রগতির সূচকের উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ক্ষেত্রে বাড়তি বিনিয়োগের বন্দোবস্ত করার আশ্বাস, দেশের জাতীয় সম্পত্তি হিসাবে থাকা কল-কারখানার মালিকানা হস্তান্তর করে ব্যক্তি মালিকানাতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে নূতন দুর্নীতি প্রতিরোধক আইন প্রণয়নের কাজের শুরু করা, ইউরো-এশিয়া অঞ্চলে ঐক্যবদ্ধ অর্থনৈতিক এলাকা তৈরী করার প্রস্তাব.