বিশ্ব পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা আরও বেশী করে এক জায়গায় দৌড়নো মনে করিয়ে দিচ্ছে. প্রত্যেকেই স্বীকার করছে যে, কিছু একটা করা দরকার, কিন্তু সকলেই নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্ব নিতে তৈরী নয়. মেক্সিকোতে আবার কি করে বিশ্বকে আবহাওয়ার বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা যেতে পারে তাই নিয়ে আলোচনা শুরু হতে চলেছে. ২৯শে নভেম্বর কানকুন শহরে শুরু হচ্ছে রাষ্ট্রসংঘ আয়োজিত ষোড়শ বিশ্ব আবহাওয়া সম্মেলন এবং কিয়োটো প্রোটোকল গ্রহণ কারী দেশ গুলির ষষ্ঠ বৈঠক. এই প্রোটোকলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১২ সালে.

    এর আগের বারের বৈঠক হয়েছিল ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে, সেখানে ১২০ টি দেশের নেতারা জড় হয়ে যা করেছিলেন, তাকে অনেকেই বলেছেন ফাঁকা আওয়াজ. খুব অল্প কিছু আশাবাদী অবশ্য বলতে চেয়েছেন যে, কোপেনহেগেন শহরে কিছু নির্দিষ্ট কাজ করা সম্ভব হয়েছিল, সেখানে উন্নত ও উন্নতিশীল দেশের নেতারা ২০২০ সালের মধ্যে গ্রীন হাউস এফেক্ট কমানো যায় এমন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন. আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এমন দেশ গুলির জন্য আবহাওয়া তহবিল তৈরী করা সম্ভব হয়েছিল.

    রাশিয়ার অবস্থান দেশের রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজেই বর্ণনা করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে, রাশিয়া তৈরী হয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে ১৯৯০ সালের তুলনায় আবহাওয়াতে কার্বন ডাই অক্সাইড বর্জনের পরিমান শতকরা ২৫ ভাগ কমিয়ে আনবে. কিয়োটো প্রোটোকলের মেয়াদ কোন পরিবর্তন না করে শুধু বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে রাশিয়া একেবারেই না করে দিয়েছে.

    "বর্তমানের চেহারায় এই প্রোটোকল কিছুই দিতে পারছে না, কারণ তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেই. আর চিন – বিশ্বে যারা কার্বন ডাই অক্সাইড সবার চেয়ে বেশী করে ছড়াচ্ছে – তারা তা কম করার জন্য কোন রকমের দায়িত্বই নিতে রাজী নয়". বিশ্ব বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ ফাণ্ডের রাশিয়া শাখার প্রধান আলেক্সেই ককোরিন তাই বলেছেন:

    "রাশিয়া মনে করে যে, সকলের জন্য একটাই আইন সঙ্গত চুক্তি হওয়া দরকার, সেটা প্রোটোকল বা চুক্তি যাই হোক না কেন, সকলকেই তা নিজেদের দেশে গ্রহণ করতে হবে. প্রত্যেক বড় দেশেরই সংখ্যা নির্দিষ্ট পরিবেশ দূষণ কম করার কথা এই চুক্তিতে থাকতে হবে, ভারত, চিন, ব্রাজিলকে কোন ভাবেই এই চুক্তির বাইরে রাখা যাবে না".

    কেউই কানকুন শহরের সম্মেলনের উপরে বড় কোন রকমের আশা প্রকাশ করেন নি. কেউই ভাবছে না যে, নতুন চুক্তি করা হবে, যা সবাই গ্রহণ করবে, তাই আলেক্সেই ককোরিন বলেছেন:

    "বোঝাই গিয়েছে যে, চুক্তি দ্রুত করা সম্ভব হবে না. খুব বড় প্রশ্ন, সবই খুব জটিল. তখন বুদ্ধি গ্রাহ্য পথ হতে পারে  - আলাদা সমাধানের দিকে যাওয়া. এটা যথেষ্ট কাজে লাগার মত ব্যাপার. কি সমাধান করা সম্ভব হতে পারে? প্রথমতঃ, বিষুব অঞ্চলের বন সংরক্ষণ করা যেতে পারে, সেখানে হয়ত বলা হবে না যে, "গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে, বলা হবে আগামী দশ বছরে গাছ কাটার পরিমান শতকরা আশি ভাগ কমানো হবে. কিন্তু তা কম করা হবে দ্রুত – সেটা মানতেই হবে". তারপরে, কম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলিকে সমাধান করতে হবে, যেমন, প্রযুক্তি হস্তান্তর করার কেন্দ্র তৈরী করা. এখানে জ্বালানী সাশ্রয় করে এমন প্রযুক্তির কথা বলা হচ্ছে, যেখানে পুনরুদ্ধার যোগ্য শক্তি ব্যবহার এবং বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড দূষণ কমানোর কথা বলা হচ্ছে".

    ছোট কাজের ধারণা, হতে পারে যে মানে আছে. কিন্তু যদি বড় দেশ গুলি আবার আইন সঙ্গত দায়িত্ব যুক্ত কোন দলিলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করে, তবে কানকুন শহরের সম্মেলন কোপেনহেগেন শহরের সম্মেলনের কাহিনীর পুনরাবৃত্তি করতেই পারে.