২০১১ সালের মধ্যেই রাশিয়া বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায়(ডব্লিউটিও)যোগ দিতে পারে.রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিন বার্লিনে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে  যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন.সামগ্রিকভাবে অসম্মতি প্রকাশ করার মত কোন প্রশ্ন এখন নেই.উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী.সংবাদ সম্মেলনের ঠিক একটু পূর্বেই জার্মানির ব্যাবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতে রাশিয়ার বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় যোগদানের বিষয়টি উত্থাপিত হয়.জার্মানির ব্যাবসায়ী প্রতিনিধিদের পুতিন জানান, আমরা মনে করি,আমাদের গন্তব্যপথ আমরা প্রায় অতিক্রম করেছি;এছাড়া বস্তুত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে প্রধান প্রশ্নসমূহের নিয়ে আমরা ঐক্যমতে পৌঁছেছি.

১৭ বছর ধরে রাশিয়া বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে.এটি দীর্ঘ একটি মেয়াদ,ডব্লিউটিও’র মত গ্লোবাল একটি সংস্থায় যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনার প্রক্রিয়া ৬ থেকে ৭ বছরের বেশী সময়ের প্রয়োজন হয় না.বিগত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন কার্যকরী বিষয়ে আলোচনার বাস্তব প্রয়োগ পরিলক্ষিত হচ্ছে.শুধু তাই নয়,রাশিয়া,বেলারুশ ও কাজাকিস্তান মিলে যে মুক্তবানিজ্য কাঠামো গঠন করেছে তা বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন বিরুপ প্রভাব ফেলবে না,উপরন্তু ভ্লাদিমীর পুতিন শোনালেন ভিন্ন কথা.তিনি বলেন-তিন জাতির সমন্বয়ে আমরা যে অভিন্ন অর্থনৈতিক সম্প্রসারন কাঠামো গঠন করেছি তার নিয়মনীতি কার্যত বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার সাথে কোন বৈশাদৃশ্য নেই.যা বানিজ্য,ভোগের প্রযোজ্য,পণ্য পরিবহন,শ্রমশক্তি ও মূলধনের সাথে জড়িত.এই ধারনা থেকে তা অবশ্যই আমাদের ইউরোপীয়ানদের এবং সেই সাথে জার্মানিদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করতে অনেক সহজ হবে.এটি আমাদের সম্পর্ককে জটিল করবে না বরং তা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়তা  এবং তা আরও সম্প্রসারন করবে.ইউরোপের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইতিবাচক বিষয়ই যুক্ত হবে.

ভ্লাদিমীর পুতিন রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশগ্রহনে একটি মূদ্রা কাঠামো  প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত প্রদান করেন.এ বিষয়ে তিনি বলেন,মূদ্রা কাঠামো গঠন করার বিষয়ে আমরা সবকিছু বুঝতে পারি যে,তা অর্থনৈতিক দূরাবস্থার সময় সহয়তার ও অর্থনৈতিক পরিব্যপ্তি উন্নয়নের কাজে জড়িত.উল্লেখ করলেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী.

 জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে আলোচনার সময় পুতিন অনেকবারই ভিসার বিষয়টি তুলে ধরেন যা ব্যাবসার এবং জনগনসহ সবক্ষেত্রেই একটা সাধারন বাঁধা সৃষ্টি করে.ভ্লাদিমীর পুতিন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার মধ্যে ভিসাবিহীন ভ্রমন কার্যক্রম চালু করার জন্য আহবান জানান এবং তিনি আরও উল্লখ করেন যে,তার দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের নাগরিকদের রাশিয়া ভ্রমনের জন্য ভিসার নেওয়ার প্রক্রিয়া তুলে নিতে প্রস্তুত আছে তবে এই ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয় যে,এই প্রক্রিয়া শুধুমাত্র একপক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া যুক্তিসংগত হবে না.

ইউরোপীয় সহযোগি রাষ্ট্রসমূহের পক্ষথেকে ৩য় একটি স্বাধীন জ্বালানি প্রক্লপ তৈরীর প্রস্তাব যা রাশিয়াকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন করবে.জ্বালানি বিষয়ে মতামত জানিয়ে পুতিন বলেন-সমস্যা সমাধানের জন্য যে স্বাধীন  কোম্পানী গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যা রাশিয়া ও জার্মানিতে রয়েছে তা ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে.এটি আমাদের চিন্তিত করে তুলছে.এমনকি এখন পর্যন্ত কেউই আমাদের জানায় নি যে,কোন পদ্ধতিতে এই জ্বালানি বাজার পরিচালনা করা হবে.

আমরা চাইছি যে,আমারা সবাই একটি পন্থায় অবস্থান করি,কারও ক্ষতি না করে.উল্লেখ করলনে ভ্লাদিমীর পুতিন.নিজের দেওয়া বক্তৃতায় জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল আশাবাদ জানিয়ে বলেন,এই সব প্রশ্নের সমাধানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তৃপক্ষরা অনেক সহনীয় হবেন.