বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে ২৩ কোটি ৫০ লক্ষ মাদকাসক্ত লোক রয়েছে. বেসরকারি হিসাবে  - আরও অনেক বেশী. তাদের মধ্যে বহু সহস্র প্রতি বছর প্রাণ হারাচ্ছে মাদকের ব্যবহারের ফলে. রাশিয়ার জাতীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ পরিষদের প্রধান ভিক্তর ইভানভের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের বাত্সরিক মাদক কারবারের পরিমান ৫০ হাজার কোটি ডলার. এটা খনিজ তেল ও গ্যাসের কারবারের মোট পরিমানের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশী.

    বিশ্বের একটি অন্যতম বিপজ্জনক মাদক দ্রব্য হেরোইন - সারা দুনিয়াতে সরবরাহ করে থাকে আফগানিস্তানের মাদক পাচার চক্র. রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী কিছু কাল আগে পর্যন্ত বিশ্বের শতকরা ৯০ ভাগ হেরোইন পাচার হত আফগানিস্তান থেকে. এই পরিস্থিতি হঠাত্ করে তৈরী হয়নি. দশ বছর আগে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহকর্মী ন্যাটো জোটের দেশ গুলি আফগানিস্তানে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ শুরু করেছিল, তখন অনেক কথা হয়েছিল যে, তাদের একটা কাজ হবে মাদক উত্পাদন ও পাচারের সঙ্গে লড়াই. কাজের ক্ষেত্রে হয়েছে অন্য রকম. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করার প্রচেষ্টা করেছিল যে, যদি আফিমের চাষের জমি নষ্ট করে দেওয়া হয় – যার থেকে হেরোইন তৈরী করা হয়, তবে সেই আফিম যারা উত্পাদন করে অর্থাত্ আফগানিস্তানের চাষীরা, তাদের আয় থেকে বঞ্চিত হবে ও তালিবদের পক্ষে যোগ দেবে. একই সঙ্গে আমেরিকা, আফগানিস্তানে যারা মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল ও আমেরিকাকে সমর্থন করছিল, তাদের কাজকর্ম দেখেও দেখছিল না, যেন সমর্থনের জন্য মূল্য দিচ্ছিল এই ভাবে. এই রকমের রাজনীতির ফল তো এখন দেখতেই পাওয়া যাচ্ছে.

    তার ওপরে এই ফল শুধু আফগানিস্তানের উপরই প্রভাব বিস্তার করছে না. এই প্রসঙ্গে মধ্য প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ভিক্তর নাদেইন রায়েভস্কি মন্তব্য করে বলেছেন:

    "আফগানিস্তান থেকে মাদক পাচারের প্রভাব মাদক উত্পাদনের ঘাঁটি থেকে অনেক দূরের অস্থিতিশীলতার কুণ্ড গুলিকে রসদ যোগাচ্ছে. আফগানিস্তানের মাদক পাচারের অর্থ মধ্য এশিয়ার ব্যাথার জায়গা ফরগনা তরাই অঞ্চলে বয়ে আসছে. কিরগিজিয়ার দক্ষিণে কিছু দিন আগের প্রজাতি গত রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় মাদক পাচারের লোকেরা অংশ নিয়েছিল, যারা সরাসরি আফগানিস্তানের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত. পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানের মাদক পাচারের অর্থের একটি কাজে লাগানোর জায়গা হল চিন দেশের সিনত্সজিয়ান-উইগুর স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চল, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কাজ করছে, যারা সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড ঘটাচ্ছে. মাদকের ব্যবসা কোসভাতে অপরাধী চক্রকেও অর্থ সাহায্য করছে. ভিক্তর ইভানভের বক্তব্য মতো, কোসভা, ইউরোপের কেন্দ্রে অবস্থিত, যা অনেক দিক থেকে বর্তমানে আফগানিস্তানের আফিম জাত দ্রব্যের এই মহাদেশে সরবরাহের প্রধান ডিপো হয়ে দাঁড়িয়েছে".

    এই কথা গোপন নয় যে, মাদক ব্যবসা বিরাট পরিমানে অর্থে সমৃদ্ধ. এর ফলে তারা এমনকি প্রশাসনের কাঠামোর মধ্যেও তাদের সমর্থক খুঁজে পাচ্ছে – সেই সমস্ত জায়গায়, যেখানে সরকারি কর্মচারীদের কাজ কারবারের উপর নিয়ন্ত্রণ কম অথবা একেবারেই নেই. কি করে এই রকমের সর্বত্র অনুপ্রবেশ কারী ছোঁয়াচে রোগের মোকাবিলা করা সম্ভব?

    "মাদক ব্যবসায়ের জোটের মোকাবিলা, যেখানে দুর্নীতি কারী সরকারি কর্মচারী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের যোগাযোগ রয়েছে, আর তাদের সঙ্গে আবার সন্ত্রাসবাদী দলের লোকেরাও যুক্ত রয়েছে, হতে পারে বিশ্ব সমাজের পারস্পরিক ভাবে সহযোগিতা করার মধ্য দিয়েই. এই দিকে নির্দিষ্ট রকমের পরিবর্তন ও একসাথে শক্তি প্রয়োগ শুরু হয়েছে. যেমন, লিসাবন শহরে সদ্য শেষ হওয়া রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের শীর্ষ বৈঠক দেখিয়েছে যে, উত্তর অতলান্তিকের জোট রাশিয়ার প্রতি তাদের সম্পর্ক পাল্টেছে. বেশ কয়েকটি দিকে একসাথে কাজ করার পথের কথা বলা হয়েছে. তার মধ্যে মাদক ব্যবসার মোকাবিলাও ছিল. রাশিয়া বহু দিন ধরেই এই ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব করেছিল, তার মধ্যে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা-ন্যাটো জোটের মধ্যেও ছিল. যৌথ নিরাপত্তা সংস্থা মাদক ব্যবসার সঙ্গে নিজেদের লড়াই করায় সফল হওয়ার প্রমাণ দিতে পেরেছে. প্রসঙ্গতঃ, তাদের কাজে বর্তমানে পর্যবেক্ষক হয়ে অংশ নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, ইরান, ইতালি, ভেনেজুয়েলা ও আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা. রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নিয়ন্ত্রণ পরিষেবা গুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে. কিছু দিন আগে তারা একসঙ্গে, ভাল করে ছকে নেওয়া এক অপারেশন আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশে করেছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি স্থানীয় মাদক তৈরী করার ল্যাবরেটরী ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে, এক হাজার টনেরও বেশী মাদক দ্রব্য নষ্ট করতে পারা গিয়েছে. কিন্তু এই সবই মনে করা যেতে পারে যে, সহযোগিতার সূচনা বলে".