বিশ্বের ন্যানো টেকনলজির বাজারের উত্পাদন মূল্যায়ণ করা হয়ে থাকে প্রায় ২৫০ শত কোটি ডলার, আর ২০১৫ সালে তা এক গগন-চুম্বী সংখ্যা, প্রায় তিন লক্ষ কোটি ডলার ছুঁতে চলেছে. রাশিয়া এই বাজারে নিজেদের জায়গা করে নিতে চায়. বর্তমানে সরকারি কোম্পানী “রসন্যানোর” বাক্সে একশরও বেশী প্রকল্প রয়েছে.

   লেসার টেকনলজি ক্ষেত্রে বিশ্বের নেতৃত্বদানকারী কোম্পানী “আই পি জি ফোটোনিকসের” সঙ্গে রাশিয়ার “রসন্যানো” কোম্পানীর সহায়তায় তৈরী হতে যাওয়া সম্মিলিত প্রকল্প খুবই মনোগ্রাহী হবে বলে আশা করা হচ্ছে. এখানে কথা হয়েছে যে, “রসন্যানো” ফাইবার অপটিক্যাল লেসার যন্ত্র তৈরী করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবে. এগুলি টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুদূর সঞ্চারের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে. “রসন্যানো” কোম্পানী, “আই পি জি কোম্পানীর” রুশ শাখা “ই এর এ-পোলুস” কোম্পানীর শেয়ারের অনেকটাই কিনে নেবে ৫ কোটি ডলার দিয়ে. মস্কো উপকন্ঠের শহর ফ্রিয়াজিনো বিজ্ঞান নগরে এই কোম্পানীর কারখানায় নতুন উত্পাদন বাড়ানোর জন্য যন্ত্রপাতি কেনা হবে এই টাকায়, আর তার সঙ্গে নতুন প্রযুক্তিও আমদানী করা হবে. আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কোম্পানীর জেনেরাল ডিরেক্টর ভালেন্তিন গাপোন্তশেভের কথামতো তাঁদের বাত্সরিক কারবারের পরিমান তিরিশ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে:

   “আমরা “রসন্যানোর” সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ও তা শুধু অর্থের জন্যই নয় – “আই পি জি ফোটোনিকস্” – খুবই লাভজনক কোম্পানী, নিজেদের ব্যবসায়ে লগ্নী করার জন্য আমাদের যথেষ্ট অর্থ আছে. আমরা চাই রাশিয়াকে অপটিকোইলেকট্রনিকস, লেসার ও ফাইবার টেকনলজিতে নেতৃত্বদানকারী দেশ গুলির সঙ্গে এক সারিতে বসাতে. এখানে খুবই শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক – উত্পাদনের কেন্দ্র খুলতে, যা বিশ্বমানের, সেই রকমেরই, যা আজ আমাদের কোম্পানী খুলেছে আমেরিকার বোস্টনের কাছে ম্যাসাচুসেটস শহরে বা জার্মনিতে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের কাছে. তৃতীয় এই রকমের কারখানা আমরা রাশিয়াতে “ই এর এ-পোলুস” কারখানাতে খুলতে চলেছি. আমাদের এই কোম্পানী আজ এশিয়ার বহু দেশে খুবই বড় মাপে রপ্তানী করছে – তাদের মধ্যে রয়েছে চিন, ভারত ও অন্যান্য দেশ”.

   আন্তর্জাতিক কোম্পানী “আই পি জি ফোটোনিকস্” কোম্পানী, যা ভালেন্তিন গাপোন্তশেভ তৈরী করেছেন ও বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটি একটি কর্পোরেশন, যাদের বিশ্বের নয়টি দেশে কারখানা রয়েছে. আজকের দুনিয়াতে এটি সবচেয়ে দ্রুত উন্নতিশীল উচ্চ প্রযুক্তির কোম্পানী, যারা লেসার টেকনলজি বিষয়ে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে. তাদের বর্তমানের বাজার মূল্য ১ শো কোটি ডলারেরও বেশী. ২০০৬ সালে আমেরিকার উচ্চ প্রযুক্তি কোম্পানীর শেয়ার বেচা-কেনার জায়গা “ন্যাসডাক” শেয়ার বাজারে এই কোম্পানী তার “আই পি ও” সাফল্যের সঙ্গে পেশ করতে পেরেছিল.

   বর্তমানে রাশিয়া ন্যানোটেকনলজি বিষয়ে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে. আজ ন্যানোটেকনলজি বিষয়ে আমাদের দেশে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে, বিভিন্ন জিনিসকে আলাদা করার জন্য রেডিও সঙ্কেত ব্যবহার করার প্রযুক্তি, সিলিকন বিহীণ ইলেকট্রনিকস – প্লাস্টিক দিয়ে তৈরী ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ. আক তার সঙ্গে রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস, লেসার রশ্মি বিকীরণের যন্ত্র, সৌর শক্তি সংক্রান্ত প্রযুক্তি. ভাল পরিস্থিতি রয়েছে, যাতে রাশিয়া বিশ্বের ন্যানোটেকনলজি বাজারে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে.