জাতীয় সভাতে দিমিত্রি মেদভেদেভের আগামী বক্তৃতার একটি মূল বিষয় হতে পারে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা. এই সম্বন্ধে বুধবার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে লোকসভার বিভিন্ন দলের নেতাদের বৈঠকের সময়ে কথা হয়েছে.

   এর আগে দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের ব্লগে একটি ভিডিও আহ্বান রেখেছেন, যেখানে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা গত দুই বছর ধরে ধাপে-ধাপে বাস্তবায়িত করা হচ্ছে. “আমরা চাই আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা আরও ন্যায় সঙ্গত, আরও নমনীয়, আরও গতিশীল এবং উন্নতি ও আধুনিকীকরণের জন্য আরও খোলামেলা করতে” – রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্য এইভাবে রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন.

   এই সম্পর্কে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে. লোকসভাতে প্রতিনিধিত্ব কারী দলগুলিকে জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যমে নিয়ম করে সমান ভাবে ব্যবহার করার অধিকার দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনে যে দল শতকরা পাঁচ শতাংশ ভোট পাবে, তাদের জন্য “পুরস্কার মূলক প্রতিনিধিত্ব” করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, নির্বাচনের আগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থায় নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে, যা আগে বিরোধী দলগুলির থেকে প্রচুর সমালোচনার কারণ ছিল.

   কিন্তু রাষ্ট্রপতি, সব দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, এই সব পুনর্গঠনের গতিতে খুব একটা সন্তুষ্ট নন. দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশের রাজনৈতিক জীবনে “পলি জমার” লক্ষণ উল্লেখ করেছেন. দেশের নেতা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, একটা সময়ের পর স্থিতিশীলতা, থেমে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়. মেদভেদেভের মতে, এই ধরনের থেমে যাওয়া প্রশাসনে অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ও বিরোধীদের সকলের জন্যই একই রকমের অপমৃত্যুর ইঙ্গিত. যদি বিরোধী দলের সত্ নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করে জয় লাভের কোন রকমের আশা না থাকে – তবে তাদের পদস্খলন হয়, তারা “সীমান্তবর্তী” দলে পরিনত হয়. আর যদি সরকারে অধিষ্ঠিত দলেরও হেরে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা না থাকে, তবে তাদের, রাষ্ট্রপতির মতে, গায়ে “জং ধরে” ও, শেষ অবধি তাদেরও পদস্খলন হয়. এর থেকে বেরনোর পথ – রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় স্তরের উন্নতি করা, যারা দলে কম, তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করা, রাশিয়াতে জনপ্রতিনিধিত্ব মূলক সরকারের গুণ বৃদ্ধি করা, দিমিত্রি মেদভেদেভ এই বিষয়েই স্থির বিশ্বাস করেন.

   রাশিয়াতে বর্তমানে অনেক সামাজিক দল, রাজনৈতিক জীবনে একেবারেই কোন অংশ নেয় না, বলে মনে করেন, সফল রাজনীতি ফান্ডের জেনেরাল ডিরেক্টর, কিরিল তানায়েভ:

   “আমাদের সমাজে অনেক লোক রয়েছেন, যাদের একেবারেই কোন প্রতিনিধি নেই. এই সব লোকেদের প্রয়োজন যে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গী, পথ খোঁজা, স্বার্থ ইত্যাদি রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যেন প্রকাশিত হয়. রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের যেন আবহাওয়া থাকে, যাতে মত বিনিময় হয় অবাধে, রাশিয়ার জীবন-যাত্রার মূল বিষয় গুলি নিয়ে যেন আলোচনার উপায় থাকে. আমি মনে করি যে, এটাই অনেকখানি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ভিত্তি ও মূল মঞ্চ. এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল – এই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভের কাছ থেকেই – ইঙ্গিত সেই বিরোধীদের জন্যই, যারা লোকসভাতে কোন প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না ও রাস্তায় জন-সমাবেশ করছে. এটা অবশ্যই আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত, মাঝারি ও স্বল্প বিত্ত ব্যবসায়ী শ্রেনীর সেই বিশাল সংখ্যক লোকেদের কাছে ইঙ্গিত, যারা আজ সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে সক্রিয় রয়েছেন তাদের জন্য, অথচ রাজনৈতিক জীবনে যাদের অস্তিত্ত্ব নেই বা যারা আজ রাজনৈতিক জীবনে কোন অংশ নিচ্ছেন না তাদের জন্যই”.

   “আমাদের গণতন্ত্র সম্পূর্ণ হতে পারে নি” – স্বীকার করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ, কিন্তু বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, “আমরা এক জায়গায় থেমে নেই, আমরা এগিয়ে চলেছি”.

   বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, যে বর্তমানে রাশিয়াতে সামাজিক জীবনে গতি বেড়েছে, নাগরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে. আর সামাজিক পরিবর্তনের এই গতি সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের কাজের সমস্ত ক্ষেত্রেই আধুনিকীকরণের গতির সঙ্গে বাড়তেই থাকবে. রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দল গুলির মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন সেই দিকে, যে, তারা বর্তমানের সামাজিক উন্নতির গতির থেকে পেছিয়ে পড়ছেন, প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে দেরী হয়ে যাচ্ছে. তার মধ্যে আগামী নির্বাচন কিন্তু এখন আর “পাহাড়ের পিছনে” নয়.