কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় দ্বিতীয় দিন সশস্ত্র বিরোধের আগুণ জ্বলছে. হলুদ সমুদ্রে দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বীপ ইওনপহিওন্দো দ্বীপের উপরে, যেখানে সমুদ্র ও ভূমি থেকে প্রায় দুশো উত্তর কোরিয়া থেকে ছোঁড়া গোলা পড়েছে, সেখানে এখনও আগুনের শিখা আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. উত্তর ও দক্ষিণের সেনা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নূতন কোন প্ররোচনার লক্ষণ দেখতে পেলেই গোলা বর্ষণ শুরু করার.

    টোকিও এবং সিওলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল - আতঙ্ক ও চমক. তারপরে – জরুরী আলোচনা, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও. দক্ষিণ কোরিয়া যা কিছু হতে পারে ভেবে ইওনপহিওন্দো দ্বীপে তাদের যুদ্ধ বিমান পাঠিয়ে দিয়েছে, তার মধ্যে জেট বোমারু বিমানও রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও, যাদের সোনা বাহিনী জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে, ঘোষণা করেছে যে, তারা সম্পূর্ণ ভাবে যুদ্ধ শুরু হলে সিওলের পক্ষ নেবে. একই সঙ্গে পেন্টাগন উল্লেখ করেছে যে, সেনাবাহিনী আপাততঃ কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার প্ররোচনা স্বত্ত্বেও কোন-রকমের ব্যবস্থা নেবে না. এটা বোধহয়, সিওলের সবচেয়ে মাথা গরম লোকেদের আশা ভঙ্গ না করে পারে নি, যারা ধরেই নিয়েছিল যে, পিয়ংইয়ং এর সঙ্গে বিরোধীতায় ওয়াশিংটনের সামরিক সাহায্য পাওয়া যাবে.

    মস্কোর প্রতিক্রিয়াও ছিল সব থেকে বেশী রকমের ভারসাম্য রেখে করা. কূটনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব একই সঙ্গে "তাক করে" বক্তব্য ছুঁড়েছেন. পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে নির্দিষ্ট সঙ্কেত পাঠিয়েছেন এই বলে যে – যে কোন পরিস্থিতিতেই কাউকে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে দেওয়া চলবে না. আর সেনা বাহিনীর সুদূর পূর্বের ঘাঁটি থেকে জানিয়েছে: নিরাপত্তা রক্ষা সংক্রান্ত কাজ করা হচ্ছে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ও একই সঙ্গে পরিস্থিতি সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ ও তা খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে.

    ঘটনা কিন্তু "টোপ" না এড়িয়ে হয় নি, অংশতঃ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী বৈঠক ডাকার কথাও উঠেছে. মস্কো নিজেদের দিক থেকে সাবধান করে দিয়ে বলেছে – গাড়ী যেন ঘোড়ার আগে না দৌড়য়. রাশিয়ার লোকসভার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিষদের প্রধান কনস্তানতিন কোসাচেভ উল্লেখ করেছেন যে, পিয়ংইয়ং বা সিওল কেউই নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক দাবী করতে চায় না. তিনি ঘোষণা করেছেন, যদিও কামান আওয়াজ দিয়েছে, তবুও পরিস্থিতি এতই অস্পষ্ট, আর প্রথমতঃ উত্তর কোরিয়ার কাজকর্মের বিষয়ে, যে আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতি সম্বন্ধে একক মূল্যায়ন করা আপাততঃ সময়ের আগেই হয়ে যাবে. তার উপরে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করা এখনই ঠিক হবে না. এই মূল্যায়ণ বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে সহকর্মীদের বোধগম্য হয়েছে বলা যেতে পারে.

    উত্তর কোরিয়ার জোটের অংশ ও পৃষ্ঠপোষক – চিন সমস্ত পক্ষকে আহ্বান করেছে "এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য কাজ বেশী করতে". রাশিয়ার প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি মসিয়াকভ বেইজিং এর এই প্রতিক্রিয়ার সম্বন্ধে মন্তব্য করে বলেছেন:

    "এখনও কামান গুলি, বোধহয়, সেখানে ঠাণ্ডা হয় নি, আর চিন, যারা কিনা সবার থেকে বেশী করে খবর রাখে উত্তর কোরিয়াতে কি হচ্ছে, প্রথম কাজের মধ্যে বলেছে: এক্ষুণি শান্তি ফিরিয়ে আনুন, শান্তি, শান্তি. এই সব ঠাণ্ডা করতেই হবে. যে দ্রুততার সঙ্গে চিন ঘোষণা করেছে, তাও বুঝিয়ে দেয় যে, তারা আশঙ্কা করেছে যে, এই পরিস্থিতি বড় মাপের যুদ্ধে পরিণত হয়ে যেতেই পারে".

    একই সঙ্গে বেইজিং – চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান, দুই কোরিয়া, এই ছয় দেশের কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলের পারমানবিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা পরিষদের হোতা হিসাবে আহ্বান করেছে এই পরিষদের জরুরী বৈঠক নতুন করে শুরু করার. মস্কো ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক উত্স থেকে সমর্থন করা হয়েছে যে, এর মধ্যেই এই কাঠামোতে নূতন করে এক দফা আলোচনা শুরু হয়েছে. এখানে কথা হয়েছে সকলে মিলে শুধু এই ঘটনা সম্বন্ধেই নয়, বরং "যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়" পরিস্থিতি নিয়ে, যা কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশী সময় ধরে চলে আসছে ও এই সময়ের মধ্যে প্রথম এত বড় উত্তর ও দক্ষিণের সামরিক বিরোধের সূচনা করেছে, তার সম্বন্ধে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া মূলক বক্তব্য পেশ করার.