রাশিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসার করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে. আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র সংরক্ষণ সমস্যা সম্পর্কিত সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারের সময়ে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘোষণা করেছেন.

    "কয়েকদিন আগে আমরা আপনাদের দেশ থেকে আমদানী করা হয়, এমন বেশ কিছু নিয়মিত জিনিসের উপরে শুল্কের হার কম করেছি, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে অনেক কিছুই করা সম্ভব হতে পারে: যেমন, বিদ্যুত্শক্তি উত্পাদনের ক্ষেত্রে, কৃষি ক্ষেত্রে, রাসায়নিক সার সংক্রান্ত বাণিজ্যে, সামরিক-প্রযুক্তি সংক্রান্ত সহযোগিতার ক্ষেত্রে. আর আমরা এই সমস্ত বিষয় নিয়ে এর মধ্যেই কাজ করছি", - বলেছেন ভ্লাদিমির পুতিন. শেখ হাসিনা ওয়াজেদ নিজেদের কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ সবসময়েই রাশিয়াকে বিরাট শ্রদ্ধার চোখে দেখেছে, মনে রেখেছে, ১৯৭১ সালে যখন তাঁরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছিলেন, তখন রুশ মানুষেরা তাঁদের পক্ষ নিয়েছিলেন. সোভিয়েত সেনারা এই প্রজাতন্ত্রকে যুদ্ধের পরেও সাহায্য করেছিলেন, অংশতঃ দেশের এলাকা মাইন মুক্ত করে. বর্তমানেও রাশিয়া ও বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতা ভালই ফল করছে. "আমাদের সামরিক বাহিনী, যারা এমন কি বিভিন্ন শান্তি রক্ষা অপারেশনের অংশ নিচ্ছে, অস্ত্র ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন তাদের রয়েছে, আর আমরা খুশী যে, রাশিয়া এই ধরনের সরবরাহ খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আর ন্যায্য দামে করে থাকে", - বলেছেন শেখ হাসিনা ওয়াজেদ.

    এই বছরের শুরু থেকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে যে আবার জীবনের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, তা রাশিয়া ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের সাক্ষাত্কারের সময়ে আরও একবার প্রমাণিত হতে পেরেছে. ২০১০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ থেকে চারজন মন্ত্রীর একটি উচ্চ পর্যায়ের দল মস্কো সফরে এসেছিলেন. এর অল্প পরেই বাংলাদেশের রূপপুরে রাশিয়ার "রসঅ্যাটম" কোম্পানীর নিয়ন্ত্রণে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল.

    রাশিয়া, বিশ্বে পারমানবিক প্রযুক্তি তৈরী ও বিকাশের বিষয়ে এক অন্যতম অগ্রণী দেশ, এশিয়ার বহু দেশেই তারা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করছে. কিন্তু রসঅ্যাটমের রূপপুরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার বিষয়ে চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টেন্ডার জিততে হয়েছে. আর রাশিয়া এই দক্ষিণ এশিয়ার প্রজাতন্ত্রে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য যে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে, তাই হল প্রকৃষ্ট প্রমাণ, যে, যতটা বাংলাদেশ রাশিয়া সম্বন্ধে আগ্রহী, রাশিয়া বাংলাদেশের বিষয়ে তার থেকে কম আগ্রহী নয়.