বাঘ আমাদের পৃথিবীর প্রথম বা দুঃখের হলেও একমাত্র প্রাণী নয়, যা আজ মানুষের হাতে নিঃশেষ হতে চলেছে. কিন্তু এটা প্রথম প্রাণী, যার ভাগ্য মানব সমাজকে বাধ্য করেছে সম্মিলিত ভাবে সর্বোচ্চ স্তরে শক্তিকে একত্রিত করতে. ২৩ শে নভেম্বর সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রশাসনের সভাপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও বাংলাদেশ, ভুটান, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশীয়া, লাওস, মালয়োশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের প্রশাসনের নেতৃত্বরা এক ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যার লক্ষ্য হল –  বন্য বাঘকে নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা. এই তেরটি দেশ হল এশিয়ার সবচেয়ে প্রতীকী বন্য প্রাণীর শেষ আশ্রয়ের জায়গা ও তাদের উপরেই অপেক্ষা করছে এর ভাগ্য.

   সেন্ট পিটার্সবার্গে ঘোষিত দলিলে বলা হয়েছে এই সম্মেলনে নেওয়া কাজ গুলি সম্পন্ন করার জন্য প্রধান লক্ষ্য করার মতো দিক গুলি সম্বন্ধে – ২০২২ সালের মধ্যে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ৩৫০০ থেকে বাড়িয়ে সাত হাজার করা. এর জন্য কি করা দরকার? বাঘের স্বাভাবিক থাকার জায়গাকে বাঁচানো ও কক্ষা করা. বাঘের বেআইনি শিকার বন্ধ করা ও বাঘের চামড়া আর অবশিষ্টাংশ নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করা, সবচেয়ে বড় কথা হল এই ধরনের জিনিসের চাহিদাকেই “মেরে” ফেলা. বাঘের চলাফেরার পথের কাছের লোকালয়ের লোকেদের ইচ্ছা বাড়ানো, যাতে নানা ধরনের জৈব বহুরূপ বেঁচে থাকতে পারে. সংরক্ষিত এলাকাতে কোন রকমের প্রকল্প তৈরী করতে হলে তার উপরে পরিবেশ সম্বন্ধে নিয়ম বৃদ্ধি করা, সবচেয়ে মূল্যবাণ হল – সেই নিয়ম গুলি মানা হচ্ছে কি না তা লক্ষ্য করা. বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা ও আরও বহু কাজ. তা ছাড়া এই সমস্ত ব্যবস্থা ও দাবী শুধু বাঘের সম্বন্ধেই করা হচ্ছে না, বরং সমস্ত সমস্ত জীব জগতের জন্যই. অন্যভাবে বলতে হলে, এই সম্মেলনে যারা অংশ নিয়েছেন, তারা সকলেই ঐকমতে পৌঁছেছেন যে, প্রকৃতিকে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য সব কিছুই করবেন.

   এই সম্মেলনের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমানে যে কাজের পরিকল্পনা করা হল, তা বহু ফেলে রাখা সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করবে. এই সম্বন্ধে বিশ্ব ব্যাঙ্কের উদ্যোগে গঠিত “বিশ্বব্যাপী ব্যাঘ্র উদ্যোগ প্রোগ্রামের” ডিরেক্টর কেশব ভার্মা বলেছেন:

   “এই সমস্যা সমাধান করতে পারলে আমরা চিতাবাঘ ও অন্যান্য বন্য প্রাণীকেও রক্ষা করতে পারব. অর্থাত্ বাঘকে বাঁচাতে পারলে তা মানব সমাজের পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে ঐক্য মতে পৌঁছনোর ক্ষমতার প্রমাণ দেবে”.

   রাশিয়া সক্রিয়ভাবে বাঘকে বাঁচানোর জন্য কাজ করছে ও তৈরী হয়েছে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করার জন্য.

   রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ সম্বন্ধে সরকারি রাজনীতি দপ্তরের প্রধান আমিরখান আমিরখানভ বলেছেন:

   “বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার কাজ- অবশ্যই প্রথমে মনে হবে খুব কষ্ট কল্পনার, কিন্তু রাশিয়াতে তা করা সম্পূর্ণ ভাবেই সম্ভব. আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল ৪০০ – ৫০০ টির যেন কম কখনও না হয় বাঘের সংখ্যা, এই সংখ্যা একেবারেই এর থেকে কম হতে দেওয়া যায় না. আর ৭০০ টি নূতন জন্ম দেওয়ার মত বাঘ থাকলেই এই পরিকল্পনা সার্থক করা সম্ভব হয়. বরং সেই সমস্ত এলাকাতেই বিশ্বে সমস্যা রয়েছে, যেখানে বাঘের সংখ্যা শেষ হতে চলেছে, যেমন, চীনের দক্ষিণে. ইরান ও কাজাখস্থানের প্রতিনিধিরা একটি ঘোষণা করেছেন তুরান বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্বন্ধে, যা এথানে বেশ কিছু বছর আগেও ছিল. এটা অন্য আরেকটি বিজয়, যা আমাদের আমুর অঞ্চলের বাঘের সম্বন্ধে করা সম্ভব হয়েছে. সুতরাং যদি আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় সুদূর প্রাচ্যে আমুর বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি করার, তবে আমরা অন্যান্য দেশকেও সাহায্য করতে পারবো”.

   বর্তমানে এশিয় দেশ গুলির অর্থনীতি দ্রুত উন্নতি করছে. এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক কাজ হবে পরিবেশের বিভিন্ন রূপের সংরক্ষণ. আসা করব যে, সেন্ট পিটার্সবার্গের ঘোষণা বিশ্বে প্রকৃতি সংরক্ষণের বিষয়ে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সাহায্যের কাজে একটি মূল দলিলে পরিনত হবে. খুবই ইচ্ছা করে যে, বাঘ যেন শুধু ছবি আর ফোটোতেই থেকে না যায়.