আন্তর্জাতিক ন্যায় বিচার যৌথ উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে হওয়া উচিত ও বিশ্বের সমাজের কাছে তার মর্যাদা থাকা দরকার. এই বক্তব্য, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, জার্মানীর ন্যুরেমবার্গ শহরে, ন্যুরেমবার্গ বিচার শুরুর ৬৫ বছর উপলক্ষে, একটি যাদুঘরের উদ্বোধনে অংশ নিতে এসে ঘোষণা করেছেন. এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছিলেন রাশিয়া, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানীর প্রতিনিধি দল.

   নাত্সী অপরাধীদের উপরে আন্তর্জাতিক বিচার সভা তৈরী করা হয়েছিল হিটলার বিরোধী জোটের নেতৃত্বের উদ্যোগে. এই বিচারের প্রয়োজন ছিল কারণ সমগ্র মানব সমাজের জানা দরকার ছিল এই সব নাত্সীদের অপরাধ, যা তারা অধিকৃত এলাকা ও নিজেদের দেশে - জার্মানীতেই করেছিল. তখন জোটের দেশ গুলি বর্তমানের রাষ্ট্রসংঘের আইন রক্ষাকারী পরিষদ গুলির জন্য কাজের একটি ইতিহাস রচনা করে দিয়েছিলেন. গত শতকের তিরিশ ও চল্লিশের দশকের ঘটনা গুলির থেকে পাওয়া শিক্ষা আজও বাস্তবিক ভাবে প্রয়োজন. ফ্যাসীবাদ ও নূতন নাত্সীবাদ এখনও বহু রাজনীতিবিদের সমর্থন পেয়ে যাচ্ছে. এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কারীদের দৃষ্টি এই বিষয়ে আকর্ষণ করেছেন সের্গেই লাভরভ, তিনি বলেছেন:

   “ইউরোপের বহু রাজধানীতেই প্রতি বছর প্রাক্তন হিটলারের ফৌজের বিশেষ বাহিনীর লোকেদের মিছিলকে, ফ্যাসীবাদ বিরোধী ভেটেরান লোকদের বিচারের নামে প্রহসন অথবা একটি আদালতের থেকে বাল্টিক এলাকার লোকদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বলে হিটলার বাহিনীর স্বস্ত্বিকা চিহ্ণ কে গ্রহণ করা কে অন্য কি ভাবেই বা নেওযা যেতে পারে. এখানে আমি বিশেষ করে উল্লেখ করব যে, জার্মানীতেই ন্যুরেমবার্গ বিচারের রায়কে অন্য কোন রকম ভাবে সন্দেহ করতে চাওয়া কে ফৌজদারি অপরাধ বলে মনে করে হয়. আমি মনে করি, এখানে আজ যারা জড় হয়েছেন, আর বিশ্বের বেশীর ভাগ লোকেরাই, বিশ্বাস করেন যে, ন্যুরেমবার্গ শহরের বিচারালয়ে যে কাজকে মানব সমাজের প্রতি অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা স্বীকারের কোন সময় সীমা নেই ও তা থাকতেও পারে না”.

   রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, ইতিহাসকে ভুলে যাওয়ার প্রচেষ্টা অথবা “অতীতের দানবদের” ছাড় দেওয়া নূতন ট্র্যাজেডি হওয়ার উত্স. এই ধরনের নীতিগত ভাবে একক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বর্তমানের সবচেয়ে কুত্সিত আতঙ্ক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজে কোন সাফল্য আশা করা যেতে পারে না, সেই সন্ত্রাসবাদ, যার উত্স মূলে রয়েছে সেই ফ্যাসীবাদ ও যাকে তার উত্তরাধীকারী বলে মনে করা যায়. সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

   “সন্ত্রাসবাদ – সেই একই ধরনের বর্বরের নীতি, যা হিংসা, আগ্রাসকের মনোবৃত্তি, নীতি বোধের সম্পূর্ণ বিসর্জন ও মানুষের জীবনের মূল্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ রকম উদাসীন হওয়ার নীতি. সবার জন্য এক এই হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে কোন রকমের বিভেদ না রাখার আদর্শ রয়েছে, যা আজ বহুল ভাবে প্রয়োজন”.

   এই ধারণাকে সমর্থন করেছেন সের্গেই লাভরভের সহকর্মী – জার্মানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রী গিদো ওয়েস্টেরওয়েল্লে. তিনি, অংশতঃ, বলেছেন যে, ন্যুরেমবার্গ শহরে বর্তমানে কোন জয়ী বা পরাজিতেরা জড়ো হন নি, এসেছেন সহকর্মীরা, যারা আজ এক হয়েছেন ভ্যাঙ্কুভার থেকে ভ্লাদিভস্তক অবধি ঐক্যবদ্ধ নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরী করার জন্য একসাথে কাজ করতে.