বিশ্ব অর্থ তহবিল(আইএমএফ) বিশ্বের মজুদকৃত অর্থের কাঠামোগত থলি পূনঃপরীক্ষা করেছে.প্রতি ৫ বছর  অন্তর এই কাজটি করা হয়.সবাই ধারনা করেছিল যে,ঐ মুদ্রা তালিকায় চীনের ইউআন প্রবেশ করবে,বিশেষকরে বিগত পাঁচবছরে চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যতটা ধারনা করা হয়েছিল তার থেকেও ব্যাপক সাফল্য এসেছে.বলা বাহুল্য যে,২০১০ সালে  জিডিপি অর্জনে চীন বিশ্বে ২য় স্থানে রয়েছে ও বৈদেশিক বানিজ্যের পরিমানের দিক থেকে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে.

তা সত্বেও আইএমএফ চীনের ইউআন’কে গুরুত্ব দেয় নি.এর ব্যাখ্যায় যা জানানো হয় তা হলঃযদিও চীন রপ্তানী পণ্যের দিক দিয়ে বিশ্বে ৩য় স্থানে রয়েছে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের মুদ্রা ব্যাবহারের ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে এসেছে,বিশ্ব অর্থ তহবিলের উর্ধতন কর্মকর্তারা মনে করেন যে,খোলামেলাভাবে দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য যে গুনাবলী থাকা দরকার তা ইউআনের নেই এবং সেই কারণেই বিশ্বের মজুদকৃত  মুদ্রার তালিকার  থেকে ইউআনকে বাদ দেওয়া হয়েছে.

রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর দূরপ্রাচ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক আন্দ্রেই অস্ট্রোভস জানান যে,চীনকে কোন প্রকার শাস্তি প্রধানের জন্যই আইএমএফ এই সিদ্ধান্ত নেয় নি যারা ওয়াশিংটনের উত্কন্ঠাকে পরিত্যাগ করেছে.ওয়াশিংটন ইউআনের পূনমূল্যের আহবান করেছে.অস্ট্রোভস বলেন-অবশ্যই চীনের ইউআনের প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে.সঙ্গতকারণে আইএমএফ এই বিষয়টির জন্যই ইউআন’কে মুদ্রার তালিকায়  স্থান দেয় নি.বিগত বছরগুলোতে চীন দ্রুতগতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়,শুধুমাত্র চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলশ্রুতিতেই বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে.চলতি বছরে চীন-আসিয়ানের মাঝে মুক্তবানিজ্য অঞ্চল গঠনের পর কার্যতই ইউআন আঞ্চলিক মুদ্রায় পরিনত হয়েছে.মনে করি যে,আইএমএফের উর্ধতন কর্মকর্তারা বিষয়টি বুঝতে পারবে যে-মুদ্রা তালিকায়  থেকে ইউআনকে বাদ দেওয়া যা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে যখন বৈদেশিক বানিজ্যের বিশাল একটা অংশ যা চীনের সাথে সম্পর্কিত,তা ঐ সংগঠনে কোন প্রভাব ফেলবে না.

 বিশ্ব অর্থ তহবিলের এই সিদ্ধান্তে চীন স্বভাবতই অখুশী.সামগ্রিকভাবে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন চীনের রাষ্ট্রীয় নির্মাণ বাংকের প্রধান গো শুছিন.চীনের জাতীয় মুদ্রাকে যদি সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হত তাহলে বিশ্ব অর্থনৈতিক পদ্ধতিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকত.এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অনেক দেশই মুদ্রা জমার ক্ষেত্রে চীনের ইউআনের কিছু একটা অংশ জমা রাখতে পারে.রাপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বৈদেশিক লেনদেনে ইউআন ব্যবহারে উত্সাহিত করা হতে পারে.বললেন,চীনের এই বাংকার.

চীনের সাথে মুদ্রা রাজনীতিতে আইএমএফ তেমন ইতিবাচক কোন প্রভাব ফেলতে পারে নি,যারা দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয় করা গোলামীর তাবেদারী করছে.ওয়াশিংটনের মার্কিন দামী কাগজের ঋনের পরিমান ইতিমধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮৫ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে.চীন ও জাপান যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ঋানদানকারী দেশ.অধ্যাপক অস্ট্রোভস বিশ্বাষ করেন,আইএমএফের নিয়ন্ত্রনে মার্কিনীদের চীনকে শাস্তি দেওয়ার এই প্রচেষ্টার তেমন উল্লেখযোগ্য সাফল্য বয়ে আনবে না.উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বাজারের বিরুদ্ধে বুমেরাঙ্গ ফিরিয়ে আনতে পারে যারা অর্থনৈতিক মন্দার পর তা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে.