পৃথিবাতে বাঘ সংরক্ষন ও পুনরুদ্ধারের জন্য বৈশ্বায়িক স্ট্রাটেজিক বিষয়ে অংশগ্রহনকারীদের কার্যক্রম নিয়ে সেন্ট-পিটার্সবুর্গে ২১ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাঘ ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে.ফোরামের প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে-এই বিরল  হিংস্র জন্তুকে কিভাবে নিজের আবাসস্থলে সংরক্ষন রাখা যায় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া.

হবে.বিশ্বে বাঘের সংখ্যা গত শতাব্দীর ১ লাখ থেকে হ্রাস পেয়ে বর্তামানে ৩২০০ তে অবশিষ্ট রয়েছে এবং তা পরিমানে আরও হ্রাস পাচ্ছে.ভারতে যেখানে এদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী গত কয়েক বছরে বাঘের সংখ্যা ৩ ধাপ হ্রাস পেয়েছে এবং কাবকাজে,মধ্য এশিয়া,বালি ও ইয়াবা দ্বীপে এই বিরল হিংস্র প্রানী একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে হয়েছে.ঐতিহাসিক স্থানে এদের সংখ্যা বর্তমানে ৭ ভাগেরও কম.নিজস্ব বাসস্থান ব্যাতিত বন্য প্রানী সংরক্ষন বা চিড়িয়াখানায় বাঘ সংরক্ষনের সম্ভব নয়.বিশ্ব বাংকের বাঘ বিষয়ক কোর্ডিনেটর  আন্দ্রেই কুশলিন এমন মন্তব্যই করলেন.তিনি বলেন,বাঘ হচ্ছে অনেকটা ছাতি সদৃশ্য,এর অভ্যন্তরে যা আছে তা সংরক্ষন করলেই ও কেবল বেঁচে থাকতে পারে এবং তা বৃহত দৃশ্যপট.সংঙ্গত কারণেই বাঘ সংরক্ষনের ক্ষেত্রে বন্যপ্রানী আবাসস্থলের সংরক্ষনের পন্থা অবলম্বন করতে হবে কিন্তু একে শুধুমাত্র সংরক্ষন করে রাখা সম্ভব নয়.সুতরাং সংরক্ষিত এলাকা ছাড়াও মানুষকে প্রকৃতি সংরক্ষনের বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে.

বাঘ ফোরামে অংশগ্রহনকারীরা বাঘের সংখ্যা দ্বিগুন করার প্রক্লপের নিশ্চয়তা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে যা চলতি বছরের বালি দ্বীপে বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে গৃহিত হয়েছে.আগামী ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা ৭০০০ এ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে এবং তা সুষ্ঠ বাস্তবায়নের জন্য ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে.

রাশিয়ার পরিবেশ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রীর সহকারী ইগর মাইদানোভ বলেন,রাশিয়া কারণ ছাড়াই অবশ্য চলতি সম্মেলনের আয়োজনকারী দেশ হয় নি.রাশিয়ার ভূখন্ডে বাঘের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে অন্যতম একটি জনপ্রিয় প্রজাতি বাস করে এবং রয়েছে ৪৫০ এরও বেশী প্রজাতির হিংস্র জন্তু.রাশিয়ায় বাঘের বিচরন আছে দূরপ্রাচ্যে,সবার প্রথমে তা প্রিমোরে,খাবারস্কী অঞ্চলে.বিগত সময় আমুর ও ইভরেইস আবতোনোমন উপশহরে কদাচিত বাঘের দেখা মেলে.রাশিয়াই ত্রকমাত্র দেশ যেখানে বাঘের আবাসস্থল ৯০ দশকের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সংরক্ষন করে আসছে.বাঘের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া যা সম্পূর্ন বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা বা শিকারের পরও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করেছে.

১৯৯৬ সাল থেকেই আমুর বাঘ সংরক্ষনের জাতীয় নীতিমালা প্রনয়ন করা হয়েছে.৫ বছর পূর্বে এই প্রানীর সংখ্যা গননার জন্য এদের আবাসস্থলে জরিপ পরিচালনা করা হয়.বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের কাছে তথ্য রয়েছে যে,বাঘ ও বাঘিনী কোথায় তাদের বাচ্চাদের নিয়ে বসবাস করছে.এদের(বিরল হিংস্রপানী) সংরক্ষনের জন্য ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার হেক্টর নিয়ে  নিরাপদ আশ্রয় ‘লেওপার্দোভি’ তৈরী করা হয়েছে.২০০৮ সালে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদেমীর পুতিনের নিজস্ব উদ্দোগে ‘আমুর বাঘ’শিরোনামে একটি প্রকল্প শুরু হয়.যার উদ্দেশ্য হচ্ছে এই বিরল হিংস্র জন্তু সম্পর্কে গবেষনা যা রঙ্গিন বইতে অন্তুর্ভুক্ত করা হয়েছে.পৃথিবার বিরল প্রজাতির বিশাল আকারের এই বিড়াল সংরক্ষেনর দায়িত্বভার যা রাশিয়া ও পার্শ্ববর্তী চীনের উপর ন্যস্ত.সত্যিকার অর্থে মাত্র ১৩টি দেশেই বাঘ সংরক্ষন করা হয়েছে .এই দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রীদের সেন্ট-পিটার্সবুর্গে একত্রিত করা হয়েছে যার ফলে সবাই একত্রিত হয়ে বিলুপ্ত প্রানীদের সংরক্ষন করতে পারে.

 সেন্ট-পিটার্সবুর্গে বাঘ সম্মেলনের একই সময় ভ্লাদিভাস্তকে(১৮-২৪ নভেম্বর) পর্যন্ত আন্তর্জাতিক যুব ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে.যার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের যুব সমাজকে বিশ্বায়নের কার্যক্রমে সম্মিলিত করে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হতে যাওয়া হিংস্র প্রানীদের সংরক্ষন করা এবং আমুর বাঘ ও এর আবাসস্থল সংরক্ষনে দূর প্রাচ্যের যুব সংগঠনগুলোর অভিজ্ঞতা বর্ননা করা.