ন্যাটো রাশিয়ার জন্য কোন ধরনের আগ্রাসন উত্থাপন করছে না.শুক্রুবার লিসবনে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেওয়া চুড়ান্ত ঘোষণায় এই কথা বলা হয়.ঐ নথিপত্রে বলা হয়,আমরা রাশিয়ার সাথে রননৈতিক বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তৈরীতে আশাবাদী এবং নিয়মানুযায়ী তা কার্যকর করা হবে.

ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতই এই ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয়.এই বিষয়ে যুক্ত করা হচ্ছে যে,ন্যাটো ও রাশিয়ার সম্পর্ক যা রননৈতিকভাব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষভাবে যা বিশ্বে সাধারন পরিসীমা তৈরী করা এবং সাম্যতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে.নথিপত্রে আরও বলা হয় যে, সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে দৃড় ও কার্যকরী সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল.ন্যাটোর নতুন রননীতিতে রাশিয়ার সাথে রাজনৈতিক পর্যালোচনা ও বাস্তবিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়.সঙ্গত কারণে এই ক্ষেত্রে জোট রাশিয়া-ন্যাটো সোভিয়েতের পুরোপুরি বিধিনিষেধ ব্যবহার করবে.শনিবারের লিসবনের ন্যাটো-রাশিয়ার সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেবের অংশগ্রহনকে মস্কো সমর্থন জানাচ্ছে.

 মস্কো ও ব্রাসেলসের মধ্যে আলোচনার রাশিয়া-ন্যাটো সম্মেলন ২ বছর স্থগিত আছে.রাশিয়ার সাথে ন্যাটো জোটের সম্পর্ক অধপতন ঘটে ২০০৮ সনের আগষ্টে যখন জর্জিয়া দক্ষিন ওসেতিয়ায় যুদ্ধ শুরু করে এবং এই আগ্রাসনমূলক ঘটনা থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মস্কো এগিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়.রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্মেলনে ন্যাটোর সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক  উন্নয়নের বিষয়ে প্রস্তাব করবেন এবং  সেই সাথে রকেটবিরোধী প্রতিরোধ সম্পর্ক স্থাপন.

বিভিন্ন নথিপত্রের মধ্যে উভয় পক্ষই যে সব চুক্তিতে একমত হবেন সেগুলোকে সাধারন ঝুঁকি ও হুঁমকি হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়.রাশিয়া  ও ন্যাটোর উভয় পক্ষই এই প্রশ্নে মতভেদ রয়েছে.ন্যাটো মনে করে যে,রকেট হুঁমকি যা ইরানের পক্ষ থেকে প্রধানত আসছে.মস্কো এই মতবাদের সাথে একমত নয়.সামাজিক ও রাজনৈতিক গবেষনা কেন্দ্রের পরিচালক ব্লাদিমীর এবসেএব মনে করেন যে,রকেটবিরোধী প্রতিরোধ প্রকল্প শুধুমাত্র তখনই সাফল্যের মুখ দেখবে যখন উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌছাবে.ব্লাদিমীর এবসেএব বলেন,আমরা যদি যৌথ কাঠামো গঠন করি তাহলে আমাদের তথ্যের পরিব্যাপ্তি বৃদ্ধি পাবে.এই দৃষ্টিকোন থেকে যে কোন ধরনের ব্যালিষ্টিক রকেট যা ন্যাটোভুক্ত দেশ বা রাশিয়া অভিমুখি বরাবর রাখা হয়, তাহলে তা অতি দ্রুতই প্রকাশ পাবে.ন্যাটো ইরানের দিক থেকে ব্যালিষ্টিক রকেটের উতক্ষেপনের বিষয়ে সর্বাধিক তথ্য পেতে চাচ্ছে এবং রাশিয়া এই কাজে সহায়তা করতে পারবে.এই পেক্ষাপটে আমাদের রয়েছে অনেক পদ্ধতি,পরাজিত হওয়ার মত মিথ্যা সংবাদের সম্ভাবনা অনেক কম.

সম্মেলন বিষয়ে মস্কোর অবস্থান হচ্ছে যে,রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থনে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে.রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সহকারি সেরগেই প্রিখোদকা নিশ্চয়তার সাথে বলেন,এই পদ্ধতি বাস্তবতার সাথে সম্পর্কযুক্ত ও এর কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই.সব কিছুই রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে.এই পদ্ধতি অবশ্যই রাশিয়া ও ন্যাটোর নেতাদের কার্যক্রমে প্রকাশ পাবে.

আশা করা হচ্ছে যে,উভয় পক্ষই আফগানিস্তান থেকে সামরিক পণ্য ফিরিয়ে নেওয়ার সময় রাশিয়াকে ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহারের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে কাজ করবে.এই চুক্তি মূলত প্রকাশ করবে আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে ন্যাটো জোটের পরিবর্তিত চিত্র.সেরগেই প্রিখোদকা উল্লেখ করেন যে,এই ধরনের চুক্তি আবশ্যকীয় যার ফলে সামরিক অস্ত্রের পরিবহন হ্রাস পাবে যা ন্যাটোর মিত্রদেশসমূহ কাবুলে রেখে আসতে চাচ্ছে না.