উত্তর অতলান্তিকের জোটকে আরও কার্যকরী করা. ন্যাটো জোটের কাঠামো বদলের এইটাই উদ্দেশ্য, যা লিসাবন শহরের শীর্ষবৈঠকে জোটের সদস্য দেশ গুলি সমর্থন করার জন্য তৈরী হচ্ছে. নতুন যা প্রস্তাব আছে – তা হল ন্যাটো জোটের স্ট্র্যাটেজিক ধারণা. তার প্রস্তাব প্রকল্প, যা এই বৈঠকের আগেই জোটের সদস্যদের রাজধানী গুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে নতুন বিপদ আশঙ্কা গুলি সম্বন্ধে, তার মধ্যে রয়েছে রকেট হামলা ও সন্ত্রাসবাদের সাইবার আক্রমণের সম্ভাবনার কথা. নতুন ধারণার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা তৈরী করার কথাও প্রস্তাব করা হয়েছে. এই ধরনের সহযোগিতার “পথ নির্দেশ” তৈরী করা হবে ২০ শে নভেম্বর রাশিয়া ন্যাটো জোট শীর্ষ বৈঠকে.

   উত্তর অতলান্তিকের জোট গোপন করেনি যে, লিসাবন শহরের বৈঠকে আশা করেছে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে তৈরী করবে, এই কথা উল্লেখ করেছেন ন্যাটো জোটে রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রগোজিন, তিনি বলেছেন:

   “ন্যাটো জোটের সদস্যরা আমার মতে বোধহয় চাইছে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি স্থাপন করতে. তাদের রাশিয়াকে প্রয়োজন, আর তারা, শেষ পর্যন্ত, এটা বুঝতে শুরু করেছে. তাই এই দলিল গুলিতে এমন কি স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার কথাও রয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে একসাথে বিশ্বের নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানের কথাও রয়েছে. সেখানে বলা হয়েছে রাশিয়া- ন্যাটো জোটের মত ফোরাম, যে কোন আবহাওয়ার অবস্থাতেই কাজ করতে বাধ্য, যে কোন সমস্যার আলোচনার জন্যই তা খোলা থাকা উচিত. আমি ন্যাটো জোটের এই রকমের নমনীয়তার কথা এর আগে কখনও ছিল বলে মনে করতে পারছি না, তারা এর মধ্যে আবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া সংশোধনী গুলিও গ্রহণ করেছে”.

বিগত বছর ধরে রাশিয়া ও ন্যাটো জোট একসঙ্গে মিলিত বিপদ গুলির সম্বন্ধে মূল্যায়ণ করেছে. এথানে তর্ক অনেক সময়ই হয়েছে খুবই গুরুতর. যেমন, রকেট হামলার আশঙ্কা দুই পক্ষের তরফ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রকমের ভাবে দেখা হয়েছে. শেষ অবধি ঠিক করা হয়েছে যে, কোন রকমের সহমতে আসার ফরমুলা খোঁজা হবে না, যে রকম মনে হয়েছে, তার সমস্তটা এই দলিলে উল্লেখ করা হবে এবং তা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং ন্যাটোর শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের বিচার করার জন্য সামনে প্রস্তাব করা হবে. তারা নিজেরাই ঠিক করুন এটা নিয়ে কি করা হবে, কারণ এই প্রশ্নে একে অপরকে বুঝতে পারার উপর নির্ভর করেছে একসাথে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা করা হবে কি হবে না.

   বিশেষজ্ঞরা অবশ্য একসাথে এই রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করার বিষয়ে কোন নীতিগত বাধা দেখতে পাচ্ছেন না. রাশিয়ার মূল প্রতিবাদ হল যে, তার নিজেদের দেশের সীমান্তের কাছে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বসানো যাবে না আর কোন একটি দেশকে দানব বানানো চলবে না, অংশতঃ ইরান কে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী সের্গেই প্রিখোদকো ঘোষণা করেছেন যে, “রাশিয়া সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, আর রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার ধারণাকে সম্পূর্ণ ভাবেই বাস্তবায়িত করা সম্ভব, এমনকি দীর্ঘকালীণ কোন পরিস্থিতি অবধি দেরী না করে, ভবিষ্যতে মাঝারি মাপের সময়ের মধ্যেই”. স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কনোভালভ পরিস্থিতিকে এই ধরনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সঙ্গে একমত, তাই তিনি বলেছেন:

   “প্রধান হল যে, কোন রকমের বাধা বর্তমানে নেই. বর্তমানে একটি সমস্যা রয়েছে - বোঝা দরকার, আমাদের কি প্রস্তাব করা হচ্ছে. বাস্তবে, তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে. একটা হল রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করা যুদ্ধ ক্ষেত্রের জন্য – এই প্রসঙ্গে আমরা আগে কখনও ইউরোপীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম. তার পরে ইউরোপের সমস্ত এলাকার জন্য রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থারই সম্ভাবনা বৃদ্ধি করার কথা হতে পারে. আর শেষ অবধি বলা যেতে পারে, সারা বিশ্বের জন্য রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করা, যাতে অতলান্তিক পারের সমস্ত দেশ যারা উরাল পর্বতমালা পর্যন্ত রয়েছে, তারা সকলেই যোগ দিতে পারে. একটি ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, এই ব্যবস্থা তৈরী করতে যে সমস্ত দেশ রাজী হবে, তারা নিজেরা নিজেদের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা তৈরী করবে. তারপরে সব কটিকে একসাথে যোগ করে জোট ব্যবস্থা করা হবে. অন্য ক্ষেত্রে এর জন্য আলাদা করে সম্পূর্ণ ব্যবস্থা আগে তৈরী করতে হবে. এই সবই আলাদা রকমের ব্যাপার, আর তখন পরিস্কার করে বুঝতে হবে, আমরা সম্মিলিত রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বলতে কি বুঝছি”.

   দিমিত্রি মেদভেদেভ লিসাবন শহরে শুধু রাশিয়ার আগে জানা অবস্থান নিয়েই তাঁর বক্তব্য রাখতে চান না, বরং তিনি চেয়েছেন রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্বন্ধে নিজের কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব করতে. আর তখন বক্তব্যের অপেক্ষায় থাকতে হবে ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকেই, তাদের বিপদের আশঙ্কা মূল্যায়ণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরীর বিষয়ে সমানাধিকারে সহযোগিতা করার বিষয়ে কি রকম ক্ষমতা রয়েছে তার দিক থেকে.