মিস্টি জল সংরক্ষণের বিষয়ে রাশিয়া উদ্যোগ নিচ্ছে. রাশিয়ার লোকসভাতে প্রশাসনের জন্য নির্দিষ্ট বক্তৃতার ঘন্টায় রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রধান ইউরি ত্রুতনেভ এই বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন.

    এখানে অংশতঃ বক্তব্যের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন দেশের জল সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে, যার মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্দিষ্ট করা হয়েছে. এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নের ফলে দেশে জলের অপচয় কমবে দ্বিগুণ, আর তার সঙ্গেই জল সম্পদের উপর নেতিবাচক বিষয় গুলির প্রভাবও কমবে.

    সংরক্ষণের বিষয়ে প্রধান কাজ, যে গুলির কথা মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে অযৌক্তিক ভাবে জলের ব্যবহার কমানো, জলের উত্স গুলির গুণগত মানের উন্নতি করা এবং জলের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশের জনগনকে রক্ষা করা. এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রাথমিক ভাবে অর্থনৈতিক কারণেই নেওয়া হচ্ছে. জল সমস্যা সংক্রান্ত ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর আলেকজান্ডার গেলফান বলেছেন:

    "পরিবহনের সময়ে জলের অপচয় আমাদের দেশে বিশাল পরিমানে হয়ে চলেছে. প্রতি বছরে প্রায় ৭, ৮ কিউবিক কিলোমিটার জল অপচয় হচ্ছে. তার মধ্যে ৩, ৫ কিউবিক কিলোমিটার – বাড়ী ঘরে জল সরবরাহের পাইপ লাইনে অপচয় হচ্ছে. আরও প্রায় চার কিউবিক কিলোমিটার কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার যোগ্য জলে অপচয় করা হচ্ছে. সাতের বেশী কিউবিক কিলোমিটার জল মানে কতটা, তা বোঝা যেতে পারে এই ভাবে ভাবলে যে, এই পরিমান জল ইউরোপের যে কোন মাঝারি মাপের দেশের, যেমন, ডেনমার্ক বা হাঙ্গেরীর মত দেশের সারা বছরে যতটা জল লাগে, ততটা. এটা একেবারেই কল্পনাতীত পরিমান, যা একেবারেই নজরের বাইরে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়".

    তা ছাড়া জলের গুণ নিয়েও সমস্যা রয়েছে, যা আজ গ্রাহকেরা পাচ্ছেন, নানা রকম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে তা খুবই খারাপ হয়েছে. উদাহরণ হিসাবে, শুধু বন্যা থেকেই ক্ষতি হয় বছরে কয়েক বিলিয়ন রুবল ক্ষতি হচ্ছে. এই সমস্ত দিকেই ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে অযৌক্তিক ভাবে জলের খরচ কমানো যায়.

    অনেকের জন্যই এই ধরনের ব্যবস্থা মনে হতে পারে যুক্তি হীণ. তারা মিস্টি জলের সম্পদের ক্ষেত্রে রাশিয়ার নেতৃ স্থানীয় অবস্থানের কথাও উল্লেখ করতে পারেন. কিন্তু তার মানে নয়, যে, থাকলেই তার অপচয় করতে হবে ঠিকমত খরচ না করে. মনোযোগ দিতে হবে যে, মিস্টি জল ভাগ করে দেওয়ার বিষয়েও দেশের ভিতরেই প্রাথমিক ভাবে নদীর অববাহিকা একে বারেই সমান ভাবে সামঞ্জস্য পূর্ণ নয় আর তা জনগনের বসতি ও শিল্প গুলির সঙ্গেও হিসাব অনুযায়ী করা নয়.

    তার উপরে রাশিয়া কোন একক বিশ্বে বাস করে না. বর্তমানে মিস্টি জল সারা বিশ্বেই অপ্রতুল প্রাকৃতিক সম্পদে পরিনত হচ্ছে. বিংশ শতাব্দীতে এই জলের ব্যবহার বেড়েছে সাত গুণ, একই সময়ে বিশ্বে মানুষের সংখ্যা কিন্তু বেড়েছে তিন গুণ. ইউনেস্কো থেকে প্রকাশিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেক লোক পানীয় জলের অভাব বোধ করবে. এখনই বিশ্বের বহু অঞ্চলে এর অভাবের ফলে বিরাট পরিমানে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা শুরু হয়েছে, যা বিশ্বে স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে ও সারা বিশ্ব জুড়ে বিপর্যয়ের সৃষ্টি করতে পারে. এই প্রসঙ্গে জলের অপচয় কমিয়ে ও তার উত্স গুলির অবস্থা ভাল করলে, রাশিয়া শেষ অবধি বিশ্বে জলের ব্যবহার সম্বন্ধে পরিস্থিতি উন্নত করতে পারে.