ক্রমানুসারে ষোড়শ রাশিয়া – ভারত আন্তর্প্রশাসনীয় আর্থ- বাণিজ্য, বিজ্ঞান-  প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা পরিষদের বৈঠক এই দিন গুলিতে নয়া দিল্লী শহরে শুরু হতে চলেছে. রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব করবেন এই পরিষদের নূতন সহ সভাপতি রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী সের্গেই ইভানভ. এই পদে তিনি তাঁর পূর্বসূরি সের্গেই সবিয়ানিনের জায়গায় নিযুক্ত হয়েছেন, সবিয়ানিন অক্টোবর মাসের শেষে মস্কো শহরের মেয়রের পদে আসীন হয়েছেন. ভারতের পক্ষ থেকে আন্তর্প্রশাসনীয় পরিষদের নেতৃত্ব করছেন এই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস.এম কৃষ্ণ.

    পরিষদের বর্তমান সম্মেলন দিল্লী শহরে আসন্ন রাশিয়া ভারত শীর্ষ বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে. এই বছরের ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ভারত সফরে যাবেন. জানানো হয়েছে যে, বর্তমানের পরিষদের আলোচনাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সমস্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে. এই আলোচনার অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের মনোযোগ নিবদ্ধ রাখবেন প্রাথমিক ভাবে দুই দেশের সহযোগিতার ভিত্তি মূলক বিভাগ গুলির প্রতি – বাণিজ্য, পারমানবিক শক্তি উত্পাদন, জ্বালানী ও শক্তি ব্যবস্থা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি. মহাকাশ বিজ্ঞান ইত্যাদি. দুই পক্ষই বিচার করে দেখবে কি করা হয়েছে, কি করা আরও দরকার, কি ধরনের সমস্যা রয়েছে, কি বিষয়ে কাজ বাকি ও কি করে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে.

    এই ধরনের বহু দিকের ও বিশাল সহযোগিতার ক্ষেত্রে, যা আমাদের দেশ দুটির মধ্যে আজ বৃদ্ধি হয়েছে, তাতে অবশ্যই বহু জটিলতা এবং সমস্যাও রয়েছে. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার অর্থনীতিবিদ বিজ্ঞানী গেন্নাদি চুরফিন বলেছেন:

    "এটা কোন গোপন কথা নয় যে, এই কিছু দিন আগেও আমাদের দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বেশ কিছু বিষয়ে সহজ পরিস্থিতি ছিল না. আর্থ- বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নতি করছিল ধীরে, আর সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে জটিলতা ছিল ভারতকে কিছু নীচু মানের সামরিক প্রযুক্তির দ্রব্য পাঠানোর জন্য. বর্তমানে দেখা গিয়েছে আবার একটি পরিবর্তনের হাওয়া. বিশ্বে অর্থনৈতিক সঙ্কট থাকা স্বত্ত্বেও গত বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে. দুই দেশই আশা করছে যে, এই দিকে অনুভব উপযুক্ত উন্নতি দেখা যাবে. দুই পক্ষই নূতন সম্ভাবনার উপরে বড় মাপের আশা প্রকাশ করেছে, যা রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতকে শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা হিসাবে ও অন্যান্য শক্তি উত্পাদন ব্যবস্থার উন্নতি করবার পথ হিসাবে খুলছে".

    রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের এই বছরের মার্চ মাসে ভারত সফরের সময়ে অনেক মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল বর্তমানের সমস্যা সমাধানের জন্য, ভারত ও রাশিয়ার সহযোগিতার ক্ষেত্রে যে সমস্ত জায়গা গুলি ক্ষীণ প্রবাহে বয়ে যাচ্ছিল, সেই গুলিকে পরিস্কার করে দেওয়ার জন্য. তখন অংশতঃ, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, এই বছরের শেষের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমান দশ বিলিয়ন ডলারের বেশী করতে হবে, আর ২০১৫ সালের মধ্যে এই পরিমান দ্বিগুণ অর্থাত্ কুড়ি বিলিয়ন পার করতে হবে. ভারত সফরের আগে সের্গেই ইভানভ জানিয়েছেন যে, সমস্যাগুলির সমাধান করা হচ্ছে. তাঁর কথামতো "ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান খুব বেশী না হলেও স্থিতিশীল ভাবেই বাড়ছে". "এই বছরের নয় মাসের শেষে উন্নতি হয়েছে গত বছরের তুলনায় শতকরা ২৪ শতাংশ, আর বাণিজ্যে বিনিময়ের পরিমান এর মধ্যেই দশ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে". রাশিয়ার থেকে রপ্তানীর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে আন্তর্প্রশাসনীয় পরিষদের সহ সভাপতি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে রাশিয়া থেকে ভারতে রপ্তানী করা দ্রব্যের মধ্যে প্রায় শতকরা ৪৫ ভাগ উচ্চ প্রযুক্তি নির্ভর দ্রব্য.

    বাণিজ্য বৃদ্ধি করার জন্য নূতন সম্ভাবনার সন্ধান করা হচ্ছে. কিছু দিন আগে রাশিয়ার শক্তি উত্পাদন যন্ত্র তৈরী করার হোল্ডিং কোম্পানী "অ্যাটমএনের্গোমাশ" এর জেনেরাল ডিরেক্টর ভ্লাদিমির কাশ্যেঙ্কো জানিয়েছেন যে, ভারতের বাজারে নানা ধরনের উপায়ে কাজ করার চেষ্টা চলছে. "ভারত এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য খুবই আগ্রহজনক জায়গা" বলে কাশ্যেঙ্কো মনে করেছেন. কিন্তু এই বাজারে কঠিন প্রতিযোগিতা এখনও বাকি আছে কারণ এখানে আমেরিকার কোম্পানী গুলিও উদয় হয়েছে. রাশিয়াকে এই ধরনের প্রতিযোগিতার জন্য তৈরী থাকতে হবে.

    কিছু দিন আগে কুদানকুলাম শহরে রাশিয়ার প্রযুক্তি সহায়তাতে তৈরী হওয়া একটি পারমানবিক রিয়্যাক্টরের চালু করার আগে যন্ত্র পাতির চাপ সহ্য করার পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে. এই রিয়্যাক্টরটি এই বছরের শেষের আগেই কাজ শুরু করবে, আর আগামী বছরের শুরুতে দ্বিতীয় রিয়্যাক্টরটি কাজ করতে শুরু করবে. এই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জমিতে বাড়তি আরও চারটি পারমানবিক রিয়্যাক্টর ব্লক তৈরী করার বিষয়ে চুক্তি করা হয়ে গিয়েছে. সব মিলিয়ে ভারতে রাশিয়ার সহযোগিতায় আগামী দশ বছরে ১৬টি পারমানবিক শক্তি উত্পাদনের ব্লক তৈরী হবে. আর এটা প্রতিযোগীদের সঙ্গে আমাদের দৌড়ের ক্ষেত্রে একটা হ্যান্ডিক্যাপ.