ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই রাশিয়ার নাগরিকের কি যোগাযোগ ছিল তা যেন কোন রকমেই ফাঁস না হয়ে যায়, তার জন্য ভিক্টর বুটকে পাওয়ার জন্য আকুলি বিকুলি করছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. মঙ্গলবারে বুটকে থাইল্যান্ড থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য দ্রুত অপারেশনের পর এই রকম একটা মত প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট.

    আমেরিকার এই সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী ইরাক আক্রমণের পর কয়েক বছর ধরে বুটের পরিবহন কোম্পানীকে পেন্টাগনের ঠিকাদারেরা ব্যবহার করেছিল ইরাক ও আফগানিস্থানে মাল পাঠানোর জন্য. ২০০৪ সালে রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ জুনিয়র এক নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে বুটের সঙ্গে যে কোন রকমের সহযোগিতাকে বেআইনি বলা হয়েছিল. কিন্তু পেন্টাগন তার সঙ্গে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চুক্তি দীর্ঘায়িত করেছিল বলে খবরের কাগজটি লিখেছে.

    প্রসঙ্গতঃ এটা বুটের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে আফগানিস্থানে মাল পাঠানোর বিষয়ে প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল না, এই বিষয়ে লক্ষ্য করতে বলেছেন সামরিক ও রাজনৈতিক ইনস্টিটিউটের সামরিক ভবিষ্যত ধারণা কেন্দ্রের প্রধান আনাতোলি শীগান্যুক, রেডিও রাশিয়া কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে.

    "আফগানিস্থানের মাদক পাচার চক্রের চাঁইদের সঙ্গে চুক্তির পয়সা জুটিয়েছে সি আই এ, এটা কারও জন্যেই গোপন কথা নয়. তাই নব্বই এর দশকের পরিস্থিতিতে খুবই সম্ভাব্য ছিল যে, বুট সি আই এ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করে অস্ত্র পাঠাতো. আমি এই ধরনের একটা ব্যাপার হতে পারে বলে মানতেই পারি. কিন্তু বোঝা দরকার যে, বুট সাহেবের কোম্পানী নব্বই দশকের শেষের দিকে একটা ফাঁকা মাঠ দখল করেছিল, সেটা হল জটিল দেশ গুলিতে যাওয়া. আর তাই বুট তার মাল বয়ে নিয়ে যাওয়ার বেশী সময়টাই, বলা যাক শতকরা নব্বই ভাগ সময়ে খাদ্য দ্রব্য বয়ে নিয়ে গিয়েছে এই সব জায়গায়, আর শতকরা দশ ভাগ সময় বয়ে দিয়েছে অস্ত্র. কিন্তু অস্ত্রের পরিবহন সব দেশের সঙ্গে আগে থেকে কথা বলে তবেই করা হয়েছে, তাই বুট কোন আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে নি".

    ভিক্টর বুট নিজে বেআইনি অস্ত্র সরবরাহ সম্বন্ধে অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে, এটা ঠিক যে, সে বিমান পরিবহনের কাজ করেছে আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যে. কিন্তু তার সমস্ত মালেরই নথি ছিল, আর যদি তা মালের সঙ্গে না মেলে, তবে সেটা বুটের দেখার কথা নয়.

    এই মতকে ভুল প্রমাণ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারে নি, কিন্তু অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয় নি. তাদের বুটের উপরে রাগ ভীষণ. ১৯৯৫ সালে কান্দাহার থেকে তালিবদের আটকে রাখা বুটের বিমান ও তার চালক দলকে পালিয়ে যেত সাহায্য করাকে আজও তারা ভুলতে পারে নি. সি আই এ এই বিমানটিকে ধরার কাজ দেখছিল, তাই এই কাজে অসফল হয়ে তারা সারা সংস্থাতেই সবাই মিলে বিরক্ত হয়েছিল.

    কুচুটে ও প্রতিহিংসা পরায়ণ আমেরিকার গুপ্তচর বাহিনী অতীতের কথা ভুলতে না পেরে বুটকে ধরতে যাওয়ার প্রচুর চেষ্টা করেছে ও তার বিমান পরিবহনের ব্যবসা বন্ধ করার চেষ্টায় কসুর করে নি, তাই শেষ অবধি থাইল্যান্ডে বুটকে ধরতে পেরেছে. কিন্তু তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগই ছিল বানানো, আর তার প্রমাণ একেবারেই ফালতু, তাই থাইল্যান্ডের সরকার দুই বছর ধরে বুটকে ধরে জেলে আটকে রাখার পরে শেষ অবধি ছেড়ে দেবে তৈরী হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে প্রবল চাপের কাছে শেষ অবধি থাইল্যান্ডকে হার মানতে হয়েছে, এই কথা বলে রাশিয়ার লোকসভার গেন্নাদি গুদকোভ রেডিও রাশিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্কারে আরও যোগ করেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ করার যুক্তি খুবই সামান্য. বুট – রাশিয়ার নাগরিক, আর অপরাধ, তারা যে রকম মনে করেছে, করা হয়েছে একেবারেই অন্যান্য সব দেশে, যা কোন কালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের আওতায় পড়ে না. তাই বুটের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মামলা করা একেবারেই যুক্তি হীণ. হয় তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভাবা হয়েছে যে, সারা বিশ্ব জুড়ে যা কিছুই তাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে, তাই তাদের আইন অনুযায়ী বিচার যোগ্য".

    ভিক্টর বুটের সঙ্গে আমেরিকার আইন রক্ষা কারীদের পরবর্তী যুদ্ধ নিউ ইয়র্কের আদালতে হবে. কিন্তু সন্দেহ করার মতো বড় কারণ হল, সেখানে সত্যিকারের কোন বিচার আদৌ হবে কি না. এই বিষয় নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের জেনেরাল ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন.

    "যেহেতু আমেরিকাতে জনমত তার সম্বন্ধে এর মধ্যেই তৈরী করা হয়ে গিয়েছে. সেই কারণেই ভিক্টর বুটের বিচার কখনোই নিরপেক্ষ হতে পারে না. "অস্ত্র শালার রাজা" নামে সিনেমা হলিউড অনেকদিন হল তৈরী করেছে নিকোলাস কেজ কে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে নামিয়ে. সেখানে বলা হয়েছে নায়কের ইতিহাস বুটের ইতিহাস, তাই বুটের ওই দেশে কোন সুবিচার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতেই পারে না".

    এই বিচারের নামে প্রহসন কতদিন ধরে চলবে তা কেউ বলতে পারে না, কারণ এই ধরনের ক্ষেত্রে আমেরিকার আদালত অনন্তকাল তদন্ত চলতে দিতে পারে. তার উপরে সত্য বিপদের আশঙ্কাও রয়েছে, অভিযুক্তের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি সেখানে বাস্তবে পিটিয়ে আদায় করাও হতে পারে. অন্ততঃ সেই রকমের ঘটনা বিশ্বের এই তথাকথিত "গণতন্ত্রের শেষ ঘাঁটিতে" আগেও ঘটতে দেখা গিয়েছে.