সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ব্যাঘ্র সংরক্ষণ সম্মেলনে এই বিরল প্রাণীর সংরক্ষণের জন্য একটি বিশ্ব ব্যাপী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হতে চলেছে. এই পরিকল্পনার লক্ষ্য – বিশ্বে ব্যাঘ্রের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, সংবাদটি জানিয়েছেন মস্কো শহরে রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ইগর মৈদানভ.

    গত একশ বছরে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা তিরিশ ভাগের কম হয়ে গিয়েছে. বর্তমানে এদের সংখ্যা মাত্র তিন হাজার দুশোটি. বাঘ – এক বিশিষ্ট ধরনের প্রাণী, মানুষকে সব সময়েই বাঘরা আকর্ষণ করেছে, কিন্তু সব সময়ে ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, এই কথাই বিশেষ করে বলেছেন ইগর মৈদানভ.

    "বেশ কিছু জায়গাতে বাঘ সম্পূর্ণ ভাবে নিশ্চিহ্ণ হয়ে গিয়েছে – ককেশাস পর্ব্বতের পিছনের দিকে, মধ্য এশিয়াতে, বালি দ্বীপপূঞ্জে, জাভাতে. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী, প্রতি বছরে দেড়শটি বাঘ মেরে ফেলা হচ্ছে. তাদের অধ্যুষিত অঞ্চল শতকরা চল্লিশ ভাগ কমেছে, আর বর্তমানে বাঘ তার ঐতিহাসিক ভাবে জানা থাকার জায়গার মাত্র শতকরা সাত ভাগ জায়গাতেই দেখতে পাওয়া যায়. রাশিয়াতে বাঘ রয়েছে সুদূর প্রাচ্যে, প্রথমতঃ প্রিমোরস্ক অঞ্চলে ও খাবারভস্ক অঞ্চলে. বিগত কিছু কাল ধরে বাঘ আমুর অঞ্চল ও ইহুদী স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চলেও দেখতে পাওয়া গিয়েছে. ধারণা রয়েছে যে, সেখানে তাদের পাকাপাকি থাকা চলতে পারে.রাশিয়া বিশ্বে একমাত্র দেশ, যেখানে বাঘের থাকার জায়গা নব্বই দশক থেকে একটা চির স্থায়ী আকার নিয়েছে. এদেশে বাঘের সংখ্যা ৪৫০. বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হয়েছে বাঘ ধরা ও শিকারের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করণ".

    ব্যাঘ্র সম্মেলনের সামান্য কিছু দিন আগেই রাশিয়ার বিখ্যাত জীব বিদ্যা বিশারদ ও শিকার বিশেষজ্ঞ আনাতোলি বেলভ এডেনবার্গের কাউন্ট ফিলিপের কাছ থেকে বিশ্ব বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ তহবিলের সোনার মেডেল পেয়েছেন চোরা শিকারীদের মোকাবিলা করার জন্য, যারা এই বিরল প্রাণীকে নিশ্চিহ্ণ করে দিতে চেয়েছিল. কারণ বেলভ যে লিওপার্ড নামের দলের নেতৃত্বে রয়েছেন তারা রাশিয়াতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পেরেছেন ও বাঘের সংখ্যা স্থিতিশীল করতে পেরেছেন.

    একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ এবং বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য পরিবেশ বিজ্ঞানীদের প্রশাসনের কাছ থেকে অনেকগুলি প্রশাসনিক ব্যবস্থা আদায় করতে হবে বলে বিশ্বাস করেন রাশিয়ার বিশ্ব বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ তহবিলের ডিরেক্টর ইগর চেস্তিন.

    "সেডার গাছ কাটা বন্ধ করা সম্বন্ধে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা আবার নতুন করে করতে হবে, কারণ বাঘ এই ধরনের জঙ্গলেই থাকতে পছন্দ করে. এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে শুধু সরকারি উচ্চ মহলেই. বাঘের চামড়া বা অংশ যাদের কাছে পাওয়া যাবে, বা যারা তা পরিবহন করবে, তাদের শাস্তি হতে হবে খুবই কঠিন. আমাদের দেশে প্রকৃতিতে বাঘ মারলে তার শাস্তি কঠিন, কিন্তু তা ধরতে পারা খুবই কঠিন ও প্রায়ই সম্ভব হয়ে ওঠে না. আর যারা বাঘের চামড়া ছাড়ায় বা তা কেনে তারা অল্প স্বল্প জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যায়. অন্য একটি দিক হল – প্রতি বছরে এই সংরক্ষণের কাজের জন্য বছরে চল্লিশ পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার আগামী কম করে হলেও বছর বারো খরচ করতে হবে. কারণ কোন বিশেষ অভয়ারণ্য বা শিকার নিষিদ্ধ করা জায়গাতেই শুধু বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়". এই কাজের জন্য মানুষকে প্রকৃতি সংরক্ষণ করতে শিখতে হবে অরক্ষিত বনাঞ্চলেও.

    আশা করা হয়েছে যে, ব্যাঘ্র সম্মেলনে ১৩ টি দেশের প্রধান ও মন্ত্রীরা অংশ নেবেন, যাদের দেশ গুলিতে এখনও বাঘ দেখতে পাওয়া যায়, আর তাঁদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা গুলির প্রতিনিধিরাও থাকবেন. সেন্ট পিটার্সবার্গের ব্যাঘ্র সম্মেলনের সময়ে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে পাশাপাশি চলবে যুব ব্যাঘ্র সম্মেলন.