মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ জুনিয়র কে তাঁর শাসন কালে বন্দী নির্যাতন ও বর্তমানেও সেই বিষয়ে খোলাখুলি সমর্থন করার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য বিশ্বের ৭৩টি দেশ থেকে ১৪৬টি নির্যাতিত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর কেন্দ্র থেকে একটি লিখিত আবেদনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাকে আহ্বান করা হয়েছে. এই খোলা চিঠিতে মানবাধিকার রক্ষা কর্মীরা বলেছেন যে, সমস্ত নির্যাতিত ব্যক্তিকে চিকিত্সার খরচ ও মানসিক সাহচর্য দিতে হবে. এক সপ্তাহ আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এন বি সি টেলিভিশন চ্যানেল কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তাঁর শাসন কালে বহুল প্রচলিত বন্দী নির্যাতন ও ডুবিয়ে মারার মত ভয়ঙ্কর মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে কথা আদায় করার কাজকে সমর্থন করে বক্তৃতা দিয়েছেন. বুশ বলেছেন যে, এই পদ্ধতি গুলি ছিল আইন সম্মত.

    আমেরিকার ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক ভাবে নিষিদ্ধ স্বীকারোক্তি আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে স্ক্যাণ্ডাল আজ বেশ কিছু বছর ধরেই চলছে. এই অত্যাচার করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান যুদ্ধ বন্দী সংক্রান্ত জেল খানা এই দেশের বাইরে কিউবার গুয়ানতানামো ঘাঁটিতে. ইউরোপে আমেরিকার গুপ্তচর বাহিনী কয়েকটি গোপন উড়ন্ত জেল খানা খুলে রেখে ছিল. সি আই এ সংস্থার ভাড়া করা এরোপ্লেন এক দেশ থেকে অন্য দেশে উড়ে গিয়েছে. সেই সমস্ত বিমানের মধ্যে ছিল বন্দীরা, যাদের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছি একেবারেই আইন না মেনে. তার উপরে সেই সমস্ত দেশে যেখানে এই সমস্ত বিমান জ্বালানী নিতে নেমেছিল, তাদের সরকারকে এই সব উড়ন্ত নরকে কি হচ্ছে, তা জানানো হয় নি. কিন্তু তখন অভিযোগ করা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বাহিনীকে, কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয়. যদিও কারও সন্দেহ ছিল না যে, আমেরিকার প্রশাসনের প্রথম সারির নেতৃত্ব এই বিষয়ে ভাল রকমই অবহিত ছিলেন, তবুও তাদের দিকে কোন নির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয় নি.

    বিগত কিছু দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেন যে, তিনি শুধু এই বিষয়ে জানতেনই না, আবার নিজেই তা করার জন্য অনুমতি দিয়েছেন. এই প্রসঙ্গে তিনি খুবই বক্রোক্তি করে ঘোষণা করেছেন যে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে বহু লোকের নাকি জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা গুলি ঘোষণা করেছেন যে, এই ধরনের স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত বিষয়ে আঘাত করে করা হয়েছে. তাই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার বিশ্লেষক রব ফ্রায়ের মার্কিন প্রশাসনকে আহ্বান করেছেন এই ধরনের বক্তৃতার প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনে. আর গ্রেট ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত বিশারদ ফিলিপ স্যান্ডস মনে করেন যে, বুশের কাজ কর্ম বিশ্বে আমেরিকার নেতৃত্ব সম্বন্ধে সন্দেহের অবকাশ তৈরী করেছে.

    যদিও বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান যে, হোয়াইট হাউস বুশ জুনিয়র এর বিরুদ্ধে আইন সঙ্গত মামলা দায়ের করবে না, কারণ এটা আমেরিকার ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে না, যদিও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক অপরাধের বিষয়ে কোন রকমের ছাড় পেতে পারেন না এবং বিশ্বের যো কেন দেশেই তাকে অপরাধী বলে সাব্যস্ত করা চলতে পারে. তাই বারাক ওবামা হয়ত কোন কিছুই করবেন না. রাশিয়াতে ইউরোপীয় সংঘের অ্যাডভোকেট সংস্থার সরকারি প্রতিনিধি আলেকজান্ডার ত্রেশ্যেভ এই রকমই মনে করে বলেছেন:

    "যদিও দুই রাষ্ট্রপতি একেবারেই অন্য শিবিরের, একজন ডেমোক্রাট ও অন্য জন রিপাবলিকান দলের, তাদের অবস্থান ছোঁয়ার বাইরে. কারণ আমেরিকার লোকেরা অভ্যস্ত যে, তাদের সবচেয়ে দামী যা আছে, তা হল জাতীয় নিরাপত্তা. আর তাদের পরিকল্পনার মধ্যে তারা যে কোন ধরনের অপরাধের বিষয়ে চোখ বুঝে থাকতে পারে, ব্যক্তির উপরে যে ধরনের অত্যাচার এবং নিগ্রহ যা হচ্ছে ও যা থেকে সারা বিশ্ব মর্মাহত হয়েছে, সেগুলির থেকেও".

    তা স্বত্ত্বেও বাস্তব হল যে, মানবাধিকার রক্ষা কর্মীরা আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টি ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন এই ধরনের কাজকর্মের উপরে ও তা আজ সম্মান করার মতো. যাই হোক না কেন, ঐতিহ্য অনুযায়ী দু মুখো রাজনীতি যা পশ্চিমে মানবাধিকার সম্বন্ধে রয়েছে, তা আর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোন মত হিসাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না.