প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বিশ্বে খুবই বেশী করে বাড়বে. এটা ইউরোপ ও বিশেষ করে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ গুলিতে হবে. মঙ্গলবারে মস্কো শহরে "রাশিয়ার গ্যাস" নামক সম্মেলনে বিশ্বের এই ধরনের কোম্পানী গুলির নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন.

এটা রাশিয়ার জন্য নতুন আহ্বান – যারা বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে এক নম্বর জায়গায় রয়েছে. রাশিয়ার গ্যাস সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট ভালেরি ইয়াজেভ বলেছেন যে, রাশিয়া এই আহ্বানে সাড়া দিতে প্রস্তুত. তিনি বলেছেন:

"রাশিয়ার সমস্ত প্রকল্প গুলিই যথেষ্ট ভরসা যোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী রসদ যোগান দেওয়ার মত পরিস্থিতিতে রয়েছে. রাশিয়ার সরকার কর্ম সূচী নির্ণয় করেছে আগামী ২০৩০ সালে বছরে সর্বমোট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্পাদনের পরিমান এক ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার করার মতো অবস্থায় থাকার".

তুলনা করা যেতে পারে যে, ২০৩০ সালে ইউরোপীয় সংঘ নির্ণয় করেছে যে, তাদের মোট গ্যাসের চাহিদা হবে ১৬৫ বিলিয়ন কিউবিক মিটার বছরে, চীনের চাহিদা হবে বছরে ২২০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার. এই সম্মেলনে আরও ঘোষণা করা হয়েছে যে, নভেম্বর মাসে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে রাশিয়া থেকে পূর্ব দিকে চীনে প্রথম গ্যাস সরবরাহের পাইপ লাইন বসানো নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে. রাশিয়া থেকে প্রতিবেশী দেশ চীনে গ্যাস পাঠানো নিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এর মধ্যেই হয়ে গিয়েছে, এখন শুধু আলোচনার বিষয় হল দাম সংক্রান্ত সূচক গুলিকে নিয়ে. সম্মেলনে আরও বলা হয়েছে যে, রাশিয়ার গ্যাসের জন্য বৃহত্তম বিদেশের বাজার রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে. তারা এর মধ্যেই "সাখালিন – ২" প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্রের বেশীর ভাগ অংশে চুক্তি করেছে, আর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের কয়েক দিন আগের সফরের পরে সিওল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য রাশিয়ার গ্যাস আমদানী করার জন্য পরিমান আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে.

পূর্ব দিকের প্রকল্প গুলি ও তার মধ্যে সাখালিন অঞ্চলের নূতন গ্যাস উত্পাদন কেন্দ্র গুলির ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প রাশিয়া ইউরোপের সহকর্মী দেশ গুলিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে করবে. মস্কোর প্রধান নীতি পাল্টায় নি – নিজেদের গ্যাসের বাজারকে বহুমুখী করা ও ভরসা যোগ্য সহকর্মী দেশ হিসাবে নিজেদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা. এই কথা বলেছেন গাজপ্রম কোম্পানীর সহ সভাপতি আলেকজান্ডার মেদভেদেভ, তিনি আরও বলেছেন:

"আমরা বিশ্বাস করি যে, গাজপ্রম, যে দুটি বৃহত্তম প্রকল্প রূপায়নে ব্যস্ত, "উত্তর ও দক্ষিণ প্রবাহ", তা রাশিয়ার গ্যাসকে ভরসা যোগ্য ভাবে নমনীয় নীতি মেনে আরও বেশী পরিমানে গ্রাহকদের কাছে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে. ইউরোপের প্রয়োজন নির্বাধ গ্যাস সরবরাহ, আর রাশিয়ার প্রয়োজন স্থিতিশীল চাহিদা".

এই সূত্রে গাজপ্রম কোম্পানীর এই উচ্চ পদস্থ কর্মচারী আবারও ইউরোপের সমস্ত সহকর্মী দেশকে রাশিয়ার সঙ্গে গ্যাস সংক্রান্ত ব্যবসাকে সব চেয়ে বেশী করে রাজনীতি মুক্ত করতে বলেছেন. অংশতঃ, বুঝতে বলেছেন যে, যতই মিথ্যা ধারণা প্রচার করা হোক না কেন, রাশিয়ার "দক্ষিণ প্রবাহ" ইউরোপীয় সংঘের "নাবুক্কো" প্রকল্পের প্রতিরোধে তৈরী করা হচ্ছে না. তিনি বলেছেন:

"আমরা এই প্রকল্প গুলিকে প্রতিযোগী বলে মনে করি না, তার ওপরের একে অপরের বদলে বলে তো মনেই করি না. "দক্ষিণ প্রবাহ" - এটা প্রথমতঃ রাশিয়ার গ্যাসকে বহু পথে ইউরোপের গ্রাহকদের কাছে ভরসা যোগ্য ভান্ডার থেকে সরবরাহ করার জন্য একটি পথ মাত্র. এর কারণই হল ক্রমবর্ধমান চাহিদার উপযুক্ত যোগান দেওয়া. "নাবুক্কো" প্রকল্প তৈরী হচ্ছে, একেবারেই অন্য উত্স এর উপর নির্ভর করে. সেই উত্স এর সমস্ত এখনও সঠিক ভাবে নির্দিষ্ট করা হয় নি, আর তার খোঁজও খুব একটা স্থিতিশীল অঞ্চলে করা হচ্ছে না".

"দক্ষিণ প্রবাহের" সারা ইউরোপের প্রকল্প হওয়ার খুবই সম্ভাবনা রয়েছে. এই পাইপ লাইন বসানোর কথা রয়েছে প্রায় দশটি দেশের মধ্যে দিয়ে, তাই এটিকে সারা ইউরোপের বলা যেতে পারে. আর সব মিলিয়ে এই সব দেশের সংখ্যা মনে হচ্ছে বাড়বে আরও.