চীনে এই বছরে এক্সপো – ২০১০ হওয়ার সময়ে একটি নতুন জনপ্রিয় নাম চীনা ভাষায় তৈরী হয়েছে শিবো – বিশ্ব প্রদর্শনী. এই বছরে প্রায় তিরিশ হাজারেরও বেশী সদ্যজাত শিশুর নামকরণ করা হয়েছে চীন দেশে এই নাম দিয়ে. এখন কৌতুহলের বিষয় হল রাশিয়ার সদ্যজাত শিশুদের নাম তাদের বাবা মায়েরা কি রাখবে, যদি ২০২০ সালের বিশ্ব প্রদর্শনী রাশিয়াতে আয়োজন করা হয়? রাশিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে প্রতিযোগিতা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন দেশ ও অস্ট্রেলিয়া. রাশিয়া কি বিশ্ব সার্বজনীন প্রদর্শনী আয়োজন করার জন্য তৈরী আছে, আর পারবে কি ২০১০ সালের সাংহাই বিশ্ব প্রদর্শনীর সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে?

সাংহাইয়ের প্রদর্শনী তার বিশালত্ব, অংশগ্রহণকারী দেশগুলির সংখ্যা ও প্রদর্শনী দেখতে আসা লোকেদের সংখ্যায় সর্বকালের সেরা রেকর্ড করেছে. চীন এই প্রদর্শনীর আয়োজন করার জন্য ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের আয়োজনের চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ খরচ করেছে. প্রায় একশটি দেশ এখানে নিজেদের থিম মণ্ডপ তৈরী করেছে, যেখানে তারা এই একস্পো উপলক্ষে দেওয়া বিষয় ভাল শহর – ভাল জীবন কে তুলে ধরতে চেয়েছে. প্রতিদিন স্বর্গ তলের দেশ চীনের বহু সহস্র লোক এই প্রদর্শনী দেখতে পাওয়ার জন্য বহু কিলোমিটার জুড়ে লম্বা লাইন দিয়েছে. এই প্রদর্শনীতে সব মিলিয়ে এসেছে প্রায় সাত কোটি তিরিশ লক্ষেরও বেশী লোক.

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই রেকর্ড ভাঙতে পারা অন্য কোন দেশ বোধহয় পারবে না. চীন নিজেদের জন্য খুবই ভাল এক বিষয় বেছে নিয়েছে – শহরের উন্নতি. বর্তমানের বিশ্বে শহর গুলিতে প্রায় অর্ধেক লোকই থাকেন, আর ভবিষ্যতে তা আরও বেশী হবে.

রাশিয়া ২০২০ সালের এক্সপো আয়োজনের জন্য যে বিষয়টি প্রস্তাব করতে চেয়েছে, তা সকলের জন্যই আগ্রহের হতে পারে – তা অংশগ্রহণকারী বা দর্শক যেই হোন না কেন, এই বিষয়ে রাশিয়ার তরফ থেকে সাংহাই প্রদর্শনীতে যিনি দলের নেতৃত্ব ও দেখাশোনা করেছেন, সেই শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের উপমন্ত্রী স্তানিস্লাভ নাউমভ বলেছেন:

"যে বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি তা হল চলমান মানুষ. এই প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে শারীরিক ও পরিবহন ব্যবহার করে চলার কথা. তার সঙ্গে থাকছে তথ্য সম্প্রচার ও আমদের দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক গতির কথা. আমরা দেখাতে চাই সেই মানুষকে, যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা পেয়ে শুধু নিজের শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ভাবে বাঁচে না, বরং সারা দেশের মধ্যেই চলমান অবস্থায় বাঁচে. এটাই আমাদের মূল বিষয়, যা আমরা প্রস্তাব করে দেখতে চাই. মনে করি যে, এটা অনেকের জন্যই আগ্রহজনক হবে".

এক্সপো ২০২০ আয়োজনের জন্য প্রতিযোগিতা ও তাতে সাফল্য লাভের আশা রাশিয়ার হয়েছে সাংহাই প্রদর্শনীতে সাফল্যের কারণে. ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার জাতীয় মণ্ডপ তৈরী করা হয়েছিল. রাশিয়ার মণ্ডপের মূল বিষয় ছিল – সেই শহরই সবচেয়ে ভাল – যেখানে শিশুরা ভাল থাকে. চানের লোকেদের দেখানো হয়েছে এক বিস্ময়কর রূপকথার বিশ্ব. তার অল্পবয়সী বাসিন্দারা গল্প করেছে রাশিয়ার বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক উদ্ভাবন, যা শক্তি, ন্যানো টেকনোলজি, চিকিত্সা বিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে হয়েছে. রাশিয়ার মণ্ডপে প্রায় সত্তর লক্ষেরও বেশী লোক এসেছেন. আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজক সংস্থার বিচারকেরা রাশিয়ার মণ্ডপকে বিষয়ের সবচেয়ে ভাল প্রকাশ বিভাগে রৌপ্য পদক দিয়ে স্বীকৃতি দিয়েছে.

স্তানিস্লাভ নাউমভ উল্লেখ করেছেন যে, "এর পরে আমাদের উচিত্ হবে এক্সপো – ২০২০ র জন্য আবেদন প্রস্তাব তৈরী করা. এর মধ্যেই রাশিয়ার বৃহত্তম শহরগুলি থেকে নির্দিষ্ট প্রস্তাব করা হয়েছে:  নিজেদের তরফ থেকে উদ্যোগ নিয়েছেন সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রশাসন, নিঝনি নভগোরদ ও ক্রাসনোইয়ারস্ক শহরের প্রশাসন".

    কেন দেশ গুলি এই প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য প্রতিযোগিতা করতে যায়, তার উত্তরে স্তানিস্লাভ নাউমভ বলেছেন যে, "এটা শুধু দেশের সম্মান বৃদ্ধিই করে না, বরং অনেক লাভজনক বিষয়. সাংহাই শহরের ও নিকটবর্তী এলাকার পর্যটন দপ্তরের আয় হয়েছে বিশ্ব প্রদর্শনীর কারণে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী".

মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, গত ১৫০ বছর ধরে চলে আসা এই বিশ্ব প্রদর্শনী কখনও রাশিয়াতে হয় নি. প্রথমবার এই বিশ্ব প্রদর্শনীর আয়োজক হওয়ার জন্য প্রচেষ্টা সফল হয় নি. তখন প্রাধান্য পেয়েছিল সেই সাংহাই. যদি দ্বিতীয় প্রচেষ্টা সফল হয়, তবে এক্সপো ২০২০ ভ্লাদিভস্তকে ২০১২ সালে হতে যাওয়া এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ বৈঠকের মত বা ২০১৩ সালে কাজানে হতে যাওয়া ইউনিভার্সিয়াড অথবা ২০১৪ সালের সোচী শীত অলিম্পিকের মত বড় ঘটনা হবে.