রাশিয়া, ভারত ও চীন তিন দেশের উদ্ভাবনী কেন্দ্র গুলির মধ্যে যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে চুক্তি করেছে. চীনের উখান শহরে রাশিয়া, ভারত ও চীনের ত্রৈদেশীয় রিক সংস্থার বৈঠকের পর এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ. মস্কো নিউ দিল্লী ও বেইজিং এর অন্য একটি সম্মিলিত বিষয়, যা এই দেশ গুলির পারস্পরিক সহযোগিতার অংশ হবে, তা হল এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা. চীন থেকে এই বিষয়ে বিশদ করে খবর দিয়েছেন রেডিও কোম্পানী রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধি এলিজাভেতা ইসাকোভা.

    রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানের মতে বর্তমানে রিক সংস্থা বিশ্ব শান্তি রক্ষার কাঠামো তৈরীর প্রয়াসে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বলে সমর্থিত হয়েছে. শুধুমাত্র বিশ্ব সম্পর্কিত বহু বিষয়ে তিনটি দেশের দৃষ্টিকোণের মিল আছে বলেই নয়, বাস্তবে মস্কো, নিউ দিল্লী ও বেইজিং এর পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে প্রতি বছরেই সাধারন লোকেদের আরও বেশী করে সুফল লাভ হচ্ছে. সেই কারণেই বর্তমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের দশম বৈঠকে রাশিয়া, ভারত ও চীনের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হয়েছে তিনটি দেশের মধ্যে সহযোগিতার দিক গুলিকে আরও বহুমুখী ও সুদূর প্রসারিত করার. এখন থেকে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, কৃষি উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় সংক্রান্ত বিষয় গুলিই শুধু দ্রুত আলাদা করে আলোচিত হবে না. গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলির তালিকায় যুক্ত হয়েছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার নিরাপত্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিও.

    রেডিও রাশিয়াকে পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ বলেছেন: "ভারতে ও চীনে যে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কেন্দ্র গুলি রয়েছে ও রাশিয়াতে যা বর্তমানে তৈরী হচ্ছে, সেগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে". তিনি আরও যোগ করেছেন:

    "কথাবার্তা হচ্ছে পেশাদার লোকেদের মধ্যে. তাঁরা আলোচনা করছেন প্রযুক্তিগত দিক গুলি নিয়ে, যা প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সেই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত. এই সবই করা হচ্ছে অভিজ্ঞতা এবং আগের কাজের উপরে ভিত্তি করে. বিপর্যয় নিরোধ এবং নিরসনের বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে. সুতরাং আমাদের সহযোগিতা, অবশ্যই, পারস্পরিক ক্ষেত্রে কাজে লাগবে ও এক্ষেত্রে দেখা হচ্ছে, সমস্ত রকমের পরিস্থিতিই, যখন অতি দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন – যেমন, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, যান্ত্রিক কারণে বিপর্যয় ইত্যাদি".

    রিক সংস্থার কাঠামোর মধ্যে পরবর্তী বৈঠক হবে ২০১১ সালে রাশিয়াতে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানের কথামতো, এই সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তিনটি দেশের সহযোগিতায় অনেক গুলি অনুষ্ঠানের. যেমন, অংশতঃ, রাশিয়ার মধ্যে এক ব্যবসায়ী দের সম্মেলনে স্বাস্থ্য সংরক্ষণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে.

    একই সময়ে মন্ত্রীরা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, দেশগুলির পারস্পরিক সক্রিয়তা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে আরও বৃদ্ধি করতে হবে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান ঘোষণা করেছেন যে, "বর্তমানের বৈঠক হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষার কাজের জন্য আরও আধুনিক এবং নূতন কাঠামো তৈরী করা হচ্ছে. এই কাজের জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মিলিত উদ্যোগ. এখানে শূণ্য ফল দেবে এমন কোন খেলা হতে পারে না". নিজের পক্ষ থেকে চীনের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান ইয়ান শ্জেচি উল্লেখ করেছেন যে, "এই অঞ্চলের সমস্ত সমস্যার সমাধান সূত্র খোঁজ করা উচিত্ হবে শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই, কোন রকমের শক্তি প্রয়োগ করে নয়". এই প্রসঙ্গে আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে বহু ধরনের বিভিন্ন পক্ষের আন্তর্জাতিক কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা করার ও রিক এদের মধ্যে একটি অন্যতম সম্ভাবনাময় কাঠামো. এই বেসরকারি জোটে রাশিয়া, ভারত ও চীন তিনটি দেশই সত্যিকারের বাস্তব শক্তি, যারা বিশ্বের প্রক্রিয়াতে যথেষ্ট রকমের প্রভাব ফেলতে পারে.