আগামী ১৫ নভেম্বর চীনের উহান নগরীতে রাশিয়া,ভারত ও চীনের(আরইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচিতে স্থান পাচ্ছে.

বৈঠকে অংশ নিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ ইতিমধ্যে উহান নগরে পৌঁছেছেন.ল্যাভরোভ তার সহর্মীদের সাথে প্রাকৃতিক দূর্যোগ মেকাবিলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে.

 এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা যা এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে রাশিয়া-চীন মিলিত কার্যক্রমের নীতিমালার অন্তর্গত থেকেই অনুষ্ঠিত হবে.চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেবের চীন সফরের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তে বলা হয় যে,এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলভুক্ত প্রতিটি দেশকে অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে.এই অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংঘর্ষের সংখ্যা যা স্বভাবতই বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে উত্কন্ঠা তৈরী করে.সংগত কারণেই রাশিয়া,ভারত ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রের বিভিন্ন দিক পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করবেন এবং তা যদি  সম্ভব হয় তাহলে এই বৈঠক স্বার্থক হয়েছে বলেই ধরা হবে,এমন মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ভালোদিন.তিনি বলেন-মূলত চীনের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রশক্তিকে জটিল বিশ্বস্থ বলে ভারতের আমলাদের বিবৃতি দেওয়ার থেকেই শেষ পর্যন্ত  তিন জাতি পর্যায়ের এই বৈঠকের কার্যকারিতা নির্ভর করবে.যদি এই পরিসীমায় পরিবর্তন আসে এবং  তা যদি বস্তুত কোন প্রভাব না ফেলা তা হলে  আমরা বলতে পারি যে-রাশিয়া,ভারত ও চীন এই তিন জাতি সম্মিলিতভাবে এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারবে.আন্দ্রেই ভালোদিন অনেকটা আত্ববিশ্বাষের সাথে বললেন.

তিন জাতির মন্ত্রীপর্যায়ের এই বৈঠকে অন্য যে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে তা কার্যকরী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রশ্নাবলী.যদিও তা মানুষের সাধারন জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়.রাশিয়া সবাইকেই নানা ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগে উদ্ধার তত্পরতার কাজে সাহায্য করেছে.এই প্রশ্নে মস্কোর রয়েছে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা.বিভিন্ন সময় রাশিয়া তার এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জন্য মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছে এবং চীনের সিচুয়ান প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও ভারতে কয়্কেটি বন্যায় হতাহতদের উদ্ধার কাজে সহায়তা করেছে.বর্তমানে জলবায় পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মেকাবেলা ইত্যাদি বিষয়সমূহ বেশি গূরুত্ব পাচ্ছে.বর্তমান গ্রীষ্ম মৌসূমে তা সব রাশিয়াবাসী উপলব্ধি করেছে.

রাশিয়া,ভারত ও চীনের(আরইসি) মন্ত্রী পর্যায়ের সাক্ষাত্কারের অংশ হিসাবে ভারতের রাজধানীতে জরুরি নিরাপত্তা পরিস্থিতি  নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে.এই বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রকল্প গ্রহন করা হবে যা আগামী ২০১১ সালে কার্যকর হবে যখন রাশিয়ায় আরইসি’র শীর্ষনেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে.