পাকিস্থানের বৃহত্তম শহর করাচীতে নতুন সন্ত্রাসবাদী হানা, যার দায়িত্ব পাকিস্থানের তালিবেরা নিয়েছে, নিষ্ঠুরতা ও পরিব্যপ্তির দিক থেকে সকলকেই চমকে দিয়েছে. এক বিশাল বিস্ফোরণে পুলিশের দুই তলা বাড়ী সম্পূর্ণ ভাবে ভিত পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, দুই কিলোমিটার ব্যাসার্দ্ধের মধ্যে থাকা সব কটি বাড়ী ঘরই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে. মৃতদের সংখ্যা প্রায় ২০.

    আরও একটি বিষয় আশংকার কারণ হয়েছে. করাচী বন্দর শহরটি সমুদ্র তীরে, তালিব বিদ্রোহীদের প্রধান ঘাঁটি থেকে অনেক দূরে, তারা আছে দেশের উত্তর পশ্চিমে পাহাড়ের উপরে. এর মানে তাহলে কি হল – পাকিস্থানের তালিবেরা কি তাদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে? তারা এবারে কি লক্ষ্য সামনে রেখেছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ. তিনি বলেছেন:

    "পাকিস্থানের তালিব বিদ্রোহীরা অনেকের কাছেই আফগানিস্থানের তালিবদের মতই. আসলে কিন্তু তারা দল হিসাবে মোল্লা ওমারের অধীনে নেই, যাকে আফগানিস্থানের তালিবদের ধর্ম গুরু বলা হয়ে থাকে. গত বছরের আগষ্ট মাসে যখন পাকিস্থানের তালিবদের নেতা বেইতুল্লা মেহসুদ নিহত হয়েছিল আমেরিকার ড্রোন আক্রমণে, তখন মোল্লা ওমার চেয়েছিলেন পাকিস্থানের তালিবদের নেতৃত্ব দিতে, কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হয় নি. পাকিস্থানের তালিবদের নেতা হয়েছে মেহসুদের ভাই.

    পাকিস্থান ও আফগানিস্থানের তালিবেরা একই ধরনের লক্ষ্য নিয়ে চলছে. তারা চায় অধিকৃত অঞ্চলে শরিয়তের আইন চালু করতে, বিদেশী সেনাবাহিনীকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে, যারা আফগানিস্থানে আজ বসে রয়েছে. কিন্তু তাদের মধ্যে তফাত আছে, আফগানিস্থানের তালিবদের মতো তারা সারা দেশে নিজেদের শাসন বিস্তার করতে চাইছে না. তাদের সেরকম শক্তি নেই, যা আফগানিস্থানের তালিবদের রয়েছে. এই দিক থেকে দেখলে তাদের বলা যেতে পারে আফগানিস্থানের তালিবদের ছোট ভাই. আফগানিস্থানের সেনাবাহিনীর চেয়ে বেশী শক্তিশালী ও সু পরিচালিত পাকিস্থানের সেনা বাহিনী পাকিস্থানের তালিবদের সঙ্গে মোকাবিলা ভালই করছে. পাকিস্থানের তালিবদের প্রধান লক্ষ্য পুস্তুন প্রজাতি অধিকৃত দেশের উত্তর পশ্চিমের এলাকাতে নিজেদের শাসন বিস্তার করা. কিন্তু বিগত কিছু কাল ধরে পাকিস্থানের সরকারের প্রতি নিজেদের বিরোধের ক্ষেত্রে তালিবেরা সক্রিয় হয়েছে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও. অংশতঃ এই বিষয়েই প্রমাণ দিচ্ছে করাচী শহরে সন্ত্রাস. তা হঠাত্ করাচী কেন? এক কথায় এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন, কিন্তু মনে করা যেতে পারে যে, পাকিস্থানের তালিবদের একটি লক্ষ্য ছিল আফগানিস্থানের মাটি থেকে আমেরিকার সেনা বাহিনীকে হঠানোর জন্য সম্মিলিত সংগ্রাম. তারা একসঙ্গে সেনা বাহিনীর রসদ নিয়ে যাওয়া গাড়ীর সারির উপরে আক্রমণ চালাচ্ছে, যে গুলি করাচী বন্দর থেকে মার্কিন সেনা বাহিনীর জন্য মাল নিয়ে আফগানিস্থান চলেছে, সেগুলির উপরে".

    সংবাদ মাধ্যমে অনেকবারই খবর এসেছিল যে, পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ দপ্তরের লোকেদের সঙ্গে তালিবদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে, এই বিষয়ে বহুবারই স্ক্যাণ্ডাল হয়েছে, এমনকি আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্থানের সম্পর্কও জটিল হয়েছে, তারপর ধীরে হলেও এই সব বিষয় স্তিমিত হয়েছে. এই বিষয়ে আপনি কি বলতে পারেন?

    "পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর নীচু পদের অফিসারদের মধ্যে তালিবদের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে, কারণ তারা একই ধর্ম মতের লোক বলে, তারা তালিবদের ধর্ম ভাই বলে থাকে. রাওয়ালপিন্ডি শহরে, যেখানে পাকিস্থানের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানের কিছুদিন আগের সন্ত্রাসবাদের হানা এই সব সামরিক বাহিনীর লোকেদের সাহায্য ছাড়া হতেই পারত না. আর তালিবদের সঙ্গে পাকিস্থানের গুপ্তচর বাহিনীর যোগাযোগ তো মনে করা হয় প্রমাণিত সত্য. এই প্রসঙ্গে তাদের মধ্যে যোগাযোগের চরিত্র, কম করে বললে বলা যেতে পারে একই ধরনের নয়. এই সবই খুব বিপজ্জনক – প্রাথমিক ভাবে পাকিস্থানের জন্যই".