১৩ই নভেম্বর – জাপানের ইয়োকোহামা শহরে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ বৈঠকের প্রথম দিন. এই বৈঠকের অংশীদার আঞ্চলিক ২১টিঅর্থনীতির নেতাদের জন্য এক স্বর্ণ বর্ণ মত্স সমৃদ্ধ কৃত্রিম পুষ্করিণীর চারপাশে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে. এই পুষ্করিণী টোকিও উপসাগরের তীরে এক হোটেলের ভিতরে করা হয়েছে, যেটি এক বিশাল পালের মত দেখতে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির ডান দিকে রয়েছেন ফিলিপাইনসের রাষ্ট্রপতি বেনিগ্নো আকিনো এবং বাম দিকে রয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়ান লুন.

    এই রকম এক মন্থর প্রাকৃতিক রূপ কিন্তু গভীর উত্তেজক আলোচনার পরিবেশকে পাল্টে দিতে পারে নি. সে গুলি একসাথে যোগ করা হয়েছে সম্মিলিত বিষয় – পরিবর্তন ও কর্মসূচীর মধ্যে. এখানে আলোচনা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের পরিনামকে অতিক্রম করার সমস্যা, বহু পাক্ষিক বাণিজ্যকে সাহায্য করার পথ, অর্থনৈতিক সমাকলনকে গভীর করার উপায়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বৃদ্ধির উপায় ও তার মধ্যে খাদ্য ও জ্বালানী সংক্রান্ত নিরাপত্তাকে যুক্ত করার বিষয় নিয়ে. রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এই সমস্ত প্রশ্নে রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে বক্তৃতা দেবেন বলে উল্লেখ করেছেন তাঁর সহকারী সের্গেই প্রিখোদকো. তিনি অংশতঃ রাশিয়ার পক্ষ থেকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলির প্রশাসন ও নেতাদের শক্তি প্রয়োগে নিজেদের যোগদানের কথা বলবেন, যাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে সঙ্কটের ঘটনা গুলিকে অতিক্রম করা ও পরবর্তী কালে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার ব্যবস্থা করা যায়.

    এই ফোরামের একটি প্রধান কাজ হল – বোগোর অধিবেশনের লক্ষ্য পূরণের দিকে অগ্রগতি সম্বন্ধে ঘোষণা গ্রহণ করা. ১৬ বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের এই বন্দর শহরে পরিকল্পনা করা হয়েছিল অবাধ বাণিজ্য অঞ্চল সৃষ্টি করার. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার উন্নত দেশগুলির জন্য এই অঞ্চল ঘোষণা করার কথা ছিল ২০১০ সালে, আর উন্নতিশীল দেশগুলির জন্য ২০২০ সালে. এই পরিকল্পনা বাস্তব করার বিষয়ে সমস্যা গুলি সম্বন্ধে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের উপ প্রধান আন্দ্রেই অস্ত্রোভস্কি বলেছেন:

    "এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলির অর্থনীতির উন্নতির গতি বিধি বিভিন্ন, তাই উন্নতি সংক্রান্ত পরিকল্পনা যা ১৯৯৪ সালে বোগোর শহরে নেওয়া হয়েছিল বা ১৯৯৫ সালে ওসাকা শহরে নেওয়া হয়েছিল অবাধ বাণিজ্য অঞ্চল হিসাবে এলাকাকে ঘোষণা করা, তা কার্যকরী করা সম্ভব হয় নি ও তা শেষ হতে অনেক দেরী আছে. সকলের জন্যই নিয়মাবলী হওয়া দরকার একই রকমের, কিন্তু তারই মধ্যে নানা ধরনের স্বার্থের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা সম্মিলিত ভাবে পরিকল্পনা নেওয়ার বিষয়ে প্রায়ই অসুবিধার সৃষ্টি করে".

    ইয়োকোহামা শহরের শীর্ষ বৈঠকে এই গোলকধাঁধা থেকে বেরোনোর পথ খোঁজা হবে. তা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী সের্গেই কুদরিন সাবধান করে দিয়ে উল্লেখ করেছেন:

    "এর ফলে দেশ গুলি প্রতিরোধ করার নানা রকমের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে, তার মধ্যে থাকতে পারে শুল্ক বিষয়ে ব্যবস্থা এবং নিজেদের দেশের বাজারকে আমদানী করা দ্রব্য থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা. অর্থাত্ আমরা দেখব যে, নতুনভাবে সংরক্ষণশীলতার প্লাবন বইতে শুরু করছে, তাই আমাদের সকলকে খুঁজে পেতে হবে এক পায়ে চলার পথ, যে পথে একে অপরের স্বার্থকে বেশী রকম ভাবে ক্ষুণ্ণ না করে ভারসাম্যকে নষ্ট হতে না দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারি, সকলে মিলে একসাথে. এক দেশের স্বার্থের হানি করে অন্যদেশের লাভ হতে দেওয়া যেতে পারে না".

    এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহায়ক সের্গেই প্রিখোদকো বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া অবিরত ভাবে জোর দিয়ে চলেছে অর্থনৈতিক সমাকলন প্রক্রিয়ার মধ্যে সকলের জন্য সমানাধিকার ও স্বার্থের সুরক্ষা করতে হবে অবাধ বাণিজ্য এলাকা ঘোষণার আগে. তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, মস্কো তৈরী রয়েছে ইয়োকোহামা শহরে বাণিজ্য বিষয়ে বন্ধন মুক্তি বিষয়ে সাহায্য করার সম্বন্ধে আলোচনার জন্য. রাশিয়ার এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলির মধ্যে নিজেদের স্বার্থ কি রকম, তা রাশিয়ার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের বিষয়ে উত্সাহ সংরক্ষণ ও প্রাথমিক কর্মসূচী হিসাবে গ্রহণ করাতেই লক্ষ্যনীয়.