বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট শেষ হয়েছে, বিশ্ব বিনিময় মুদ্রাগুলির যুদ্ধের আশংকা খুবই কম. সিওলের জি ২০ শীর্ষবৈঠকে এই রকমের ফল হয়েছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এই বৈঠকের ফলে খুশী থাকতে পেরেছেন.

   ভয় ছিল যে, সঙ্কটের পরে দেশ গুলি নিজেদের মধ্যে চুক্তি করার বিষয়ে কম ইচ্ছা প্রকাশ করবে, কিন্তু তা এবারে প্রমাণিত হয় নি. এই কুড়িটি অর্থনৈতিক ভাবে বড় দেশের প্রতিনিধিরা একই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার বিষয় সমর্থন করেছেন. সিওলে গৃহীত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যতের দিকে আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকার ভিত্তি দিয়েছে, বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেথ করেছেন:

   “একই ধরণের অবস্থান, যা এই বৈঠকে গৃহীত হয়েছে, তা আবার দেখিয়ে দিয়েছে যে, পূঁজি সঞ্চয়ের জন্য বিনিময় মুদ্রা যারা বিশ্বকে দেয় ও যে সব দেশের জাতীয় মুদ্রা স্বাভাবিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ, তারা সকলেই একে অপরকে মনোযোগ দিয়ে শুনবার জন্য তৈরী এবং বিনিময় মুদ্রার হার নিয়ে যাতে কোন রকমের গোলমাল বাঁধানো না হয়, তার জন্য নিজেদের কাজকর্মের বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রেথেই করতে চায়. এটি এই শীর্ষ বৈঠকের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল”.

   অবশ্যই এটা ঠিক নয় যে, সমস্ত সমস্যা একবারে ও চিরদিনের জন্য সমাধান করতে পারা গিয়েছে. কিন্তু যতদিন পর্যন্ত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি গুলির নেতৃত্ব নিজেদের কাজ কর্ম একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে করবেন, ততদিন বিশ্বের বিনিময় মুদ্রা গুলির মধ্যে যুদ্ধের আশংকা খুবই কম. দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশ্বাস করেন যে, সিওল শীর্ষ বৈঠকের শেষে এই সম্ভাবনা অন্ততঃ একেবারেই সামান্য হয়েছে.

   বিনিময় মুদ্রার হার অতিরিক্ত রকমের নামা ওঠা না করার বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখার দায়িত্ব বড় কুড়িটি দেশের নেতারা সিওল শীর্ষবৈঠকের শেষে প্রকাশিত দলিলে সর্ব সম্মতি ক্রমে স্বাক্ষর করেছেন. তাঁরা একমত হয়েছেন যে, প্রতিযোগিতা করে নিজেদের দেশের মুদ্রার দাম কমানো থেকে তাঁরা দূরে থাকবেন ও বেশী করে নির্ভর করবেন বিশ্বের বাজার দরের উপরে. এই বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান সম্পূর্ণ ভাবে একই রকম ও তাই সাংবাদিকদের রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী আর্কাদি ভরকোভিচ বলেছেন:

   “শীর্ষ বৈঠকের শেষে প্রকাশিত দলিলে রাশিয়ার অবস্থান সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যে বিষয়ে আমরা খুবই খুশী. এই অবস্থান হল – বিনিময় মুদ্রার হার স্থির করার ক্ষেত্রে কাজকর্ম করা হবে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে. এক তরফা কোন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত হতে হবে, যার ফলে খুব বেশী রকমের বিপদের আশংকা হতে পারে. এই ফলাফল সমেত দলিলের বিভিন্ন জায়গায় খুবই নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে যে, কৃত্রিম ভাবে কোন রকমের দর কমানো থেকে বিরত হতে হবে”.

   একই সময়ে দেশের আসল মুদ্রার দামের চেয়ে কম করা, যে বিষয়ে কিছু দেশ চীনকে অভিযোগ করেছিল, তা এই শীর্ষ বৈঠকে ঠিক করা হয়েছিল আলোচনা না করার. যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে তাদের দেশের বাজারে প্রচুর পরিমানে কাঁচা টাকা ছাড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও কিছু বলা হয় নি. আগামী বছরের প্রথমার্ধে বসবে জি ২০ দেশগুলির অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের শীর্ষ বৈঠক. তাঁরা বিনিয়োগের বাজারে স্থিতি আনার জন্য প্রয়োজনীয় সূচক গুলি সম্বন্ধে প্রস্তাব বিচার করবেন. সেখানে অবশ্য জোর করে কৃত্রিম ভাবে জাতীয় মুদ্রার দাম কমানো বা “টাকা ছাপার” যন্ত্রের বিরতিহীণ কাজের সমালোচনায় কোন বাধা থাকবে না.

পরের বার জি ২০ দেশের নেতারা ফ্রান্সে মিলিত হবেন. কিন্তু এটা আর ছয় মাস বাদেই হবে না, যা বিগত কিছু সময় ধরে করা হয়েছে, হবে এক বছর পরে. সঙ্কট শেষ হয়েছে, তাই খুবই নিয়মিত সাক্ষাত্ করার বা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে. সুতরাং “কুড়িটি” দেশের শীর্ষ বৈঠকের আরও একটি ফল হল বিশ্ব যে সঙ্কট কাটিয়ে পরবর্তী কালে প্রবেশ করেছে, সেই বিষয়ে একটি সকলের সমর্থন পাওয়া.