করাচীতে সন্ত্রাসের ঘটনার আয়োজকদের পাকিস্থানের গুপ্তচর বাহিনী খুঁজছে. বৃহস্পতিবারে শহরের অভিজাত এলাকায় পুলিশের অপরাধ অনুসন্ধান দপ্তরের খুবই সুরক্ষিত বাড়ী গুলির সামনে একটি বোমা ভর্তি মালবাহী গাড়ী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তারা.

   এই বিস্ফোরণের ঘটনায় ২০ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, ১০০ জনেরও বেশী আহত. দেশের ইতিহাসে গতকালের সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড একটি বৃহত্তম ঘটনা. এই সন্ত্রাসের দায়িত্ব নিজেদের উপর নিয়েছে পাকিস্থানের তালিব আন্দোলনের দল “তেহরিক ই তালিবান পাকিস্থান”, ঘটনার সম্বন্ধে “রেডিও রাশিয়া”কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকভ এই কথা উল্লেখ করে বলেছেন:

   “বাস্তবে প্রতি সপ্তাহেই পাকিস্থানের কোন না কোন শহরে আর বিশেষ করে করাচীতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ হচ্ছে. রাষ্ট্রপতি জারদারীর সরকার আপাততঃ এই সন্ত্রাসের ক্রমবর্ধমান প্লাবন বা হিংসার মোকাবিলা করার মত পরিস্থিতিতে নেই. কারণ হল, অর্থ, শক্তি বা সম্ভাবনা কোনটাই পাকিস্থানের প্রতুল নয়. এটা প্রথম কারণ. দ্বিতীয় কারণ হল – জারদারী সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না, কারণ পাকিস্থানের প্রশাসনেই, আমি বলতে চাইছি প্রথমতঃ সামরিক গুপ্তচর সংস্থার মধ্যেই “তালিব”দের সঙ্গে সহযোগিতা করার মানসিকতা বেশী করে আছে”.

   এখানে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্থান “তালিব” আন্দোলনের শুরুর দিকে হাত মিলিয়েছিল. এই কথার সত্যতা স্বীকার করেছেন বুধবারে ওয়াশিংটনের অতলান্তিক পরিষদে পাকিস্থানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জেনেরাল পারভেজ মুশারফ. ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্থান একসাথে আফগানিস্থানে সোভিয়েত সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে এই দলকে সহায়তা করেছিল বলে তিনি স্বীকার করেছেন. তাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে গিয়েছিল বিশ্বের সমস্ত মোজাহেদ বিপ্লবীরা. ফলে ১৯৯৬ সালে আফগানিস্থান ছিল বিশ্ব সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর. সুতরাং আজ পাকিস্থান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজেদের রাজনীতির ফলই পাচ্ছে.

   এই অঞ্চলে যুদ্ধের প্রসার করে চরমপন্থীরা চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহকর্মী দেশগুলির জন্য বাড়তি সমস্যা তৈরী করতে ও শেষ অবধি তাদের হঠে যেতে বাধ্য করতে. শুক্রবারে করাচী বিস্ফোরণের বলা যেতে পারে মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই “তালিব” দের ইন্টারনেট সাইটে একটি প্রবন্ধ দেখতে পাওয়া গিয়েছে, যেখানে আফগানিস্থান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে. শেষের ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, আফগানিস্থানে চলা যুদ্ধ প্রতিবেশী দেশের জমিতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ ভাবে বাস্তব হুমকি এবারে দেওয়া হচ্ছে.